শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

অস্ত্রোপচারের পর সালমান রুশদি ভেন্টিলেশনে, কথা বলতে পারছেন না

 

সংগ্রাম ডেস্ক: নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাতের পর ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ভেন্টিলেশনে (কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া) আছেন। কথা বলতে পারছেন না। তার এক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।  বিবিসি, রয়র্টাস।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু ওয়াইলি নামের সালমান রুশদির ওই কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন, সালমান রুশদি একটি চোখ হারাতে পারেন। তিনি বলেন, রুশদিকে নিয়ে ‘ভালো খবর নেই।’ অ্যান্ড্রু ওয়াইলি বলেন, সালমান রুশদি সম্ভবত একটি চোখ হারাতে পারেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বুকারজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার আঘাত করেছেন হামলাকারী। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শিটোকোয়া ইনস্টিটিউটের মঞ্চে সালমান রুশদির ভাষণ শুরুর আগমুহূর্তে তার ওপর হামলা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে তখন উপস্থিত ছিলেন প্রায় আড়াই হাজার দর্শক। হামলার সময় তাৎক্ষণিকভাবে অনেকে ঠিক কী ঘটছে, তা বুঝতে পারছিলেন না। সালমান রুশদি মেঝেতে গড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের কেউ কেউ তার কাছে ছুটে গেছেন। 

ঘটনার সময় দর্শকসারিতে ছিলেন রাব্বি চার্লস সাভেনর নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি (হামলাকারী) দৌড়ে মঞ্চে উঠে যান এবং রুশদিকে আঘাত করতে শুরু করেন। মার্কিন একটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদকের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার আঘাত করা হয়েছে।

একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাভেনর বলেন, ‘প্রথমে ভাবছিলাম কী চলছে? এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরোপুরি স্পষ্ট হয় যে তাকে পেটানো হচ্ছে।’ সাভেনরের মতে, প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে হামলা চলেছে। 

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সালমান রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ নামক বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার জেতেন তিনি। তবে ১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য তাকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে বেশির ভাগ সময় তাকে সরকারের সুরক্ষা নিয়ে থাকতে হয়েছে। ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা। এটি প্রকাশের পর থেকে সালমান রুশদি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। বইটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি সালমান রুশদির মৃত্যুদ-ের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে সালমান রুশদিকে নাইট উপাধি দেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

রুশদির হামলাকারী হাদি সম্পর্কে যে তথ্য জানা গেল: বুকারজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদিকে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে হাদি মাতার নামের এক সন্দেহভাজন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। বয়স ২৪ বছর।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে হাদি মাতার সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদি মাতারের তৎপরতা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তরুণ কট্টরপন্থী শিয়াদের প্রতি সংবেদনশীল। ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নীতিমালার প্রতিও সহানুভূতিশীল তিনি।

আইআরজিসি ও হাদি মাতারের মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ না থাকলেও তদন্তকারীরা হাদি মাতারের একটি সেলফোনের ম্যাসেজিং অ্যাপে ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ছবি খুঁজে পেয়েছেন। ২০২০ সালে হত্যার শিকার হন কাসেম সোলাইমানি। 

পুলিশের ধারণা, হাদি মাতার একাই হামলা চালিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনো বিভিন্ন বিষয়ে তল্লাশি চালানোর অনুমতির অপেক্ষায় আছে। ঘটনাস্থলে একটি ব্যাকপ্যাক শনাক্ত হয়েছে। সেখানে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসও ছিল।

হাদি মাতার নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকার বাসিন্দা। তার জাতীয়তা কী, অতীতে তার অপরাধের কোনো রেকর্ড আছে কি না, তাও জানার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে পৌঁছানোর আগে তার বক্তব্য দেওয়ার স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছিল সেখানকার কর্তৃপক্ষ। হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন একজন লেখকের জন্য কড়া নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে মনে করেছিল কর্তৃপক্ষ। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ