রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

শ্রীবরদীতে ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন কালাম আজাদ

 

মোঃ জাকির হোসেন, শেরপুর সংবাদদাতা : শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার আবুল কালাম আজাদ ৬৭ বছর বয়সে এবার এসএসসি পাস করেছেন জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম হাই স্কুল থেকে চলতি ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ২.৯৫ পেয়ে কৃতকার্য হন। গত সোমবার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোমবার দুপুরে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে এসব তথ্য জানা যায়। জানা গেছে, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার লংগরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ১৯৭৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু সে বছর তাদের বাড়িতে আগুন লেগে সরবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে প্রচন্ড অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে পরিবারটি। অর্থ কষ্ট সামাল দিতে তাকেও কাজে যোেগ দিতে হয়।

ফলে লেখাপড়া আর হয়ে ওঠে না তার। পরে কাজের খোঁজে ঢাকা চলে যান আবুল কালাম আজাদ। সেখানে  রোজগার করে বাড়িতে টাকা পাঠালে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন। কাজের সন্ধানে যাওয়া কালাম বিয়েও করেন ঢাকায় থাকা অবস্থায়। ঢাকায় কাটানোর পর সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য ১৯৯৫ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে কাটান জীবনের আরও ১৮ টি বছর। দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে শুরু করেন পড়াশোনা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম হাই স্কুলে। সেখানে থেকেই দিয়েছেন এবারের এসএসসি পরীক্ষা। পাশও করেন কৃতিত্বের সাথে।

তিনি প্রায় ৮ হাজার গান, কবিতা, ছড়া ও উপন্যাস লিখেছেন। এসব লেখা সংরক্ষণের জন্য ১৭টি বই আকারে বাধাই করে রেখেছেন তনি। আর প্রকাশ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দেশরতœ’ নামে একটি বই। তার বড় ছেলে সামসুদ্দিন মৌলিভীবাজারে একটি কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক, মেজো ছেলে আরিফুল ইসলাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন এবং ছোট ছেলে আনিসুর রহমান গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। শিক্ষার যে কোনো বয়স নেই তা সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সী কালাম জানান,  ছোট ছেলে আমার এসএসসি পাসের খবরটি আমাকে জানান। এই বয়সে এসএসসি পাস করতে পেরে আমার খুব আনন্দ লাগছে পাসকরা আমার জন্য খুব কঠিন ছিলো। তবুও আমি হাল ছাড়িনি, আর হাল ছাড়িনি বলেই পাশ করতে পেরেছি ভালো লাগছে। এই বৃদ্ধ বয়সে পড়ালেখা করাটা পেরেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অধ্যাবসায়ের প্রতি মনোযোগী হওয়া পরামর্শ দেন তিনি। খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া জানান, কালাম চাচার এসএসসি পাসের খবর শুনে আমিসহ এলাকার সবাই ভীষণ খুশি। তিনি এই বয়সে লেখাপড়া করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা সমাজের কাছে অনুসরণ হয়ে থাকবে এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উৎসাহ পাবে তার এই কর্মকান্ডে। তার এই কৃতিত্বের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ