বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

মুরগী ও কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম ছিল চড়া                              -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বেড়েই চলছে কাঁচা মরিচের ঝাল। ঈদের পর থেকেই কাঁচা মরিচের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে ২৫০টাকা কেজিতে ঠেকেছে। দাম কমানোর জন্য কাঁচা মরিচ আমদানি করলেও কোন অবস্থাতেই দাম কমছে না। এদিকে কাঁচা মরিচের পাশাপাশি শুকনো মরিচের দামও বেড়েছে। গত এক বছরে প্রতি কেজিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। অপরদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক পোয়া কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকাও বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের খেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কমেছে মরিচের। যার প্রভাব দামে দেখা যাচ্ছে। আড়তে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। তবে মরিচের এমন দাম খুব বেশি দিন থাকবে না বলে মনে করছে ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে শুকনো মরিচের দামও দফায় দফায় বেড়েছে। গত এক বছরে প্রতি কেজিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে এই পণ্যের প্রতি কেজির দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। গত এক সপ্তাহে শুকনো মরিচের প্রতি কেজির দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ।

গতকাল রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ১৬০-১৬৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৫৫ টাকা। আর প্রতি কেজি পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০-২৮০ টাকা। মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। এছাড়া কুরবানির ঈদের গোশত অনেকের ফুরিয়ে এসেছে। ফলে বাজারে চাহিদা বেড়েছে মুরগির। এ কারণে দাম বাড়ছে। 

এদিকে সবজির বাজারে দেখা গেছে, গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। গাজরের দাম কিছুটা কমলেও পাকা টমেটো গত সপ্তাহের মতো কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর মতো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটির। এক কেজি বরবটি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৫০-৭০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে কেজি ২০-২৫ টাকা, আর পটল ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে করলা, কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা। এসব সবজি ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজিও ৪০-৫০ টাকার মধ্যে আছে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

মাছ বাজারে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকায়। ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি তেলাপিয়া, পাঙাশ। শিং মাছের কেজি ৩০০-৪৬০ টাকা। শল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকায়। কৈ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৩০০-৪৫০ টাকা। ঈদের পর এসব মাছের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৭০০-৮০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর গোশতের দামেও তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। গরুর গোশত ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে আর খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ