মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০২৩
Online Edition

যেখানে প্রয়োজন সেখানেই শক্তি প্রয়োগ করে র‌্যাব: বিদায়ী ডিজি

 

স্টাফ রিপোর্টার:  র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, আমাদের যেখানে প্রয়োজন হয় সেখানেই শক্তি প্রয়োগ করি। যেখানে প্রয়োজন হয় না, সেখানে শক্তি প্রয়োগ করি না। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মহাপরিচালকের বিদায়ী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই মতবিনিময় সভায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি এ কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল র‌্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

মতবিনিময় সভায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে র‌্যাব ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাটা কঠিন সময় ছিল কি-না বা নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্দুকযুদ্ধ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে কিনা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, আমরা তা মনে করি না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তোমরা এদেশের পুলিশ, এদেশেরই নাগরিক। আমাদের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কেন আমরা দাঁড়াব। যখন আমরা আক্রান্ত হই, মাদক, অস্ত্র উদ্ধার, মানবপাচারকারী যখন আমাদের ওপর আক্রমণ করে তখন আমরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা তাই নিয়ে থাকি। আইনে যে ক্ষমতা র‌্যাবকে দিয়েছে তা আমরা ক্রস করি না। এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ইদানিং বন্দুকযুদ্ধ কমে গেছে, তাহলে র‌্যাবের ওপর হামলা কমে গেছে? এর উত্তরে বিদায়ী ডিজি বলেন, যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু শক্তি আমরা প্রয়োগ করি। একটা লোক দৌড় দিল, ধাক্কা দিল আর গুলী করে দিতে হবে? সিচুয়েশন (পরিস্থিতি) যা ডিমান্ড করে সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আমাদের দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে র‌্যাব। কিন্তু মাদক বাড়ছে, মাদকসেবীও বাড়ছে। তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান ব্যর্থ কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যে যুদ্ধ করছি সেটা বৈশ্বিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুধু আমরা নই, বিশ্বজুড়েই চলছে। তিনি বলেন, আমাদের ল’ এনফোর্সম্যান্টের কাজের কারণে কারাগারে যে আসামী তার বেশিরভাগই মাদকের। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর যেখানেই মাদক সেখানেই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু র‌্যাব নয়, সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই ধরছে। মাদকের বিষয়টায় সবার ঘর থেকেই সচেতনতা দরকার উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে সেটার খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই একটার সাথে আরেকটা জড়িত। এটা বন্ধে আমরা কাজ করছি। মাদক নিয়ন্ত্রণে নেই এটা বলার অবকাশ নেই। যেখানেই খবর পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা যদি মাদকের বিরুদ্ধে ব্যর্থই হতাম তাহলে কারাগারে এতো মাদকের আসামী থাকতো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ