শনিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২৩
Online Edition

এতো আত্মহত্যা কেন?

নিশিতা জামান নিহা

কখনো কি আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছে? খুব সম্ভবত ৯৮% মানুষের উত্তর হবে, হ্যাঁ। তাহলে আপনি কেন সে পথ বেছে নেননি? নানা কারণ থাকতে পারে; কারো জন্য তা হয়তো তার প্রিয় মানুষটি, কারো জন্য তার ধর্মীয় বিশ্বাস, কারো জন্য জীবনের কোনো একটা লক্ষ্য, কারো জন্য সুদিনের আশা। সব ছাপিয়ে এভাবে জীবন দেয়া আপনার জন্য হয়তো খুব একটা সহজ না।

পৃথিবীতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে কেউ একজন এই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও এই পথ বেছে নিচ্ছে। তাহলে মানুষ ঠিক কী কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়? ইতালির কবি ও ঔপন্যাসিক সেসার পাভিস এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এভাবে, ‘আত্মহত্যা করার জন্য কারো কারণের অভাব হয় না।’ এক লাইনে বলতে গেলে, তার সামনে যে কয়টি উপায় আছে বেঁচে থাকার, তার থেকে মৃত্যু তার কাছে অধিক বাঞ্ছনীয়। বাস্তব ও কাল্পনিক উভয় ভিত্তি থেকে যার উৎপত্তি ঘটতে পারে। কোন এক গৃহভৃত্য হয়তো অমানুষিক অত্যাচার আর ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে; আবার কেউ সম্পদের সুরক্ষার দুশ্চিন্তায় আত্মহত্যা করে। তবে বর্তমান সময়ে মাদকাসক্ত হয়ে আত্মহত্যার হার বাড়ছে। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে স্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার কথা না বললেই নয়। কে জানে যে সহানুভূতিটুকু সে বেঁচে থেকে পায়নি তা মৃত্যুর মাধ্যমে সে পেতে চায় কিংবা নিউজ পেপারের হেডলাইন হয়ে আলোচনায় আসতে চায়।

চারপাশে চেনাজানা কারো আত্মহত্যার খবরে আঁতকে ওঠেছেন হয়তো আপনিও একবার। সে খবর পেয়ে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে হয়তে জল জমেছে আপনারও। হয়তো আফসোস হয়েছে কেন একটা বার তার বিষণœতার কারণ জানতে চাইনি। শুধু কি তাই! আমাদের কাছে শারীরিক সমস্যা বা ট্যাবু ভেঙে যৌন সমস্যা নিয়ে কেউ আসলেও আমরা তার কথা শুনি; জানা শোনা ডক্টরের ঠিকানা জানাতে ভুলি না। কিন্তু মানসিক সমস্যার কথা বললে ঠিকই তাকে পাগল উপাধি দিয়ে ঠাট্টার পাত্র বানিয়ে দেই। নিজের অজান্তেই সেই মানুষটিকে আত্মহত্যার দিকে একটা ধাক্কা দিয়ে দেই। তাই আমাদের সচেতনতা পারে আত্মহত্যার হার কমাতে। আত্মহত্যার উপকরণ যেমন- ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে এ পদক্ষেপ আত্মহত্যা দৃশ্যমান হারে কমিয়েছে। 

পরিবার একটি শিশুর বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে পারিবারিক সুসম্পর্ক ও সুশিক্ষা পারে একজন মানুষকে এমন পথ বাছাই থেকে দূরে রাখতে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতিব প্রয়োজনীয়। এছাড়াও ধর্মের চর্চা পারে মানুষকে আত্মহননের পথ থেকে দূরে রাখতে। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম- বুখারি ও মুসলিম। এছাড়াও প্রচার মাধ্যমগুলোর সচেতনতা পারে এ বিষয়কে রুখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে। এর পাশাপাশি সমাজ যোগাযোগ মাধ্যমেগুলোর সচেতনতামূলক পদক্ষেপ খুব কার্যকর আত্মহত্যা রুখতে। কেউ এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে তা চিহ্নিত করতে পারলে আটকানো সম্ভব। ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করতে হবে।

আত্মহত্যা জীবনের সবচেয়ে বড় কাপুরুষতার পরিচয়- বলেছিলেন দিগ্বিজয়ী শ্রেষ্ঠ বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। এই পথ থেকে দূরে সরে এসে জীবনের আনন্দ দুঃখ সবকিছুকে ছুয়ে দেখতে হবে। নিজের জীবন থেকে পালিয়ে মুক্তির আশা করাটাই বোকামো। তাই জীবনকে ভালোবেসে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করতেই হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ