শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলো রাশিয়া

 

সংগ্রাম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের তরফে রাশিয়ার কোনও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের ইতি ঘটবে। এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে রাশিয়া। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক রুশ সম্পদের যে কোনও সম্ভাব্য জব্দের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার দারচিভ সংবাদমাধ্যম তাস-কে বলেন, ‘আমরা এই ধরনের কর্মকা-ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমেরিকানদের সতর্ক করছি। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর সেটি ওয়াশিংটন কিংবা মস্কো কারও স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রাশিয়ার ঠিক কোন সম্পদ জব্দ হওয়ার আশঙ্কার কথা বলছেন সেটি অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেননি রুশ পররাষ্ট্র দফতরের এই কর্মকর্তা। তবে তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সমালোচনা করেছেন। আলেকজান্ডার দারচিভ বলেন, ‘ইউক্রেনের ওপর মার্কিন প্রভাব এমন মাত্রায় বেড়েছে যে, আমেরিকানরা ক্রমবর্ধমান সংঘাতে সরাসরি পক্ষ হয়ে উঠছে।’

এর কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে আর রুশ পরমাণবিক অস্ত্রসম্ভার পরিদর্শনের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ সংক্রান্ত চুক্তিতে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে যে শর্ত রাখা হয়েছিল সেটি ব্যবহার করেই এই চুক্তি তারা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

রাশিয়া চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহনে বাধা দিচ্ছে : রাশিয়া চিকিৎসা সামগ্রী আনতে বাধা দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ অভিযোগ করেছেন। খবর আরব নিউজের।

ভিক্টর লিয়াশকো বলেন, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গত সাড়ে ৫ মাস ধরে চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহনেও বাধা দিয়ে আসছে রাশিয়া। 

 

এর ফলে দখলকৃত শহর ও গ্রামগুলোতে ইউক্রেনীয়দের কাছে জরুরি ও প্রাণ রক্ষাকারী ওষুধ পাঠানো যাচ্ছে না। রাজধানী কিয়েভে শুক্রবার এপিকে ওই সাক্ষাৎকার দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো। এ সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার এ আচরণ নি:সন্দেহে একটি মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ। দেশটিতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। দেশটির অর্থনীতিও বিপর্যস্ত।

জেলেনস্কিকে কমেডি শোর মঞ্চে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন মেদভেদেভ : চলমান সংকট সমাধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তার পুরনো কমেডি শোর মঞ্চে ফিরে গিয়ে পুনরায় তার অভিনয় ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। শুক্রবার রুশ সাংবাদিক নাদানা ফ্রিডরিখসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ একথা বলেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এখন জেলেনস্কির সামনে দুটি পথ খোলা আছে ১. তিনি তার পুরনো কমেডি শোর মঞ্চে ফিরে গিয়ে পুনরায় তার অভিনয় ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে পারেন অথবা ২. তিনি সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।’

রাশিয়ার নাগরিকরা যেন ইউরোপের কোনো দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেই আহ্বানের পর মেদভেদেভ জেলেনস্কিকে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার আগে পেশাদার কৌতুক অভিনেতা ছিলেন তিনি।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনে ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’ নামের একটি টিভি সিরিজ খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। হাইস্কুলের এক ইতিহাস শিক্ষক কীভাবে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠেন এই ছিল সিরিজটির মূল কাহিনী। জেলেনস্কি সেই টিভি সিরিজের প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। কমেডি শো এবং অভিনয় সূত্রে পাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয়তাই ছিল ২০১৯ সালের নির্বাচনে তার জয়ের মূল ভিত্তি।

তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি যে যুদ্ধ ইউক্রেনের শুরু হয়েছে, সেজন্য ইউক্রেনের অনেক রাজনীতিবিদ জেলেনস্কির রাজনৈতিক অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতাকেই দায়ী করেন। ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পিউতর পোরোশেনকো সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছে ক্রিমিয়া হারানোর পর থেকেই সামরিক সামর্থ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে গোপন আঁতাত শুরু করেছিল কিয়েভ, যা জেলেনস্কির সময় আরও বৃদ্ধি পায়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এই ঘোষণার দুদিন আগে ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি। শুক্রবার ছিল যুদ্ধের ১৬৫তম দিন। এই চার মাস সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লুহানস্ক, ইউক্রেনের দুই বন্দর শহর খেরসন ও মারিউপোল, দোনেৎস্ক প্রদেশের শহর লিয়াম, মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোরিজ্জিয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রুশ বাহিনীর হাতে। তথ্যসূত্র: আরটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ