শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

রূপসায় পরিত্যক্ত ১০ ভবন নিলামে অনিয়ম ॥ রাজস্ব ফাঁকি!

খুলনা ব্যুরো : খুলনার রূপসায় ১০টি পরিত্যক্ত ভবন সমঝোতার মাধ্যমে কিনে ওইদিনই প্রায় চারগুণ বেশি মূল্যে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রির ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা ছাড়িয়ে জেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের নীরবতা কাটেনি। সব কিছু জানার পরও অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে বিক্রিত ভবনগুলো ভেঙে নেয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের দেখা মিলেছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি সরকারি নিলামে (পিছনের দেওয়াল বাদ) সাড়ে ৫৪ হাজার টাকায় নৈহাটীর আব্দুল হামিদ ভাসানী কেনেন। পরে সেটা সেলিম মোল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।

ঐ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অঞ্জনা দে জানান, ভবন নিলামের সময় পিছনের দেওয়াল অক্ষত রাখার কথা ছিল। তারপরও নিলাম বহির্ভূতভাবে পিছনের দেওয়াল ভেঙে লোহার জানালাগুলো নেয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যািলয়ের পিছনের দেওয়ালটি বাউন্ডারি ওয়াল হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিলাম বহির্ভূত রাখা হয়েছিল। এটার জানালা ভেঙে নেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম যথাযথভাবে মেনে ওপেন নিলামের ব্যবস্থা করা হয়। পরে কাদের কাছে কত দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের জানার কথা নয়।

২য় নিলাম থেকে সর্বোচ্চ দাম দিয়ে ৪টি ভবন ক্রয় করা স্বল্প বাহিরদিয়ার জিয়া জানান, আমরা চাঁদপুরেরটি ১ লাখ ৮৬ হাজার, আনন্দনগরটি ১ লাখ ৯৪ হাজার, কাজদিয়া সদরেরটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ও পাথরঘাটারটি ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ক্রয় করি। তিনি বলেন, প্রথমে সরকারি ডাক হয়। পরে দলীয় ফোরামে ডাক হয়। আর সেখান থেকে আমরা কিনি। তিনি আরও বলেন, ইউএনও অফিসে আমাদেরকে ঢুকতে দেয়নি। আমরা যারাই যেতাম দলীয় লোকের কাছে মার খেতে হত।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ইউএনও নিলাম বিক্রি কমিটির সভাপতি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তার (ইউএনও) সাথে কথা বলে কিভাবে কি করা যায় সেটা আলোচনার জন্য বলেছি। বিষয়টি তিনি দেখছেন।

প্রসঙ্গত, রূপসা উপজেলার ১০টি স্কুলের পরিত্যক্ত ১০টি ভবন ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইউএনও অফিসে ওপেন নিলামে বিক্রি করা হয়। যা ওই দিনই প্রায় চার গুণ বেশি মূল্যে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করে ক্ষমতাসীন দলের কিছু ব্যক্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ