রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

২০২৩ সালের জন্য ৫৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন

 

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৩ সালের জন্য ৫৪ লাখ ৬০ হাজার টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির জন্য এক কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ৮ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে। একই সাথে কানাডা ও মরক্কো থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে ৭৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রাহাত আনোয়ার। 

সভায় সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালেয়ের ৩টি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ৪টি প্রস্তাবের বিপরীতে খরচ হবে এক হাজার ৩৫৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ টাকা।

রাহাত আনোয়ার জানান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জন্য সৌদি আরবের সৌদী আরামকো এবং আবুধাবীর এডিএনওসি থেকে ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) সরাসরি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)-এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চল পতেঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সুয়ারেজ প্রজেক্ট ফর পতেঙ্গা ক্যাচমেন্ট’ প্রকল্প পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চট্টগ্রাম ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

রাহাত আনোয়ার জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এই তেল কেনা হবে। এ জন্য খরচ হবে ১৮৯ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি লিটার ১৭১ দশমিক ৮৫ টাকা করে এই তেল কেনা হবে। এর আগে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা করে কেনা হয়।

এদিকে, আজকের বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা হবে। এতে মোট খরচ ৮৭ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম ১৫৯ দশমিক ৯৫ টাকা, যার পূর্বমূল্য ছিল ১৮৫ টাকা। এছাড়া টিসিবি কর্তৃক স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে খরচ হবে ৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। প্রতি কেজির দাম ৮৮ দশমিক ৭৩ টাকা।

কানাডা ও মরক্কো থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে ৭৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে ৬ষ্ঠ লটে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার ৪৩৭ কোটি ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় ওসিপি এস এ মরক্কো থেকে ৯ম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার ৩০২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ