সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২
Online Edition

চিকিৎসক বলে কথা!

 মানব সেবাকেই চিকিৎকদের ব্রত বলে মনে করা হয়। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শত্রু ও মিত্র নির্বিশেষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরোগ্য দান ও বাঁচানোর চেষ্টা করাই একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব। কিন্তু সে চিকিৎসকই যদি মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তখন আর মূল্যবোধের কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সম্প্রতি এমনই একটি খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে হাসি আক্তার (৩৫) নামে এক প্রসূতিকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কটিয়াদী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত রেনেসাঁ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুল হক সোহাগকে আসামী করে গত ১৩ জুলাই কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের স্বামী হারুন মিয়া। 

এ বিষয়ে হাসি আক্তারের বক্তব্য হলো, তিনি গত ২৬ এপ্রিল কটিয়াদী রেনেসাঁ হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই দিনই তার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। অপারেশনের সময় তার ও পরিবারের কারোর অনুমতি ছাড়া ডা. সোহাগ আমার জরায়ু কেটে ফেলেন। বাড়িতে আসার পাঁচ দিন পর সেলাই কাটার জন্য পুনরায় হাসপাতালে এলে ডা. সোহাগ জানান, তার অপারেশনের স্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। ফলে তাকে আবার ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক। তার পরামর্শ অনুযায়ী হাসী ভর্তি হয়ে ১৫ দিন চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়িতে চলে যান। অপারেশনের পর থেকেই তিনি ডান পা সোজা করতে পারেন না। মনে হয় কোথাও যেন রগ ছিঁড়ে যাচ্ছে। অপারেশনের স্থানেও ইনফেকশন রয়েছে। 

এমন অবস্থায় ভিকটিম মোবাইল ফোন থেকে ডা. সোহাগের নম্বরে ফোন দিয়ে সমস্যার কথা জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘তুই তো এখনো প্রাণে বেঁচে আছিস, তোকে চিকিৎসার সময় মেরে ফেলাই উচিত ছিল’। তিনি হুমকি দিয়ে আরও বলেছেন, আমি এই পর্যন্ত ১৪-১৫ জন রোগী মাইরা ফালাইছি। তোকেসহ আরও ২-৪ জন মাইরা ফালাইলেও আমার কিছু করতে পারবে না’। যা একজন চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচারণই নয় বরং ফৌজদারী অপরাধও। 

হাসি দাবি করেছেন, বিস্তারিত কল রেকর্ড তার কাছে রয়েছে। এমতাবস্থায় তার অঙ্গহানি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভিকটিমের স্বামী একজন গরিব মানুষ, তিনি কীভাবে তার চিকিৎসা করাবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমতাবস্থায় ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবার ডাক্তারের শাস্তি দাবি করেছেন। 

কটিয়াদী মডেল থানার এসআই ও অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডা. মাফুজুল হক সোহাগের বিরুদ্ধে প্রসূতি হাসি আক্তারের স্বামী হারুন মিয়ার করা অভিযোগটির তদন্ত চলছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু একজন প্রভাবশালী ডাক্তারের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র মানুষের অভিযোগের কতখানি নিরপেক্ষ তদন্ত হবে তা নিয়ে ইতোধ্যেই নানাবিধ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইন চলুক আইনের গতিতে সে প্রত্যাশা দেশের আত্মসচেতন মানুষের। তারপরেও তো আশঙ্কা থেকেই যায়। কারণ, চিকিৎক বলে কথা!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ