শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা বিভ্রাট

এ বছর ১৪ নবেম্বর ২০২২ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘‘আগামীতে নিজেকে সুরক্ষায় ডায়াবেটিসকে জানুন”। 

বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। রোগী সাধারণ রোগটি সম্পর্কে সঠিকভাবে সচেতন থাকলে এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের মধ্যে থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণ অবস্থায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণযোগ্য অসুখ, নিরাময়যোগ্য নয়। রক্তে ইনসুলিন নামক হরমোনের স্বল্পতার কারণে রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই ডায়াবেটিস রোগ হয়। এটা কোনো জীবাণুজণিত রোগ নয় বা ছোঁয়াচে রোগও নয়। বংশগতভাবে বা জেনেটিক্যালী এ রোগটি মানব সমাজে অবস্থান করছে ও এভাবেই এর ধারাবাহিকতা চলছে এবং চলতেই থাকবে। শতকরা প্রায় ৭০-৮০ ভাগ রোগী বংশগতভাবে হয়ে থাকে এবং বাঁকি ২০-৩০ ভাগ বংশ ছাড়াও হতে পারে। 

নিয়মশৃঙখলা ও নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং খাদ্যাভাসের মাধ্যমে এ রোগ নিয়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়। তথা পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনেও স্বাভাবিক থাকা যায়। কিছু অসংগতি বা অসহায়তার বিষয় উল্লেখ করতে চাই।

১। রোগটি সম্পর্কে অজ্ঞতা, সচেতন না থাকা বা গুরুত্ব না দেয়া।

২। নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসায় অবহেলা করা। সেটা রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা বা অর্থ সংকটের কারণেও হতে পারে। আবার অর্থ সংকট নেই কিন্তু কার্পণ্যতার কারণেও হতে পারে। গড়িমসি করে সময় ক্ষেপণ করা, ধমক দিয়ে থামিয়ে রাখা, বিশেষ করে নির্ভরশীল রোগীদের জন্য, যেমন কর্মহীন বয়স্ক মানুষ এবং অধিনস্থ মহিলা গৃহিণী রোগীদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে। 

৩। ইনসুলিন ভীতি, ইনসুলিনের ডোজ সম্পর্কে ভুল করা। ইনসুলিনের ডোজ কভার না করা অথবা ইনসুলিন নেয়া বন্ধ রাখা অথবা ইনসুলিন বন্ধ রেখে বড়ি সেবন করা। এভাবে অনিয়মিত চিকিৎসা বেশির ভাগ রোগীই করে থাকে। বড়ি সেবনের বেলাও ঠিক একই অবস্থা। 

৪। সরকারী পর্যায়েও সব ধরনের ওষুধ সব সময় পাওয়া যায় না। গরীব রোগীরা ওষুধ অপ্রাপ্তির কারণে চিকিৎসা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারেন না। আমার জানা মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইনসুলিন সরবরাহ করা হয় না। ইনসুলিন নেয়া গরীব রোগীরা ইনসুলিন কিনতেও পারেন না বা সরকারী হসপিটাল থেকেও পান না। বিধায় তাদের চিকিৎসাও হয় না।

৫। তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াবেটিক চেক করার জন্য সুগার পরিমাপক এষঁপড়সবঃবৎ এর বর্তমানে ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে রোগী শনাক্ত করা। কিন্তু এর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রোগীরা অনেক সময় সেখানেই পরীক্ষা করে থাকে। তাতে তারা যে রিপোর্ট পায়, তার ওপর নির্ভর করে প্রদত্ত চিকিৎসার হেরফের করে ফেলে। এভাবে তাদের চিকিৎসার বিভ্রাট ঘটে এবং সময়মত ডায়াবেটিক হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসে না এবং অনেক বিলম্ব করে ফেলে। এভাবে তাদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আমরা ডাক্তাররাও সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারছি না। ডায়াবেটিক চিকিৎসার ব্যাপারে এটা একটা বিরাট ভেজাল সৃষ্টি হচ্ছে বিশেষ করে আমার প্রাকটিসে বলে আমি মনে করি। উবারপব টি ঐড়সব ব্যবহারের জন্য উপকার আছে, বিশেষ সময়ের জন্য এবং নিয়মিত চেক আপের জন্য।  ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা বিভ্রাট সম্পর্কে আমি কিছু যৎসামান্য বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি এবং এ বিষয়ে আরো অনেক কিছু আমাদের জানবার আছে। 

ডা. আতিয়ার রহমান

সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার

ডায়াবেটিস অ্যাণ্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার

কলেজ বাজার, বিরামপুর, দিনাজপুর।

প্রাক্তন টিএইচএ , ফুলবাড়ী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর। ০১৭১৬৫৯৬৭৮৪

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ