শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি

মার্কিন ডলারের অব্যাহত সংকট ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অন্য কিছু বিশেষ কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্প্রতি গভীর অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানানো হয়েছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিও সংকটের বড় কারণ। রিজার্ভের মজুত ‘এখন পর্যন্তও ভালো’ জানিয়ে পরের বাক্যেই দৈনিকটি লিখেছে, রিজার্ভ যেভাবে কমছে তা উদ্বেগজনক। একথা সত্য যে, প্রবাসী ও রফতানি আয় বাড়লে রিজার্ভও বাড়বে কিন্তু ইউরোপের মন্দার কারণে এই রিজার্ভ কিভাবে ও কতটা বাড়ে সে বিষয়ে প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে।

সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণ জানাতে গিয়ে দৈনিকটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডলার সংকটের চাপে বিগত মাত্র সাত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক তার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছেÑ বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সমান। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে হয়েছে তিন হাজার ৬৪০ বা ৩৬ বিলিয়ন ডলার। তবে এই ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পূর্ণটুকুই কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। কারণ, বিভিন্ন খাতে আট বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে দেয়া আছে, যা চাইলে সহজে দেয়া যাবে না। সে কারণে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে দুুই হাজার নয়শ’ কোটি বা ২৯ বিলিয়ন ডলারÑ যা কিছুদিন আগেও ছিল পাঁচ হাজার বিলিয়ন ডলারের বেশি। 

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কারণও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। এসব সংস্থা বলেছে, গত জুলাই মাসে দেশের আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬৩৩ কোটি ডলার। সেই সঙ্গে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি ঋণ পরিশোধ, প্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাশুল, শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং বিমান ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতের খরচÑ যেগুলোর সবই মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হবে। 

ওদিকে ইউরোপে যে মন্দার সৃষ্টি হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠা না গেলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় যেমন বাড়বে না তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার সংকটও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তবে আশার কথা হলো, আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এসবের ফলে দেশকে বিশেষ করে ডলারের কারণে সংকটে পড়তে হবে না। তাছাড়া অর্থনীতির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের অমদানি ব্যয় মেটানোর যে তত্ত্ব রয়েছে সে বিচেনায়ও বাংলাদেশের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা কম বলা যায়। অবশ্য এটকুই সব নয়। সংকট কাটাতে ও বিপদ এড়াতে হলে সরকারকে অবশ্যই যখন-তখন রিজার্ভে হাত দেয়ার সহজ পন্থা পরিত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে রিজার্ভ বাড়ানোর জন্যও জোর চেষ্টা চালাতে হবে।

আমরা আশা করতে চাই, অযথা আতংকিত হওয়ার এবং হুজুগে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সরকার দেশপ্রেমিক অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করবে এবং তাদের দেয়া পরামর্শের ভিত্তিতে সুচিন্তিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে রক্ষার পদক্ষেপ নেবে। এভাবে পদক্ষেপ নেয়া হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন স্থিতিশীল হবে তেমনি দূর হয়ে যাবে সংকটের ভীতি ও সম্ভাবনাও। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ