মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে চীন

সংগ্রাম ডেস্ক: দফায় দফায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে চরমে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তাইওয়ানের উত্তেজনার পারদ। এবার কার্যত তাইওয়ানকে ঘিরে ধরে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টা থেকে চীন এই মহড়া শুরু করে। জল, স্থল ও আকাশে চলছে এই মহড়া। এই পরিস্থিতিতে গোটা তাইওয়ানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রয়টার্স

তাইওয়ান প্রণালীর উপর দিয়ে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করে একের পর এক উড়ে যাচ্ছে চীনা যুদ্ধবিমান। যুদ্ধ জাহাজসহ অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে কার্যত তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে চীন। তাইওয়ানের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখা হয়েছে সারি সারি যুদ্ধজাহাজ।

চীন যেভাবে আক্রমনাত্মক মহড়া শুরু করেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাইওয়ান। নৌ ও স্থলসেনারা লাগাতার গোলাবারুদ ছুঁড়ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। তাইওয়ান প্রণালীতে নিক্ষেপ করা হচ্ছে একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল। সামান্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেই তা তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ান প্রণালী চীনের মূল ভূখণ্ড এবং তাইওয়ানকে আলাদা করেছে। মহড়ায় নেমেছে চীনের স্থলসেনাও। চীন লিবারেশন আর্মি অবশ্য জানিয়েছে, এটি তাদের রুটিন মহড়া। মূল ভূখ- থেকে সমুদ্র লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়া হচ্ছে।

তাইপেই জানিয়েছে, তাইওয়ানের উপর দিয়েও দফাফ দফায় মিসাইল ছুঁড়ছে চীন। তাইওয়ান পার করে যা সমুদ্রের পানিতে গিয়ে পড়েছে। জাপানের অভিযোগ, সমুদ্রে অবস্থিত জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনে প্রপেলড মিসাইল ছুঁড়েছে চীন। বস্তুত, তাইওয়ান থেকে জাপানে গেছেন ন্যান্সি পেলোসি। তার যাত্রার অব্যবহিত পরেই ওই মিসাইল ছুঁড়েছে চীন। বুঝিয়ে দিয়েছে, পেলোসির তাইওয়ান সফরের জবাবেই তারা একাজ করছে।

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত মঙ্গলবার তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। গত ২৫ বছরে এই পদমর্যাদা বা তার ঊর্ধ্বের কোনও মার্কিন রাজনীতিক তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। গত ২৫ বছরে এই পদমর্যাদা বা তার ঊর্ধ্বের কোনও মার্কিন রাজনীতিক তাইওয়ান সফরে যাননি। বস্তুত, তাইওয়ানের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সরকারিভাবে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাইওয়ান স্বশাসিত একটি অঞ্চল। চীনের একাধিপত্য তারা মেনে নেয় না। গত কয়েক বছরে চীন তাইওয়ান এবং হংকংয়ের উপর চাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করেন।

ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান এলে তার ফল ভালো হবে না বলে আগেই সাবধান করেছিল চীন। চীনের সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পেলোসি তাইওয়ান যান। তারপরেই ভয়াবহ সেনা মহড়া শুরু করেছে চীন। তাইওয়ানের কার্যত নাকের ডগায় একাজ করা হচ্ছে। 

তাইওয়ানগামী ফ্লাইট বাতিল : তাইওয়ানের চারপাশে চীনের চলমান সামরিক মহড়ার কারণে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থা তাইপগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য দেশগামী ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। চীনের সামরিক মহড়ার কারণে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের প্রতিক্রিয়ায় চীন গত বৃহস্পতিবার এই সামরিক মহড়া শুরু করে। আগামী রোববার স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত দ্বীপটিকে ঘিরে ছয়টি অঞ্চলে এ মহড়া চলবে। এতে দৃশ্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তাইওয়ান।

এ মহড়ায় চীনের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। মহড়ার আকাশসীমা তুলনামূলক ছোট। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার পর এ অঞ্চলে চীনের সবচেয়ে বৃহত্তম মহড়ার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলে এই বিঘœ ঘটছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বড় ধরনের সামরিক মহড়া চলাকালে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়া এবং উড়োজাহাজের রুট পরিবর্তন সারা বিশ্বে নিয়মিত ঘটে থাকে।

তবে এ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। কারণ, চীনের এই মহড়া তাইওয়ানের দাবিকৃত ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিলোমিটার) আঞ্চলিক জলসীমাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। বিষয়টিকে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ এবং দেশটির সমুদ্র ও আকাশসীমা অবরোধ করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।

কোরিয়ান এয়ারলাইনস ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস মহড়ার কারণে গতকাল শুক্রবার তাইপে যাওয়া-আসার ফ্লাইট বাতিলের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোরিয়ান এয়ারলাইনস শনিবারের ফ্লাইটও বাতিল করতে যাচ্ছে আর বিলম্বিত করতে যাচ্ছে রোববারের ফ্লাইটগুলোও।

হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ ও ফিলিপাইন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইটগুলো তাইওয়ানের চারপাশে নির্ধারিত আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। এতে কিছু ফ্লাইটের গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে। ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা ওই আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে দেশটির উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।

তবে জাপানের এএনএ হোল্ডিংস ইনক (৯২০২.টি) এবং জাপান এয়ারলাইনস কো. লিমিটেড (৯২০১.টি) এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাইপে স্বাভাবিক সময়ের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে তারা যেসব এলাকায় মহড়া চলছে, সেসব এলাকার আকাশসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে। হংকং ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একইভাবে চলাচল করছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়, তাইওয়ানের বিমান সংস্থা চায়না এয়ারলাইনস ও ইভিএ এয়ারলাইনস শুক্রবার সকাল নাগাদ দ্বীপটিতে চলাচল অব্যাহত রেখেছিল। কার্গো পরিবহন ফেডএক্স করপ ও ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস ফ্লাইট চালু রাখলেও মহড়ার অঞ্চল এড়িয়ে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাইপের পথে এমিরেটস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিং ইনক ও টার্কিশ এয়ারলাইনসেরও ফ্লাইট চলাচল করেছে বলেও ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়।

চীন কি তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে : মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের পর চীনের সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে। তাইওয়ানের চারপাশে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া চালাচ্ছে বেইজিং। ছোঁড়া হচ্ছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে।  তাইওয়ানে পেলোসির ভ্রমণকে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভয়াবহ, বেপরোয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বেইজিং। এমন অবস্থায় চীন তাইওয়ানে হামলা করবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ সামরিক মহড়া আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে। চীন বলছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব এবং এলাকাগত অখ-তা বজায় রাখতে এ মহড়া চালানে হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে এ মহড়ার কারণে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়েছে। জাপান বলছে, চীনা বাহিনীর ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোনে (ইইজেড) পড়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট (আসিয়ান) সতর্ক করে বলেছে, যে পরিস্থিতি চলছে তাতে শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে হিসাব-নিকাশে ভুল হওয়া, গুরুতর বিরোধ, সরাসরি সংঘাত এবং অনিশ্চিত পরিণতির শঙ্কা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন একটি বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তিনি চীনের ‘একতরফা ও অযৌক্তিক সামরিক কর্মকা-’ নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তাইওয়ান সংঘাতে উসকানি দেবে না, তবে দৃঢ়ভাবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সুরক্ষা দেবে।

চীনের সামরিক মহড়া কতটা উদ্বেগের : চীনের উপকূল থেকে তাইওয়ানের দূরত্ব ১৮০ কিলোমিটার। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, তাইওয়ানের চারপাশে ছয়টি অঞ্চলে একই সঙ্গে সাগরে তাজা গোলার মহড়া এবং বিমান মহড়া চলছে। সিসিটিভির তথ্যানুযায়ী, বোমারু বিমানসহ শতাধিক যুদ্ধবিমান মহড়ায় অংশ নিয়েছে। চীনের মহড়াকে তাইওয়ানের পানিসীমার লঙ্ঘন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান। একে তাইওয়ান অঞ্চলের সাগর ও আকাশপথ অবরোধের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহড়ার প্রথম দিনে তাইওয়ানের চারপাশের জলসীমায় চীনা রকেট থেকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর এমন ঘটনা এবারই প্রথম। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অঞ্চলটি লক্ষ্য করে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এগুলো ডংফেং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে শনাক্ত হয়েছে।

জাপান বলছে, ইইজেডে কমপক্ষে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ভ্রমণকারী জাহাজ ও বিমানকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে বলেছে। বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে তাইওয়ান বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, মহড়া চলায় এক-দুই দিনের জন্য তাইওয়ানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান এয়ার এবং এশিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

তাইওয়ান কি চীনে আক্রমণ করতে পারবে, এটি কতটা কঠিন হতে পারে চীনের নজিরবিহীন মহড়ার কারণে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, বেইজিং তাইওয়ানে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে। বিশেষ করে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে যেসব বিশেষজ্ঞ মত প্রকাশ হচ্ছে তাতে দেখা গেছে, এ মহড়াকে ‘পুনর্মিলনের মহড়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর একটি প্রতিবেদনে চীনা মূল ভূখ-ের সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এখন যে অভিযানের মহড়া চলছে, তা ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধাভিযানে পরিণত করা হতে পারে। বিভিন্ন গুঞ্জন সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কেউই চায় না তাইওয়ানে যুদ্ধ হোক। অন্তত শিগগিরই যুদ্ধ বাধুক, তা তারা চায় না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক বোন্নি গ্লেজার বলেন, ‘চীনের রেডলাইনকে চ্যালেঞ্জ করে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানকে সতর্ক করতে চাইছে চীন। বোন্নি আল–জাজিরাকে বলেন, তাইওয়ানে অবরোধ আরোপের সক্ষমতা জানান দিচ্ছে তারা। তবে সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন না। তাইওয়ানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

চীন যদি জোর করে তাইওয়ানের দখলও নিতে চায়, তবে এতে উল্লেখজনক ঝুঁকি রয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ১০ হাজারের বেশি সেনা নিয়ে চীনা বাহিনীকে তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করতে হবে। তখন তাঁরা বিমান ও জাহাজ থেকে ছোড়া বোমা হামলার শিকার হতে পারেন। সেনারা যদি তাইওয়ানের উপকূলে পৌঁছেও যায়, তারপরও তীরে নামতে তাঁদের বেগ পেতে হবে। কারণ, অসমতল উপকূল রেখায় তাঁদের সশস্ত্র সেনা, সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও গোলাবারুদ নামানোর মতো উপযুক্ত তীর এলাকার সংখ্যা হাতে গোনা।

এ ছাড়া চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও বড় ধরনের সংঘাত বেধে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, দেশটি দ্বীপ অঞ্চলটিকে সহযোগিতা করতে বাধ্য। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন আক্রমণ করলে তাইওয়ানের সুরক্ষায় সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ