শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

বায়ুদূষণে ঢাকা আবারো শীর্ষে

 কোনভাবেই রাজধানী ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বরং পরিস্থিতির দিনের পর দিন অবনতিই হচ্ছে। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা আবারও বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। গত বুধবার সকাল ৯টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১৭৪ রেকর্ড করা হয়েছে। পাকিস্তানের লাহোর, চীনের বেইজিং এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় যথাক্রমে একিউআই ১৭৪, ১৬৪ ও ১৬৩ স্কোর নিয়ে পরবর্তী তিনটি স্থানে রয়েছে। একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয় বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য। একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। 

এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউ সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়। বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে-বস্তুকণা (পিএম ১০ ও পিএম২ দশমিক ৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজন (৩৩)। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে। এর বাতাসের মান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন বা উন্নতি হয় না।

এ বছরের শুরুর দিকে ঢাকা বেশ কয়েকবার বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হল ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো। বেশ কয়েকটি গবেষণা অনুসারে, বায়ুদূষণ ক্রমাগত বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অক্ষমতার জন্য ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি। 

দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়ার ফলে একজন ব্যক্তি হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ ও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী বাধা পালমোনারি রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসকষ্ট সংক্রমণের ফলে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

মূলত, রাজধানী ঢাকা বারবার বায়ুদূষণে শীর্ষে উঠে আসলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের তেমন উল্লেখযোগ্য তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। এ বিষয়ে যা কিছু বলা হয় মূলত সেসব শুধুই প্রচার সর্বস্ব। ঢাকার বায়ুদূষণে যেসব অনুষঙ্গ কাজ করে সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা পরিবেশ বিভাগ খুবই উদাসীন। যা জাতীয় স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকী। এমতাবস্থায় ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুৎসই ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেবে।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ