মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০২৩
Online Edition

যশোর বোর্ডে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে মেয়েরা পাসের হার ৯৫.১৭ শতাংশ

খুলনা ব্যুরো : এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খুলনার স্কুলগুলোতে পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবারের পরীক্ষায় খুলনার ৩৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ হাজার ৮০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২৪ হাজার ৪৩৯ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পাসের হারে যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা। প্রথম হয়েছে যশোর জেলা।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৫.১৭ শতাংশ। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৯৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৯২ শিক্ষার্থী। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪৬১। এই সংখ্যা যশোর বোর্ডে রেকর্ড। গত বছরের তুলনায় এবারের জিপিএ-৫ প্রাপ্তি সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এর আগে এসএসসিতে এতো সংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে বোর্ডে পাসের হার কিছুটা বেড়েছে। ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ হাজার ৪৬১ জন। গত বছরের তুলনায় এবার ১৪ হাজার বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। 

এদিকে খুলনায় এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৯৫.৭৫। ঘোষিত ফলাফলে খুশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় খুলনার ৫৮ টি কেন্দ্রের ৩৯০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৮৬৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৫ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ২৪ হাজার ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী। 

শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসির ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান তাই বলছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ২৭৫ জন মেয়ে। আর ১৩ হাজার ৬১৭ জন ছেলে পেয়েছে জিপিএ-৫। পাসের হারেও এগিয়ে মেয়েরা।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র। তিনি বলেন, এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য নানা অপশন থাকায় পাসের হার বেড়েছে। পরীক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে পেরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এ বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০১ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৯৩ জন। গত বছর এই বোর্ড থেকে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪৬১। সে অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এবছর যশোর বোর্ড থেকে ১৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই সাথে পাসের হার ১ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে। 

এদিকে, সকাল থেকে ফল প্রত্যাশীরা তাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিড় করতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১ টার পর থেকেই অনলাইন এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জেনে আনন্দে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। খুলনা জিলা স্কুল, পাবলিক কলেজ, সেন্ট জোসেফ, করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়, যশোর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এমএসটিপি গালর্স স্কুল এন্ড কলেজে ও পুলিশ লাইন স্কুলে বাজনার তালে তালে আনন্দ, নাচ ও হৈ-হুল্লোড়ের পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করে ভালো ফলাফল অর্জন করা শিক্ষার্থী ও স্কুলের শিক্ষকরা। কাঙ্খিত ফলাফলে খুশি শিক্ষার্থীরা। সন্তানের সাফল্যে আনন্দ অশ্রু ঝরেছে অনেক অভিভাবকের। এর উল্টো চিত্রও দেখা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কাঙ্খিত ফল না পেয়ে অনেক পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ