শনিবার ২৬ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯১ সালের ১৪ নবেম্বরকে ডায়াবেটিস দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। ডায়াবেটিস রোগ একবার হলে সেটি পুরোপুরি ভালো হয় না, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। বাংলাদেশের কত মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। কারণ বেশ অবাক ব্যাপার হলো, আক্রান্ত রোগীদের অন্তত ৫০ শতাংশ জানেন না যে তার ডায়াবেটিস আছে। এ জন্য সচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। আর ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের পরিসংখ্যান না থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে টাইপ-১ বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিস অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জীবনযাত্রার মান ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রমও করতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া ও কোমল পানীয় বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান ও তামাক বর্জন করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগের খাবারে ক্যালরি, শর্করার ধরন, আমিষ, সবজি আর তেল-চর্বির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আসলে ডায়াবেটিসের জন্য আলাদা কোনো ডায়েট নেই। তবে খাবার বাছাই করতে হয় সচেতনভাবে। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার নির্বাচন করলে যেমন সব কিছু জেনে বুঝে খাওয়া যায়, তেমনি কোন খাবার কীভাবে খেলে উপকার হবে এবং কোন খাবার খেলে ক্ষতি হবে তা বোঝা সম্ভব। আমরা যখনই দেখে, জেনে ও বুঝে খাব তখন ডায়াবেটিস রোগের থেকে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কম থাকবে। আমাদের সারা দেশেই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে সেই সঙ্গে তাদের খাবার কী ধরনের হবে তা ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিসেবা কেন্দ্রগুলোতেই ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ছাড়াও অন্যান্য জায়গাতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কী খাবার খেতে হবে অনেকেই জানেন। কিন্তু এক খাবারের বিকল্প অন্য কি খাবার খেতে হবে সেটা অনেকেই জানেন না।

যা খেতে পারবেন : লাউ, পেঁপে, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউশাক, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, কলমিশাক ইত্যাদি শাকসবজি খাওয়ায় কোনো বাঁধা-নিষেধ নেই ডায়াবেটিক রোগীর জন্য। তবে মিষ্টিকুমড়া, গাজর, বরবটি, বেগুন, ঢেঁড়স, মটরশুঁটি, কাকরোল, করলা ইত্যাদি সবজি খেতে হবে পরিমাণমতো।

এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগীর জন্য কালোজাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, বাঙ্গি, জামরুল, আমলকী, কচি ডাবের পানি, মিষ্টি ছাড়া ফলের আচার ইত্যাদি ফলমূল খেতেও কোনো নিষেধ নেই। তবে সব ফলমূলই নির্দিষ্ট পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। যেমন-ছোট একটি আমের অর্ধেক, একটি বড় পাকা পেয়ারা, বড় আকারের ৬টি লিচু বা মিষ্টি কুল, একটি আতা ফল,  কাঁঠালের তিনটি মাঝারি আকারের কোয়া, একটি মাঝারি আকারের কমলা খেতে পারবেন। সেই সঙ্গে আপেল বা মাল্টা, আধা কাপ পাকা বেল, ২ চামচ কোরানো নারিকেল, তরমুজ এক টুকরা কিংবা একটি বড় কলার অর্ধেক ডায়াবেটিক রোগী একদিনে খেতে পারেন। প্রতিদিন এসব ফলের যে কোনো একটি অথবা পরিমাণমতো খাওয়া যাবে। তবে একাধিক ফল একসঙ্গে খাওয়া উচিত হবে না।

যে খাবার এড়িয়ে চলবেন : অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনিসমৃদ্ধ খাবার। কিন্তু আমরা জানি সব সময় এসব খাবার এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তাই আপনার শরীরের ওপর এগুলো কী ধরনের প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, চিপ্স, চকলেট, কেক, আইসক্রিম, মাখন ও অতিরিক্ত চিনি দেওয়া কোমল পানীয়। এসব খাবার ও পানীয়তে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে এবং এরা রক্তে সুগারের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই চিনিমুক্ত, কম ক্যালরির বিকল্প খুঁজে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো, উপাদেয় পানীয় হলো পানি-এতে কোনো ক্যালরি নেই।

খাবার কমানোর উপায় : সম্পূর্ণভাবে বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে আপনি কী পরিমাণে লবণ খাচ্ছেন তা সঠিকভাবে খেয়াল রাখতে পারবেন। চিনি ছাড়া চা-কফি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো ফলের জুস বা স্মুদির থেকে ভালো, কারণ তাতে অতিরিক্ত শর্করা বা ক্যালরি থাকে না। খাবারের সঙ্গে কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করে দিন, এর পরিবর্তে গোল মরিচের গুঁড়া এবং অন্যান্য মসলা ও হার্ব ব্যবহার করে স্বাদে নতুনত্ব আনা যেতে পারে। দোকানের সস ও মসলা মিক্স না কিনে বাড়িতেই বিভিন্ন সস ও ম্যারিনেট করার মসলা তৈরি করে খান। 

এ ছাড়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হাঁটা এবং ব্যায়াম প্রতিদিনের রুটিনে অবশ্যই রাখতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ম মেনে ডায়াবেটিক রোগীরা সুস্থভাবে জীবন যাপন করে সুস্থ থাকতে পারেন। যাদের পরিবারে বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে, কম বয়স থেকে খাবার দাবার এবং জীবন যাত্রার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নিয়ম করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ