শনিবার ২৬ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

কোস্টারিকার জালে স্পেনের রেকর্ড ৭ গোল

কামরুজ্জামান হিরু: কোস্টারিকাকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ২২তম ফিফা বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করলো ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন।  গ্রুুপ ‘ই’এর এই ম্যাচে কোন প্রতিদ্বন্ধীতাই করতে পারেনি কাতার বিশ্বকাপে সর্বশেষ দল হিসেবে সুযোগ পাওয়া কোস্টারিকার। বুধবার দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত ম্যাচে স্পেন ৭-০ গোলের সহজ পার্থক্যে জয় তুলে নিয়েছে। বিশ্বকাপে এটাই স্পেনের সবচেয়ে বড় জয়।এর আগে ১৯৯৮ সালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৬-১ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ছিল লাল জার্সীর দলটিল।  

শুরু থেকেই প্রাধান্য নিয়ে খেলতে থাকা স্পেন প্রথমার্ধে এগিয়েছিল ৩-০ গোলে।বিজয়ী দলের আক্রমনভাগের ফুটবলার ফেরান তোরেস দুটি গোল করেন। এছাড়া একটি করে  গোল করেছেন দানি ওলমো, মার্কো আসেনসিয়ো, পাবলো মর্টিন গ্যাভি, কার্লোস সোলের ও আলভেরো মোরাতা। 

বিশ্বকাপের শেষ দুটি আসর স্পেনের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতোই।তাই এবার শিরোপায় চোখ রেখেই সাবেক চ্যাম্পিয়নরা চলতি বিশ্বকাপে বেশ তারুণ্য নির্ভর এক দল গড়েছে। লুইস এনরিকের শিষ্যরা দারুণ ছন্দেও রয়েছে। তারই প্রমান মিললো মাঠের লড়াইয়ে। 

স্প্যানিশ এই কোচের কৌশলের কাছেই হার মানে কোস্টারিকা। স্পেনের নতুন প্রজন্মের বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেনি ষষ্টবারেরমত বিশ্বমঞ্চে খেলতে আসা কোস্টারিকা। যদিও এই দলের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। ৮ বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল দলটি। সেই বিশ্বকাপের ছয়জন খেলোয়াড় কোস্টারিকার এই দলটিতে থাকলেও তারা দলের  বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। 

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন তাদের চিরাচরিত ছোট ছোট পাস দিয়ে খেলতে থাকে। দুই তরুণ তুর্কি গাভি ও পেদ্রিকে একাদশে রেখেই মাঠে নামে স্পেন। ম্যাচের ৫ মিনিটে পেদ্রির ক্রস থেকে উড়ন্ত বলে ডিবক্সের ভেতর দানি ওলমোর শট গোলবারের বাইরে চলে যায়। ৯ মিনিটে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন কিন্তু আসেনসিওর শট গোলবারের ছুঁইয়ে বের হয়ে যায়।

তবে ১৩তম মিনিটে আর ভুল করেননি দানি ওলমো। মাঝমাঠ থেকে গাভির বাড়ানো বল ডিবক্সের ভেতর পেয়ে কেইলর নাভাসের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ানো ওলমো। বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে শততম গোলটি আসলো তার পা থেকেই।২১ মিনিটে আবারো এগিয়ে যায় স্পেন। এবার গোলের খাতা খুলেন মার্কো আসেনসিও। বাম পাশ থেকে বার্সার জর্দি আলবার ক্রসে রিয়াল মাদ্রিদের আসেনসিওর বুলেট গতির শট রুখতে ব্যর্থ হন নাভাস।

দুই গোল দিয়েও যেন খেই হারিয়ে ফেলেনি লা রোহারা। আক্রমনের ধার বাড়িয়ে ৩১ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নেয় স্পেন। জর্দি আলবাকে ডিবক্সে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে ফেরান তোরেস গোল করে দলকে আবারো এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোন গোল না হলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ৪৫ মিনিট শেষ করে লুইস এনরিকের দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই যেন আরো গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন। পাস, পাস ও পাস এই নীতিতে খেলে কোস্টারিকার মানসিকতাকেই ভেঙ্গে দেয় তারা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে আবারো দলের হয়ে গোল করেন ফেরান তোরেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ১৫তম গোল। ৪ গোল দিয়েও যেন গোলের ক্ষুধা মেটে না স্পেনের। মোরাতার মত স্ট্রাইকারকে বদলি হিসেবে নামায় তারা।

তারই দেয়া পাস থেকে ৭৪ মিনিটে গোল করে দলকে ৫ গোলের লিড এনে দেন মিডফিল্ডার গাভি। এই গোলের সুবাধে এক ইতিহাস গড়েন এই বার্সা ফুটবলার। স্পেনের সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করলেন তিনি। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ৮৯ মিনিটে স্পেনের হয়ে গোলটি করেন পিএসজির ফুটবলার কার্লস সোলার। ম্যাচের ৯২ মিনিটে আবারো গোল করে স্পেন। এবার দাই ওলমোর পাস থেকে বদলি হিসেবে নামা মোরাতা গোল করে দলকে ৭-০ গোলের বিশাল জয় এনে দেন। বিশ্বকাপে ইতিহাসে এই প্রথম কোন ম্যাচে ৭ গোল করলো স্পেন। এই বিশাল জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসলো লুইস এনরিকের দল।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ