শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

কবিতা

বন্দনা

সায়ীদ আবুবকর

 

সমস্ত প্রশংসা তাঁর, লেপের ভিতর যিনি দিয়েছেন ওম,

আর সন্তানের জন্যে মায়ের শীতল বুকে উলের ঊষ্ণতা; 

পাথরের মতো শক্ত তালের আটির মধ্যে আহা-কি নরম

রেখেছেন মিষ্টি শাঁস, ডাবের ভিতর পানি আর খর¯্রােতা

নদীর হৃদয়জুড়ে উথালপাতাল ঢেউ! তিনি কি-মহান,

করেছেন সৃষ্টি যিনি সমস্ত জীবের মধ্যে ক্ষুধা ও পিপাসা,

দুচোখের মধ্যে জ্যোতি, জিহ্বার ভিতরে স্বাদ ও নাকে সুঘ্রাণ

আর করেছেন মিষ্টি আখের রসের মতো মানুষের ভাষা।

 

সমস্ত প্রশংসা তাঁর, শরীরের মধ্যে যিনি বিপুল সম্পদ

দিয়েছেন ভালবেসে, তার সাথে মহামূল্য একটি হৃদয়;

আত্মার মুক্তির জন্যে সৃষ্টি করেছেন তিনি নবি-মহম্মদ;

নবি না থাকলে কেউ পেতো না আলোর পথ, পূতিগন্ধময়

অন্ধকার জাহান্নাম হতো ঠিকানা সবার। আমি গোনাহগার

রাত্রিদিন জপি মুখে পবিত্র অমৃত নাম আমার ¯্রষ্টার।

 

কার্তিকের চিল 

রবিউল রতন 

 

সেই কবে চলে গেছে 

ধূসর কুয়াশার মেঘে ভেসে দূর সন্ধ্যায় 

পাতার আড়ালে নরম জ্যোৎস্নায় 

কোনো এক কুয়াশা ভরা পৃথিবীর গহীন। 

হায় চিল আজো উড়ে উড়ে 

কেঁদে কেঁদে তুমি 

ধানসিঁড়ি নদী ভরেছো দু'চোখের জলে।

 

তুমি আর কতোকাল কাঁদবে-সবুজ 

ঘাসের ধানের কার্তিকের নরম বুকের পরে,

হিম শীতল রোদ মৃত 

ধানসিঁড়ি নদীটির বাঁকে বাঁকে? 

জলের সংগীতে কে যেনো 

গান গায় সবুজ ঘাসের কুয়াশার মুখে!

কি যেনো ব্যথা তার! ম্লান চোখ ভাসে স্মৃতির ক্যানভাসে

কার কথা ভেসে বেড়ায়-গোপনে 

বাতাসে রোদ্দুরে বিকেলের ধূসর কুয়াশায়? 

 

হায় চিল 

তোমার সাথে তার কি অন্ত্যমিল।

 

 

উড়াল পাখির গল্প

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

 

আজকাল নিজেকে ছুঁয়ে দিতে না পারার কষ্টে ভুগি

কোনটা ভোগ আর কোনটা সম্ভোগ ঠাহর পাই না

সেঞ্চুরির পর ডাবল, ট্রিপল না পাওয়ার আক্ষেপ নেই

তবুও আমি কাজি অফিসে দস্তখতের কথা ভাবি!

 

পাথরে-পাথরে আদর ঘষে যখন বুঁদবুঁদ ওঠে

আকাশের ঠোঁটে যখন আগুনের ফুলকি ফুটে

সেদিন কি বৃষ্টিতে পোড়া..সান্ধ্যজল ঘুমায়?

সেদিন কি কেউ বিরহের তরী ডাঙায় ভিড়ায়?

 

আমি অন্ধচোখের প্রতাপশালী রেটিনার কথা ভাবি

যে আকাশে মেঘ নেই তা কতোটা আকাশ?

যে প্রেমে খাদ নেই, সেই প্রেম কতোটা হয় প্রকাশ?

 

যে নিজেকে উড়াল পাখির মতো ধূর্ত ভাবে, ভাবে

আকাশের নিচের সমুদয় নদীজল তার;

বলতে পারো, তার ভালোবাসা কোন প্রকার?

আমি কৈলাশের মুনিদের ধ্যান ভঙ্গ হোক বলছি না

কিছু উড়াল পাখির আড়াল প্রেমের কথা বলছি!!

 

 

নয়নতারা

সাজু কবীর 

 

গরুটি মানুষ হয়ে যায়

সে এখন চেয়ারেও বসে

দোল খায় নক্ষত্রের আলোকিত দোলনায়... 

 

সকালের পবিত্রতায় আলোর কুচকাওয়াজ

শান্তির মতো সফেদ চোখে আমার 

লাল সূর্যোদয়... 

 

বাঘটি প্রতিদিন গরু হয়ে যায়

গলায় দড়ির মালা নাকে সুতলির নথ

নিরাপদ বনাঞ্চল জনপদের আশীর্বাদ... 

 

দ্রোহের মতো লালচোখে আমার

সাদা কবুতর ওড়ে!

 

 

এইতো সময়

আমিন আফসারী

 

এইতো সময় জেগে ওঠার! শিখর ছোঁয়ার 

কালবৈশাখীর বক্ষজুড়ে-স্বপন রোয়ার।

এইতো সময় হার না মানার

গড়ার জন্য ভাঙতে জানার!

রৌদ্র প্রখর দুপুর এলে-

দুষ্ট মতি চিনতে পারার।।

 

হরহামেশা দুঃখগুলো দেবে হানা

কাঁটা ভরা পথে পথে চলতে জানা!

এইতো সব কঠিন হওয়ার

ভালোবাসায় দ্রবণ হওয়ার! 

আউলা ঝড়ের দিনগুলোতে-

শক্ত হাতের নাবিক হওয়ার।

 

ভোরের রবি খুব নিকটে! খুব নিকটে 

আঁধার যাবে আস্তাকুঁড়ে! যাবেই বটে

এলোমেলো সুরের ছড়া

একই সুতো হবে গড়া!

আসবে সুদিন আমার ঘরে-

পেরিয়ে শত দুঃখ-খরা।

 

সুখের সূর্য

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

 

দূরে যাও কেন

সরে যাও কেন

যেতে হবে তাঁর পথে

তাঁর পথেই মুক্তি

তাঁর পথেই কল্যাণ

 

যেতে হবে অনেক দূর

এখনো হয়নি ভোর

এখনো রক্তিম সূর্য ওঠেনি জেগে   

এখনো চারপাশে অন্ধকার

এখনো চারপাশে গোপন আঘাত

তবে সাবধান হও

চলো মুক্তির পথে।

 

কে তুমি পিছনে ডাকো

কে তুমি পিছনে হাঁটো

পিছনের পথে মুক্তি নেই

তবে সামনে চলো

গাও মুক্তির গান

জেগে উঠবে সুখের সূর্য।

 

 

আহমদ বাসির স্বপ্ন ছড়িয়ে দিলেন

হারুন আল রাশিদ 

 

সীমান্ত ঘেঁষে পাহাড় 

সামনের দিকে বাংলাদেশ 

পেছনে অনন্তপুর।

 

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন 

কবি আহমেদ বাসির

মাথার চুল স্পর্শ করে উড়ে যাচ্ছে মেঘ

ঢোলা শার্টে বাতাস ঢুকে ফুলে ফুলে উঠছে।

 

বাসির ভাই স্বপ্ন ছড়িয়ে দিলেন

পাদদেশে ঝরনা তৈরি করবেন

রাতের নিস্তব্ধতা হাত বাড়িয়ে দিলো

চাঁদ জোছনা উল্লাসে মেতে ওঠে

তারকার মাঝে বিশাল সাড়া পড়ে যায়।

 

সহযাত্রীরা আনন্দ প্রকাশ করে

অগ্রজদের মাঝে তুমুল উদ্দীপনা 

কেউ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে 

অনেকেই সাথে থাকার ইচ্ছে পোষণ করছে।

 

এভাবে কিছুদিন পার হয়ে যায় 

স্বপ্ন সাজাতে থাকেন নিভৃতে 

কর্মতৎপরতার ঘাটতি ছিল না এতটুকু। 

 

একদিন পুরো নকশা তৈরি করে 

মেলে ধরলেন অগণিত চোখের সামনে

সবাই অভিভূত 

চারদিক থেকে তাগিদ আসতে থাকে 

ভাই কাজ শুরু করেন 

আমাদের তর সইছে না।

 

কবি কাজে নেমে গেলেন 

দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রমে 

কিছুটা পর্যায়ে চলে এলো

প্রচুর সমর্থন পাচ্ছেন

সহযোগিতার সামান্য কমতি ছিল না।

 

হঠাৎ করেই নির্মাণ শ্রমিকরা

বাসির ভাইকে খুঁজে পাচ্ছে না

চতুর্দিকে কলরব আরম্ভ হলো

বাসির কোথায়?

বাসির কোথায়? 

কেউ কান্না জুড়ে দিচ্ছে 

কেউ হতাশায় মুষড়ে পড়ছে।

 

একদিন সন্ধ্যায় সবাই জড়ো হলো

পাদদেশে নির্মিতব্য ঝরনার সামনে

একটা লক্ষ্যে পৌঁছলো সবাই

বাসিরকে খুঁজে বের করে

কাজ চালিয়ে নিতে হবে।

 

কিছুক্ষণ পর অন্ধকার ঘনীভূত হলো

তার সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি

আকস্মিক পাহাড়ের ওপার থেকে 

একটা অপরিচিত আওয়াজ ভেসে এলো

"কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত।"

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ