মঙ্গলবার ২৯ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

গুম ও নিখোঁজদের বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত-মানবাধিকার কমিশনের 

 

স্টাফ রিপোর্টার: গুম ও নিখোঁজদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ পূর্তিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান। সভায় মানবাধিকারকর্মী, বিভিন্ন সংস্থার সদস্য, মানবাধিকার কমিশনের সদস্যসহ কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুমের অভিযোগ ও দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ জানানো নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

নাছিমা বেগম বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারপারসন যখন এসেছিলেন আমরা কমিশনের সদস্যরা তার সঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের কার্যক্রমগুলো দেখেছেন। আমাদের সঙ্গে তার কথোপকোথন হয়েছে। আমরাও মনে করি যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত। কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা হোক। কমিশন যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে, সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এজন্য পৃথক কোনো কমিশন গঠনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমলা হওয়া যে এতো অপরাধ আগে জানতাম না, আমলারা যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে না, আমলা হলে আর কিছু করতে পারে না, মানুষের জনসেবা করতে পারবে না, এটা বুঝতে পারছি না।

২০১২ থেকে এখন পর্যন্ত ১১৯ গুমের অভিযোগ এসেছে জানিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কাছে ১১৯টি গুমের অভিযোগ এসেছে। এর মধ্য থেকে ফেরত এসেছে ২৮ জন ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ৬২টি অভিযোগ আমাদের কাছে সরাসরি করা হয়েছে। ৪৮টি অভিযোগ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। আর আমরা নিজেরা গণমাধ্যমে দেখে ৯টি অভিযোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সরাসরি ৬২ টি অভিযোগ যারা করেছেন, তাদের অনেকেই পরে আর যোগাযোগ করেননি। আমাদের এখান থেকে যখন তারিখ দেয়া হয় এবং কথা বলা হয় তখন অনেকে বলেছে তারা ফেরত এসেছে। আবার অনেকের আগ্রহ নেই, অনেকে ফোনও ধরে না; এরকম একটি অবস্থা। আইনের সীমাবদ্ধতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতিবেদন না পাওয়াকে নিজেদের কাজের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরই করোনা মহামারি শুরু হয়। ইবোলা ভাইরাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনাকালে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। তখনকার সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের শ্রমিকদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছিল। করোনা ছড়াবে এ কথা বলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। তখন তাদের করোনা পরীক্ষা করে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ