মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

হাসপাতালে আইসিইউ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ 

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। গত এক মাসে যেখানে সংক্রমণের হার ছিল এক শতাংশের নিচে, তা এখন প্রায় চার শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের চাপ সামাল দিতে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাসপাতালগুলোতে বিশেষ শয্যার পাশাপাশি ও আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে কোভিড সংক্রান্ত সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

গত বুধবার রাতে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে বিশেষ শয্যা, আইসিইউ ব্যবস্থা ও জনবল ছিল, তা বর্ধিত হারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, নো মাস্ক নো সার্ভিস নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম বর্জন করা প্রয়োজন। ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানগুলোতে (যেমন- মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যমে অনুরোধ জানাতে হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে দ্রুত বুস্টার ডোজ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘যারা এখনো বুস্টার ডোজ নেননি, শিগগির নিয়ে নিন। কারণ করোনা কিছুটা হলেও প্রতিদিনই বাড়ছে। আশপাশের দেশগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ছে। 

সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা কক্ষে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ওষুধ শিল্প সমিতির সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। জাহিদ মালিক বলেন, বুস্টার ডোজ নিলে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন। যারা নিয়েছেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তাই আমরা আহ্বান করব, যারা এখনও বুস্টার ডোজ নেননি, অতি শিগগির নিয়ে নিন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যের কোনো বিষয় চাপিয়ে দেয়ার নয়। এটা স্বাধীন দেশ, সব নাগরিকের স্বাধীন চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাদের অবহিত করা। টিকা নিলে কী সুবিধা, না নিলে কী অসুবিধা- এ বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরছি। বাকি সিদ্ধান্ত যার যার, এখানে চাপিয়ে দেয়ার কিছু নেই। আমরা চাপিয়ে দিতেও পারব না।

বৈঠক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে এটা আপনারা জানেন। সামনে যাতে ওষুধের দাম না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যই আজকের এ আলোচনা। যেহেতু অনেক কিছুর দাম বেড়েছে সেহেতু এর প্রভাব ওষুধ শিল্পেও পড়বে। ডলারের দামও বেড়েছে তেমনি বিদেশ থেকে নিয়ে আসা কাঁচামালের দামও বেড়েছে। আমরা সবকিছু নিয়েই আলোচনা করেছি। দেশে উৎপাদিত ওষুধের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, আলোচনায় আমরা সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছি যে, ওষুধের উৎপাদন বজায় রাখব। আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে, যে কোনো সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে নেবেন। এছাড়া আমাদের ওষুধের মানও তারা বজায় রাখবেন। পাশাপাশি ওষুধের দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন। সব শ্রেণির মানুষ যাতে ওষুধ কিনতে পারে এটিই আমাদের আলোচনার মূল বিষয়।

সভায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান পাপন এমপি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামানসহ বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ