শনিবার ২৬ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

আজকের শিক্ষা আগামীর সুরক্ষা - ডা. এম. এ রহমান

ডায়াবেটিস মেলাইটাস একটি বহুমাত্রিক বিপাকজনিত রোগ। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) এবং বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছরই ১৪ নবেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উদযাপন করে আসছে। ইনসুলিনের আবিষ্কারক স্যার ফ্রেডরিক ক্যান্টিংয়ের সম্মানে তার জন্মদিন ১৪ নবেম্বর বিশ^জুড়ে এই দিনটি পালিত হয়।

আইডিএফ-এর হিসাব মতে বর্তমানে সারা বিশে^ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৫৩৭ মিলিয়নের বেশি। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০৩০ ও ২০৪৫ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৬৪৩ মিলিয়ন ও ৭৮৩ মিলিয়নে উপনীত হবে। উল্লেখ্য যে, ডায়াবেটিস রোগীর তিন-চতুর্থাংশ নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিক।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩৮ মিলিয়ন। আশঙ্কার ব্যাপার হলো ডায়াবেটিস রোগীর প্রতি ২ জনের ১ জনই জানে না তার ডায়াবেটিস রয়েছে। অন্যদিকে প্রতি ৬ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ১ জন গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিসের জন্য সারা পৃথিবীজুড়ে ২০২১ সালে প্রায় ৯৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে যা কিনা স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের মোট ৯ শতাংশেরও বেশি।

সারা পৃথিবীজুড়ে কোটি কোটি ডায়াবেটিস রোগীর থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেকে ডায়াবেটিসের সঠিক সেবা হতে বঞ্চিত। অথচ ডায়াবেটিস রোগীর প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও সহযোগিতা। ইনসুলিন আবিষ্কারের ১০০ বছর পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ রোগী ডায়াবেটিসের সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে আইডিএফ ২০২১-২০২৩ সাল পর্যন্ত এই তিনটি বছর ডায়াবেটিসের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার, নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত সকল সংস্থা, ডায়াবেটিস রোগী ও সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ডায়াবেটিস শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য Access to Diabetes care এই থিমের উপর কাজ করে চলেছে। সয়মক্ষেপণ না করে, ওষুধ, কারিগরি সহায়তা ও সেবা সকল রোগীর জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খাতে বাজেট বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে। এর সূত্র ধরে চলতি বছরের স্লোগান Education to Protect Tomorrow অর্থাৎ আজকের শিক্ষা, আগামীর সুরক্ষা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীকে ও সেবা দানকারী ডায়াবেটিস স্ক্রিনিংও চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে করণীয় সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে অনুগত করা ও তা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

সর্বোপরি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ওজন নিশ্চিতকরণ ও ধূমাপান থেকে বিরত থেকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং যারা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হয়ে গেছে তাদের সঠিক শিক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের সকল জটিলতা মুক্ত রাখাই হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ