শনিবার ২৬ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

গাছের কথা গুল্মের কথা রিফুজি লতার নানান গুণ 

 

॥ আসগর মতিন ॥

এই গাছ বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায়। যেখানে সেখানে জন্মায়। কিন্তু নামটা হয়তো অনেকের অজানা। আর এই লতা ও পাতার অনেক ওষুধী গুণ রয়েছে। এর বাংলা নাম রিফুজি লতা বা আসামী লতা। আসামলতা, কইয়া লতা, বুচিলতা, শঙ্খুনি লতা, বিকাশ লতা ইত্যাদি নামে এটাকে ডাকা হয়। এই লতা অতি বৃদ্ধিপ্রবল, একবার বেড়ে উঠবার সুযোগ পেলে বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে, জড়িয়ে ধরে অন্য গাছের শাখা-প্রশাখা। রিফুজি লতা বনে-জঙ্গলে, পতিত জমিতে বা পথের পাশে যেখানে ফোটে সে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতেই থাকে। রিফুজি লতার কোন ধরনের যতœ না নিলেও চলে,এটি একবার বেয়ে গেলে আর সহজে মরে না। বিকাশ লতা বা মিকানিয়া হচ্ছে সপুষ্পক লতা জাতীয় উদ্ভিদ। মিকানিয়া গণভুক্ত প্রায় ৪৫০ ধরনের প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে Mikania micrantha Ges Mikania scandens এই দুটি প্রজাতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং বিকাশ বলতে প্রধানত এই দুটিকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। এটি অতি দ্রুত বর্ধনশীল বলে ইংরেজিতে একে 'মাইল-আ-মিনিট' নামে ডাকা হয়। ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার রয়েছে। আমাদের দেশে আগাছা হিসেবে এটি বেড়ে ওঠে এবং এক সময় সারা বাড়ি ছেয়ে যায়। এর সবুজ পাতা অনেকটা পান পাতার মত দেখতে। গাছে বেশ সুন্দর ফুল ধরে। 

এর বৈজ্ঞানিক নাম মিকানিয়া মিকরান্থা (Mikania micrantha)  । বর্গ বা অর্ডার হচ্ছে এস্টারালেস, পরিবার এস্টারাসি। গণ বা জেনাস হচ্ছে মিকানিয়া , প্রজাতি বা স্পেসিজ হচ্ছে এম মিক্রান্থা। দ্বিপদী নাম বা বিনোমিয়াল নেম হচ্ছে মিকানিয়া মিক্রান্থা। 

আগাছা হলেও বিভিন্ন কাজে এটা লাগে। মিকানিয়া অনেক দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়ায় এটি ভেড়ার খাবার। অন্যান্য গবাদি পশুও এটি উপভোগ করে। ভারতের কেরালা রাজ্যের কিছু অংশে এটাকে পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন ঘাসের প্রাপ্যতা খুব কম থাকে।  মিকানিয়া দুগ্ধজাত গবাদি পশুর হেপাটোটক্সিসিটি এবং লিভারের ক্ষতির কারণ হিসাবে পরিচিত। মিকানিয়ার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাব এবং ক্ষত নিরাময়ে এর কার্যকারিতা জানা যায়। আসাম কাবি উপজাতির লোকেরা পোকামাকড়ের কামড় এবং বিচ্ছুর দংশনের প্রতিষেধক হিসাবে মিকানিয়ার পাতার রস ব্যবহার করে। পেটের ব্যথা নিরাময়ও এ পাতা ব্যবহার করা হয়।

 চুলকানির জন্য নিরাময়কারী এজেন্ট হিসাবে মিকানিয়ার রসের ব্যবহার মালয়েশিয়ায় রয়েছে। আফ্রিকায় মিকানিয়া পাতা স্যুপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ার রাবার বাগানে আচ্ছাদন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য এটি ঢালে রোপণ করা হয়। 

 

মিকানিয়া সবুজ সার ভারতের মিজোরামে ধানের ফলন বাড়ায় বলে জানা গেছে। রিফুজি লতা'র ঔষধী গুণাগুণ রয়েছে আগেই বলেছি। প্রস্রাবে জ্বলাপোড়ায় নিয়মিত পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যাবে, লিভারের যে কোন সমস্যায় এই পাতার রস অনেক উপকার করে, চোখ লাল হয়ে গেলে এই পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যায়, পাকস্থলীর প্রদাহ হলে আদার সাথে তিনটি পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিলে উপকার মিলে। এই পাতার রস নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে জানা যায়। শরীরের কাটা ছেঁড়ায় এ লতার পাতা পিষে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে তিন থেকে চার ঘন্টা বেধে রাখলে উপশম মিলবে। পেটে গ্যাস, এসিডিটি হলেই আধা-কাপ রিফুজি পাতার রস খেয়ে নিলে সেরে যাবে। চুলকানী, একজিমা, দাদ হলে এই পাতার রস দিয়ে ধুয়ে রস লাগালে সেরে যাবে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। তবে যে কোন জটিল রোগের চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রাকৃতিক সুরক্ষাগুলো অনেক সময় ধীর গতিতে কাজ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ