শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

আগস্ট মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান

॥ গতকালের পর ॥ 

হামলায় ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ আহবায়ক হিমেল চৌধূরী, সদস সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াসিন, অমিত, রাশেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সেহাব উদ্দিন ও কমিউনিষ্ট পার্টির বোয়ালখালী আহবায়ক অনুপম বড়–য়া আহত হয়। 

১৫ আগস্ট বরগুনা শহরের শিল্পকলা একাডেমীতে আওয়ামী লীগের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে এমপি ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভুর সামনে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০ জন। এ সময় তারা কয়েকটি মটর সাইকেলসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ী ভাংচুর করে। ১৬ আগস্ট বরগুনার আমতলী শহরের সাকিব প্লাজার সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ উপজেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে ছাত্রলীগ উপজেলা সহ-সভাপতি সবুজ মালাকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ তোহাসহ কয়েকজন এলোপাতাড়ী কোপায়। ১৭ আগস্ট বগুড়ার সোনাতলী উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমারকে ধর্ষণ মামলায় আটক করে র‌্যাব। গত ২৫ জুলাই এক গৃহবধূকে জোর করে ধর্ষণ করে সুজন। কক্সবাজার সরকারী কলেজে পড়তে হলে সবাইকে ছাত্রলীগ করতে হবে, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস.এম সাদ্দাম হোসাইন গত ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশে এই ঘেষণা দেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

১৮ আগস্ট রাজশাহী শহরের মেহেরচন্ডী এলাকায় মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারপিট করে ছাত্রলীগ কর্মী ইরফান খান মিরাজ, আখের আলী ও ফরহাদ। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। ১৯ আগস্ট ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের কাছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি দপ্তর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সিফাত, অর্থ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পাদক আব্দুল কাদেরকে মারধর করে ছাত্রলীগ জসিম উদ্দিন হলের সোহান, রেজাউল, তুষার ও হেদায়েতসহ ১০-১৫ জন। পরে ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী মাসুদ রুমি সেতুর টোলপ্লাজার ৬ কর্মীকে মারধর করে টোলের সরকারী টাকা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মতিহার হলে ছাত্রলীগ নেতা ভাস্কর সাহা এক ছাত্র শামসুল আলমকে গলায় ছুরি ধরে ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করে। এ ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের মত হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। 

২৬ আগস্ট ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে জহুরুল হক হলে মাদক সেবন নিয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের মারামারি। হল ছাত্রলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন গ্রুপের মধ্যে এই মারামারি হয়। মূলতঃ রাত ১টা পর্যন্ত তারা হলের ছাদে মদের আসর বসায়, এই নিয়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। ২৭ আগস্ট পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনপির অফিসে ছাত্রলীগ হামলা ও ভাংচুর করে। ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে শাহজালাল হলে ছাত্রলীগের হাতে এক ছাত্রের উপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে সহকারী প্রক্টর রেজওয়ানুল হক অবরুদ্ধ হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকরা বের হওয়ার পথে ৩ সাংবাদিক শামসুল হক হলের সামনে আক্রান্ত হন ছাত্রলীগের হাতে। ২৮ আগস্ট জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে সাময়িক ভাবে বহিস্কৃত হন। ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের ওমর গণি এমইএস কলেজে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল হামিদ রাফি ও আব্দুস সালাম আহত হয়। ছাত্রলীগ নেতা ওয়াসিম উদ্দিন চৌধূরী গ্রুপের উপদলীয় কোন্দলে এই ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় বিএনপির ১২ জন আহত হয়। 

যুবলীগ : ৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইপিজেড-এর ভিতর যুবলীগ-তাঁতী লীগ সংঘর্ষে ইকবাল, ইব্রাহিম, শামীম, সেলিম মজুমদার, আলাউদ্দিন, আবুল হোসেন, হৃদয় হোসেন ও লিটন আহত হয়। ঠিকাদারী কাজ নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। ১২ আগস্ট লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্বপালন কালে যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমান, ক্যামেরাম্যান আহসান হাবিব ও প্রথম আলোর আব্দুর রব সুজনসহ ৫ জনকে মারধর করে যুবলীগ পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সভাপতি সুলতান মন্ডল। একটি নারীঘটিত বিষয় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা এই হামলার শিকার হন। ১৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদরের চল্লিশা ইউনিয়নের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাক সাইফুর রহমান লালু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জনি ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা সুলতান মাহমুদসহ আহত ১১ জন। ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকায় নিজের মা জেসমিন আক্তারকে খুন করে ছেলে যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম।

মূলত সম্পত্তি বন্টন নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটায় মাইনুল। সরকারী দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা হওয়ায় তিনি এই সাহস করেন। ২১ আগস্ট পাবনা শহরে আওয়ামী লীগ অফিসের কাছে যুবলীগের সমাবেশে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রণি, যুবলীগের রাফিন, তমাল, ঘানা ও মানিক আহত হয়। যুবলীগ নেতা বাপ্পি গ্রুপ ও শিবলী সাদিক গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। 

২২ আগস্ট নাটোরের নলডাঙ্গায় বাঁলিশা গ্রামের সালিশী বৈঠকে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী ল ীগ নেতা আব্দুল মালেক ব্যাপারীকে মারধর করে যুবলীগ ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। ২৫ আগস্ট ফেনী শহরের বিসিক এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ উদ্দিন তোফায়েল, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, জাহিদ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম আরিফকে আটক করে পুলিশ। ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটার পৌর বাজারে বিএনপির পৌর যুগ্ম-আহবায়ক জিয়াউর রহমান ফাহিমের দোকানে হামলা করে যুবলীগ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মামুন। 

শ্রমিক লীগ : ২৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় বিএনপির মিছিলে অংশ নেয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে হুমকি দেয় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন।  

স্বেচ্ছাসেবক লীগ : ১৪ আগস্ট ঢাকার সাভারে শাহীবাগ এলাকায় দৈনিক তৃতীয়মাত্রা পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি সোহেল রানার উপর হামলা করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেল আহমেদ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। 

কিশোার গ্যাং : ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং লিডার ‘টেনশেন গ্রুপের’ রাইসুল ইসলাম সীমান্ত, নাঈম মিয়া, হাসান পারভেজ মিয়া, আবির বিন হাকিম, রাহাত ও রিয়াদুল ইসলামকে অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব-১১। ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে কিশোর গ্যাং লিডার বাবু, আশিক, রাসেল, মেহেদী হাসান, রাকিব ও ইব্রাহিমকে আটক করে র‌্যাব-১১। নীলফামারীরর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অপহৃত তমাল রায়কে উদ্ধারসহ কিশোর গ্যাং লিডার ফিরোজ, জীবন ও সোহেলকে আটক করে র‌্যাব-১৩। ১৯ আগস্ট কুমিল্লা শহরের শিশু পার্কের পাশে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে নিহত হয় শাহাদাত হোসেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে রতন, আকাশ হোসেন, সিয়াম হোসেন, তানজীদ, ইয়াসিন আরাফাত রাসেল ও আসিফ হোসেন রিফাতকে আটক করে। ২১ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার আউচপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় সুমন মাহমুদ তানন নিহত এবং সালাহ উদ্দিন আহত হয়। পরে পুলিশ আসামী ধরতে গেলে তাদের হামলায় তিন পুলিশ আহত হয়। পুলিশ কিশোর গ্যাং লিডার ইসমাঈল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সাকিব ও মোবারক হোসেনকে আটক করে।    আটকের সময় তারা পুলিশের উপর হামলা করে। ২৩ আগস্ট ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইদ্রিস খান রোডে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে রকিব ছুরিকাহত হন। স্ত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে তাকে ছুরিকাহত করা হয়।  

বিএনপি : ১ আগস্ট ভোলা শহর থেকে বিএনপি ১০৮ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ৭ আগস্ট বগুড়ার কাহালু পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানকে সাময়িকভাবে বরখস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জসীট হওয়ায় তাকে বরখস্ত করা হয়। ২৩ আগস্ট নোয়াখালী সদরে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির সমাবেশ থেকে ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ এবং তাতে ৮ পুলিশ আহত হয়। ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে পুলিশ বিএনপি নেত্রী শরাবান তহুরা ফেরদৌস কলি, জান্নাতুল নাঈম রিপু, ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন, বিএনপির পারভেজ, এমরান ও জোবায়েরকে পুলিশ আটক করে। ২৮ আগস্ট নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির মঞ্জুরুল আলম, চাঁন মিয়া, আব্দুর রশীদ, আব্দুর রহমান, নূরনবী চৌধূরী, ইসমাঈল হোসেন রতন, তোফায়েল আহমেদ, সুফল, জসিম উদ্দিন, সালমান মুহাম্মদ আহসান ভূঁইয়া, আব্দুল মোতালেব ও নূরনবীকে আটক করে পুলিশ। 

জামায়াত : ১ আগস্ট গাজীপুর মহানগর জামায়াতের মিছিল থেকে ১৭ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। জামায়াত গ্যাস ও বিদ্যুতের বিপর্যায়ের প্রতিবাদে মিছিল বের করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী আফজাল হোসাইন, গাছা থানা আমির আব্দুল মোতালিব, টঙ্গী থানা আইন বিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ৪৩নং ওয়ার্ড সভাপতি শামিম আল মামুন, ৫৪নং ওয়ার্ড সভাপতি জালাল উদ্দিন, ৪৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু সুফিয়ান, ওয়ার্ড সেক্রেটারী সানাউল্লাহ, মহানগর নেতা রহমত উল্লাহ, আশরাফুল আলম রাজু, আব্দুস সালাম, জাকারিয়া খান, আতিকুর রহমান মুকুল, নাজমুল হক, ইমরান, আব্দুল্লাহ, আশরাফুল আলম ও সিরাজুল ইসলাম। ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর হামজাবাগ সঙ্গীত মোড়ে জামায়াতের মিছিল থেকে নুরুল আজিম, মঞ্জুর আলম, মকবুল হোসেন, রোকন উদ্দিন ও আব্দুল বারেককে আটক করে পুলিশ। 

জেএমবি : ১১ আগস্ট কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২০ মে ২০১৬ ঘটিত সানাউর রহমান হত্যা মামলায় মামলায় জেএমবির আজিজুল ইসলাম, জয়নাল সরদার, সাইফুল ইসলাম খান ও সাইজুদ্দিন কাজীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। 

 

জেএসএস : ২৪ আগস্ট রাঙ্গামাটির লংদুর কাট্রালী মৌন এলাকায় জেএসএস-ইউপিডিএফ সংঘর্ষে ইউপিডিএফ সদস্য শ্যামল চাকমা নিহত হয়। (সমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ