সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২
Online Edition

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম-এ ভুগছেন, কি করবেন?

পেট কিছুতেই পরিষ্কার হয় না। এটাকে বলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। আশপাশে খুঁজলেই দেখা যাবে যে, আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের শিকার অনেকেই। আইবিএস আসলে কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যনালী, নার্ভ-সহ সার্বিকভাবে গোটা শরীরের সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। সেখান থেকেই সিগনাল আসে ও তার ফলে বাওয়েল মুভমেন্ট হয় দ্রুত। তার পরেই আসে মলত্যাগের বেগ। কিন্তু এই সিগনালিংয়েই ফাংশনাল সমস্যা থাকলে তৈরি হয় আইবিএস। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, পেটের সমস্যা বা ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’-এর মূল কারণ লুকিয়ে আছে কিছু খাবারদাবারে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, চিজ বা পনির, বিশেষ ধরনের ডাল, গম, বিস্কুট, রুটি, পাউরুটি, রাই, কৃত্রিম মিষ্টির খাবার এবং কোলা জাতীয় পানীয়। কিভাবে এই রোগের হাত থেকে বাঁচা যাবে? প্রায়শই পেটব্যথা, ক্র্যাম্প, লাগাতার হজমের সমস্যা, কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য এর পরেই ডায়রিয়া, বদহজম এইসব সমস্যা দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। পেটের অন্যান্য কিছু অসুখেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, মলপরীক্ষা, কোলনোস্কোপি, এন্ডোস্কোপির মতো কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো হয়। তাতে বোঝা যায়, এই অসুখ আছে কিনা। তার পরই আইবিএস-এর চিকিৎসা শুরু হয়। এই অসুখের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না থাকলেও, দেখা গেছে যাঁরা দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের ৪০-৬০ শতাংশ অবসাদ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। আইবিএস-এ কোলন বা অন্ত্র মস্তিষ্ককে ভুল খবর পাঠায় বলেই গোলমাল হয়। এই অসুখের অন্য নাম স্প্যাসটিক বা ইরিটেবল কোলন। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় কিছু বদল এনে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। খাবারের ব্যাপারে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। দুধ ও গম জাতীয় খাবার খেলে পেটব্যথা বাড়ে। এ ছাড়া এক এক জনের এক এক রকম খাবারে সমস্যা হতে পারে। কারও গোশত খেলে সমস্যা হয়, কারও আবার নারিকেল, চিনি, মসুর ডাল। খেয়াল রেখে সেই খাবার বন্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া ক্যাফিন ও কোলা জাতীয় পানীয় বাদ দিলে ভালো। প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করা জরুরি। তরি তরকারি বেশি খেতে হবে, পেঁপে বেশ উপকারী। ইসবগুলের ভূষিও নিয়মিত খাবার অভ্যাস করতে পারেন। এসবে কাজ না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ