রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে ৩ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার: বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর তদন্ত কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করতে হবে দুদককে। অন্যথায় দুদকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হাইকোর্টের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এক আসামীর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করে আদেশ দেন।

এ সময় আদালত আরও বলেন, তদন্ত সঠিক না হলে পৃথিবীর অনেক দেশে তদন্ত কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। দুদককে সঠিকভাবে তার তদন্ত কাজ শেষ করতে হবে।

২০১৫ সালে এই মামলাগুলো করা হয়। কিন্তু তদন্ত কাজ আজও শেষ করতে পারেনি দুদক। এ দীর্ঘ সময়ের কারণে মামলার আলামত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন হাইকোর্ট।

আসামী মোহাম্মদ আলীর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন আদালত।

শুনানিতে আসামীপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন ও মো. জোবায়দুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, প্রায় সাত বছর আগে করা বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী তিন মাসের মধ্যে যথাযথ আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দাখিলের পর উচ্চ আদালতে হলফনামাও দিতে হবে।

তিন মামলায় ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা মোহম্মদ আলীর জামিন প্রশ্নে রুল খারিজ করে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় করা ৫৬টি মামলার মধ্যে ১২টি মামলার আসামী মোহাম্মদ আলী। এর মধ্যে তিন মামলায় তিনি জামিন চেয়েছেন। পরে জামিন শুনানিতে গত ৮ নবেম্বর হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুসারে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় দুই হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ দুই হাজার ৯৯১ টাকা, যা সুদসহ দুই হাজার ৫৯০ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান করে মোট ৫৬টি মামলা করেছে।

এসব মামলায় ৮২ জন ঋণ গ্রহীতা ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফকরুল ইসলাম, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, সাবেক ডিএমডি শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, জিএম এ মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ ২৭ কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা, প্রিন্সিপাল/প্রধান শাখা, দিলকুশা শাখা এবং শান্তিনগর শাখা- এই চারটি শাখার ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে গুলশান থানায় ২৩, মতিঝিল থানায় ১২ ও পল্টন থানায় ২১টিসহ মোট ৫৬টি মামলা করা হয়। মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ জন কর্মকর্তা, ৮২ ব্যবসায়ী ও ১১ বেসরকারি সার্ভেয়ারসহ মোট ১২০ জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন। তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- আত্মসাৎ করা অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্ত করা ও তাদের জবানবন্দি নেওয়া (১৬১ ধারায়) কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এছাড়া সাক্ষীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর ও ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। প্রকৃত আসামী শনাক্তের প্রক্রিয়াটিও এ মামলায় বেশ জটিল। এছাড়া, মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনও পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ