রবিবার ২৬ জুন ২০২২
Online Edition

কপোতাক্ষের কান্না!

এইচ এম আব্দুর রহিম: জন্মের পর থেকে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে। এই নদের সাথে আমার জীবনের এত গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক অন্য কারো আছে কিনা জানি না। আমার বয়স যখন ছয় বছর তখন এ নদীর চরে খেলা করা অবস্থায় শুনলাম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছেন। ওই সময় দিন-তারিখ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকলে পরবর্তীতে বুঝলাম ওই দিনটি ছিল ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে। আমাদের গ্রামে তখন টেলিভিশন ছিল না। আমাদের গ্রামে প্রায় ৩ সহ¯্রাধিক লোকের বসবাস হলে রেডিও ছিল মাত্র একটা। অন্যান্য ছেলেদের সাথে গ্রামের অপর প্রান্তে ছুটে গিয়ে দেখি রেডিওর পাশে উৎসুখ জনতার ভিড়। সবার মুখে চোখে বিষন্নতার ছাপ, অনেকে নির্বাক, অনেক মুরুব্বির চোখের দিকে দেখলাম নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অনেক চোখ অশ্রুসিক্ত।

যাইহোক, যে বিষয়টি নিয়ে লেখাটি শুরু করলাম। মাইকেল মধু সূদনের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এক শ’ ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ নদটি প্রায় একশ’ কিলোমিটার ব্যাপী চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। যার গভীরতা ছিল স্থান বিশেষ একশ’ থেকে ১৫০ ফুট। এ নদের ভরাট অংশ দিয়ে হেঁটে লোকজন চলাচল করছে। নদটি কোনভাবে রক্ষা করা গেল না। এক সময় এ নদী দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালামাল ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে বহন করত। বিভিন্ন প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস স্বল্পমূল্যে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারতেন। মানুষের মধ্যে ছিলনা তেমন কোন অস্বস্তি। কিন্তু এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নদী কেন্দ্রিক অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। নদী কেন্দ্রিক পাইকারি মার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার ব্যবসায়ী পথে বসেছে। এ নদীটি ভরাট হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ভারত এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশের নদ-নদীগুলো শুকিয়ে গিয়ে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে জোয়ারের পানি সাগর থেকে উঠে নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক গুণ। ফলে ষাটের দশকে নির্মিত ওয়াপদা বাঁধগুলো আর রক্ষা করা যাচ্ছেনা। প্রতিবছর কপোতাক্ষ পাড়ের গোড়া নদীর ভাঙনে হাজার হাজার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে উজানে নদী মরে যাওয়ায় এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষীমহল এসব জায়গা দখল করে নিয়েছে। অথচ এসব জায়গা সরকারি বিধিমোতাবেক গরীবের মাঝে প্রতি পরিবারে তিন বিঘা করে জমি দিয়ে বন্দোবস্ত দেয়া যেত। কিন্তু তা করা হয় না। ফলে ধনী আরো ধনী হচ্ছে আর গরিব আরো গরিব হচ্ছে। আজ কপোতাক্ষ পাড়ে যে লাখ লাখ বিঘা জমি জেগে উঠেছে তা যদি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টন করা হত তাহলে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর জেলার প্রায় ৫০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করা যেত।

সরকারি বিধিতে আছে ভূমিহীন পবিরারের লোকেরা তিন বিঘা করে খাস জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে পারবে। কিন্তু প্রকৃত ভূমিহীনরা কিন্তু এ জমি মূলত: পায় না। কারণ, তিন বিঘা জমি বন্দোবস্ত নিতে হলে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয় সে সঙ্গতি অনেকের নেই। একটি ভূমিহীন পরিবার তিন বিঘা জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে নির্ভেজাল খাস জমি হওয়া লাগে। প্রথমে জমিটি শনাক্ত করে স্কেস ম্যাপ তৈরি করা লাগে। ম্যাপে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সুপারিশ লাগে। এরপর প্রস্তাবিত জমির অনুকূলে স্থানীয় তহশীলদারের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন এসিল্যান্ড বরাবর প্রেরণ করতে হয়। উপজেলা ভূমিহীন কমিটির মিটিংয়ে এটা আবার পাস করা লাগে। এরপর এ প্রতিবেদন এডিসি বরারবর প্রেরণ করতে হয়। সমুদয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এডিসি মহাদয় কবুলিয়াত সম্পাদনের জন্য সুপারিশ করে। অবশেষে রেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে কবুলিয়াত সম্পাদন করা হয়। এতগুলো কাজ সম্পাদন করতে কত টাকা খরচ হয় একমাত্র ভুক্তভোগীমহল ছাড়া অন্য কেহ অনুভব করতে পারে না। জমি জমা সংক্রান্ত ফাইল কোন টেবিলে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা লুফে নেয় তারা। টাকা ছাড়া ফাইল চলে না। প্রকৃত ভূমিহীনদের এ অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্যতো নেই। কাজেই একশ্রেণীর ধূর্তবাজ লোকেরা মূলত: বিভিন্ন কায়দায় কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি ভোগ দখল করে। আর ভূমিহীনরা ভূমিহীন থেকে যায়। এদিকে কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে আগা নদী চিনার কোন উপায় নেই। এক সময় লঞ্চ, ষ্টিমার, গয়না নৌকা, পাল নৌকা চলত এ নদী দিয়ে। মাঝি ভাটিয়ালি সুরে গান গেয়ে অশান্ত হৃদয় শান্ত করত। এখন এসব স্মৃতি! বড় বড় নৌকাগুলো যারা তৈরি করেছিল তারা আগা নদীতে চলাচল না করতে পেরে অবশেষে বিক্রি করে দিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এক সময় এ নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এসব মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠান হত। গোড়া নদী যেটুকু সচল সেটুকুতে ব্যাপকভাবে জাটকা নিধনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাশোয়ারা নিচ্ছে। যে কারণে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকারিভাবে কপোতাক্ষ নদের আগা নদী খননের কাজ করা হলেও পরবর্তীতে কোন ফলদয় হয়নি। ফলে এ কার্যক্রম বেশি দূর অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে কপোতাক্ষ নদের মত করুণ অবস্থা বিরাজ করছে অন্যান্য নদীগুলো- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, মহানন্দা, গড়াই, নদের পানি। ভারত উজানে স্থায়ীভাবে গঙ্গানদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তার গজল ডোবা বাঁধ, মনু নদীতে নলকাঁথা বাঁধ, খোয়াই নদীর উপর চাকমা ঘাট বাঁধ, বাংলা বন্ধে মহানন্দা নদীর উপর বাঁধ, গোমতি নদীর উপর মহারাণী বাঁধ এবং মুহুরি নদীর উপর কসসি বাঁধ নির্মাণ করে শুষ্ক মওসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে বছরের পর বছর। এছাড়া ১৫টি নদীর উপর ভারত কাঁচা বাঁধ নির্মাণ করেছে। বর্ষার সময়ে এসব অস্থায়ী বাঁধ কেটে দেয়া হয়। ভারতের এই পানি আগ্রাসনের কবলে পড়ে শুষ্ক মওসুমে দেশের নদ নদীগুলো পানি শূন্য হয়ে পড়ে। আর বাংলাদেশকে ভাসানো হয় পানি দিয়ে। এছাড়া সীমান্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভারত পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা তৈরি করে বাংলাদেশ অংশকে ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ভারতের কবলে পড়ে শত শত কোটি টাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত নদীর ভাঙনে পড়ে ওপারে জেগে উঠে ভূমি আর কখন ফেরত পাবে না বাংলাদেশ।

এভাবে বিগত ৫০ বছরে এভাবে বাংলাদেশ ৫০ হাজার বিঘা জমি হারিয়েছে। কিন্তু দেশের মূল্যবান জমি ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে ভারত আপত্তি জানায়। এসব জানার পরও সীমান্ত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে বালি কেটে নিয়ে যাওয়ায় সুরমা, কুশিয়ারা, মনু খোয়াই ধরলা, দুধ কুমার, মাতা মুহুরি, আত্রাই, তিস্তা পদ্মা গঙ্গা, ইছামতি নদরি ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসনিক এলাকায় বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ তালপট্টি নামে যে ভূখন্ডটি জেগে উঠেছে রোয়েদাদ অনুযাযী সেটা বাংলাদেশের অংশ হলেও সামরিক শক্তির জোরে ভারত বেদখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দক্ষিণ তালপট্টি নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের অংশ বা ভূখন্ড। মরহুম জিয়াউর রহমানের আমলে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের দক্ষিণ তালপট্টির ওপর তার সার্বভৌম দাবি করে। আন্তর্জাতিক আদালতে সঠিকভাবে বাংলাদেশের দাবি উত্থাপন করতে না পারায় তালপট্টি দ্বীপ এখন ভারতের হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দক্ষিণ তালপট্টিকে ‘নিউ মুর দ্বীপ’ এবং পূর্বাশা নামে অভিহিত করে তাদের বলে দাবি করে আসছিল। ১৯৮১ সালে ভারত সেখানে সর্বপ্রথম পতাকা উড়ায় এবং একটি অস্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প স্থাপন করে। এই অগভীর স্থানে ২৫ থেকে ৩০ বর্গমাইল বিশিষ্ট ভূমি জেগে উঠার সম্ভবনা রয়েছে। দক্ষিণ তালপট্টি আয়তনে ক্ষুদ্ররাষ্ট্র বাংলাদেশের অংশ হলে বিপুলাকার ভারত মানতে রাজী নয়। ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের ভূমিসহ অন্যন্য সম্পদের উপর ভারতের আগ্রাসী তৎপরতার অবসান ঘটেনি। একই চিত্র আমরা বঙ্গোসাগরের সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে ও আমাদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ভারত বন্ধুসুলভ সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে তাদের আধিপত্য চেহারাটাকেই স্বাধীনতা উত্তর ৫০ বছর ধরে দেখিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট বড় ৫৪টি নদীর অধিক আন্তর্জাতিক নদীর উজানে রয়েছে ভারত। 

নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ বহু পুরানো। এটি বেশি উচ্চারিত হয় গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজকে ঘিরে। শুকনা মৌসুমে এই ব্যারজ দিয়ে পানি আটকে দেয় ভারত। বর্ষা মওসুমের সব ব্যারাজের সব ফটক খুলে পানি ছেড়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে। গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মানুষ লিখেছেন, এবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, তার জন্য ভারত দায়ী। বাংলাদেশের পানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এ জন্য অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দায়ী। কেউ কেউ আবার এমন ও বলেছেন, বৃষ্টির পানি ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে আটকে ভারতে কেন নিজের ক্ষতি করবে? সাদা চোখে দেখলে দুটো বক্তব্যই সত্য। শুকনা মওসুমে ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে যেভাব পানি আটকে রাখা হয় তা বর্ষা মওসুমে করা হলে বাংলাদেশে এতটা বন্যা হতো না। কিন্তু গঙ্গা চুক্তিতে এমন বিধান তো আসলে নেই। চুক্তিতে শুকনা মওসুমে অল্প পানি ‘ন্যায়সংগতভাবে’ ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা বাংলাদেশ-ভারত করেছে। কিন্তু বর্ষা মওসুমে বেশি পানির বোঝা দুই দেশ ন্যায়সংগতভাবে বহন করবে এমন কোন বিধান গঙ্গা চুক্তিতে নেই। সমস্যাটা রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের চুক্তিগুলোতে। প্রকৃতিকে নিজের মতো চলতে দিলে বন্যার ক্ষতির চেয়ে লাভ হয়তো বেশি হতো বাংলাদেশের। ভারত বাংলাদেশের গঙ্গা চুক্তিগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে চুক্তির ধারাগুলো অববাহিকা ভিত্তিক নয়। 

বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে নদীকে যৌথ সম্পদের বিবেচনা করে অববাহিকার সব রাষ্ট্র মিলে সমন্বিতভাবে এর উন্নয়ন, ব্যবহার ব্যবস্থাপনা করে থাকে। লক্ষ্য থাকে যে কোন দেশকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, নদীর পানির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার করা এবং নদীটির এর প্রতিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা। ভারত বাংলাদেশের ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এর বহু কিছু করা হয়নি। এতে নেপালকে রাখা হয়নি। 

এমনকি উত্তর প্রদেশ ও বিহারে গঙ্গার পানি ব্যবহার সমন্বিত করা হয়নি। এসব রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের আগার পানি এক তরফা ব্যবহারের পর লেজের অংশে থাকা অবশিষ্ট পানি ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পানি বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় নিদারুণভাবে কম। শুষ্ক মওসুমে কম পানি পাওয়ার কারণে জিকে প্রকল্পসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণিবৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে। এছাড়া নিম্ন অববাহিকায় সমুদ্রের লোনা পানি আর ও ভেতরে ঢুকে নানা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। কয়েক দশক যাবৎ বাংলাদেশ চিন্তা করছে এই ক্ষতি এড়াতে বাংলাদেশ একটি গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ করবে কি না। তাঁরা এসব বিষয় জানেন কীভাবে নানা অজুহাতে তিস্তাসহ ৮টি অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি ৩৪ বছর ধরে ভারত ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ইতিহাস যাদের মনে আছে তাদের প্রশ্ন আসে স্বাভাবিকভাবে। এই বন্যার জন্য ভারত দায়ী করলে অতিশয়োক্তি মনে হতে পারে। অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন অতিশয়োক্তি করার মনোভাব দেশের মানুষের থাকতে পারে। কারণ নদীর পানি বাড়লে-কমলে প্রভাবিত হয় তার জীবন। এর আঁচ দেশের শাসকদের গায়ে লাগে না। সম্ভবত অন্তরেও আগে লাগে না আর। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো অভিযোগ করবে। তার মধ্যে কখন কখন অতিরঞ্জন থাকবে। কিন্তু এটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অতিরঞ্জনের স্বাভাবিক প্রতি বয়ান। এ জন্য মানুষ দায়ী না, দায়ী ভারত বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ