শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

ইউক্রেনে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা

 সম্প্রতি ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলে রাশিয়া গণভোটের আয়োজন করে দাবি করেছে যে, অধিকৃত অঞ্চলের ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে। কিন্তু জোর করে নেয়া অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার গণভোট আয়োজন নিয়ে বিশ^ব্যাপী নানাবিধ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আর কোন দখলদার শক্তি কোন অধিকৃত অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করার অধিকার রাখে কি-না সে প্রশ্নেরও রাশিয়ার কাছে কোন সদুত্তর মিলছে না। 

এদিকে ইউক্রেনের অধিকৃত চার অঞ্চলে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার গণভোটকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি সম্প্রতি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইউক্রেনের জবরদখল করা অঞ্চল চারটি নিজ ভূখ-ের সঙ্গে যুক্ত করতে ওই লোক দেখানো গণভোটের আয়োজন করেছে। কিন্তু রাশিযার এ বেআইনি কর্মকা- কেউ মেনে নেবে না। ইউক্রেনে দেশটির নিজস্ব আইন চলবে, রাশিয়ার চাপিয়ে দেওয়া কোনো আইন সেখানে কোনোভাবেই চলবে না।

জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক প্রধান রোজমেরি ডি কার্লো গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কথিত গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়া আমাদের ভূখণ্ড চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুথফেরত জরিপ থেকে তারা জানতে পেরেছে রাশিয়ায় যোগ দিতে গণভোটে বেশিরভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানেস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসনে গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত গণভোট আয়োজন করেছে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদিরা। পশ্চিমা দেশগুলো আগেই জানিয়েছিল, গণভোটের ফলে দেখানো হবে বেশিরভাগ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে চায়। তারা বলছেন, তারা ফলের ব্যাপারে আগে থেকেই যা জানতেন সেটি এখন প্রকাশ করছে রাশিয়া।

রাশিয়ার গণমাধ্যম আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চার ভাগের এক ভাগ ভোট গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি অঞ্চলেই অন্তত ৯৭ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ ভোটকে ‘প্রোপাগান্ডা শো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কথিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো জানিয়েছে, তারা কখনো এ ‘ভুয়া’ গণভোটের ফলকে স্বীকৃতি দেবে না। যা রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও রাশিয়ার পদক্ষেপকে নেতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। কারণ, গণভোট অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ভূখ-ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। কিন্তু অধিকৃত অঞ্চলে এখন যুদ্ধাবস্থা চলছে। এমতাবস্থায় ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে যেকোন ধরনের গণভোট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে। কারণ, জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার পরিবেশ পাবেন না। তাই এই কথিত গণভোট বা গণভোটের ফলাফলে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি রাশিয়া যতদ্রুত উপলব্ধি করবে ততই মঙ্গল। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ