রবিবার ২৬ জুন ২০২২
Online Edition

সোনাচরের অপরূপ সৌন্দর্য্য ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের কাছে টানে

শাকুর মাহমুদ রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) : সমুদ্র কুলঘেষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য নিয়ে জেগে ওঠা সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্রের নাম ‘সোনারচর’। এর পাশেই রয়েছে চর হেয়ার দ্বীপ ও জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত। সবুজ বনকুংয়ন, পাখির কলোরব, বন্যপ্রাণীর ঝাঁক, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়নাভিরাম এক সৌন্দর্যের জগৎ সৃষ্টি হয়েছে এ চরটিতে। প্রায় ১০ হাজার একর আয়তনের এ চরে রয়েছে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। ফেনিল নোনা জলে ভেজা তটরেখায় চলে লাল কাঁকড়াদের ছুটাছুটি। একই স্থানে দাড়িয়ে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্ত আর সুর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের কুলঘেষে সোনারচরের অবস্থান। নদী আর সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে সোনারচরে এসে এর সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করা যায়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নগর থেকে বহুদূরের এই সৈকতের সৌন্দর্য এখনও অনেকের কাছেই অজানা। সোনারচর ও চরহেয়ারের আকর্ষণ যেকোন মানুষকেই কাছে টানে। এখানে পা না ফেললে এটা বোঝার উপায় নেই কোন দর্শনার্থীর।

দেখা যাবে যা কিছু: একই স্থানে দাড়িয়ে দেখা যাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ লালিমা। দেখা যাবে লাল কাকড়া দলের অসাধারণ শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে হরিণ, বুনো মহিষ, মেছো বাঘ, শুঁকর, উদসহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি। শীত মৌসুমে স্থানীয় পাখির দলে যোগ দেয় হাজারো অতিথি পাখি। সাইবেরিয়ান হাঁস, সরাইল, গাঙচিলসহ নানা জাতের পাখির আগমন হয় তখন। এছাড়াও অগণিত চ্যানেল রয়েছে সোনার চরের আশে পাশে। এসব চ্যানেলে পর্যটকরা ঘুরতে পারেন নৌকা অথবা ট্রলার নিয়ে। চ্যানেলের দু’পাশ জুড়ে বহু পুরনো ম্যানগ্রোভ আর ঝাউ বন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি চরের কোলঘেষে অবস্থান মওসুমি জেলেদের। শুকনো মৌসুমে নানা স্থান থেকে ব্যবসার জন্য এই চরটিতে আশ্রয় নেয় অগণিত জেলে। এসব দেখে মনে হবে এক অন্যরকম জগৎ।

নামকরণ: সোনারচরে স্বর্ণ না থাকলেও আছে স্বর্ণালি রঙের বালু আর মৃদু বাতাসের নৃত্য। সকাল কিংবা শেষ বিকেলের রোদের আলো চরের বেলাভূমিতে পড়লে দূর থেকে পুরো দ্বীপটাকে সোনালি রঙের থালার মতো মনে হয়। বালুর ওপরে সূর্যের আলোয় চোখের দৃষ্টিতে সোনারঙ আভা ছড়িয়ে যায়। মনে হবে দ্বীপটিতে যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। বিশেষ এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই দ্বীপটির নাম ‘সোনারচর’ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

যোগাযোগ পথ : সোনারচরে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও হয়ে ওঠেনি। জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে গলাচিপা উপজেলায় পৌঁছাতে হবে দর্শনার্থীকে। সেখান থেকে আগুনমুখা নদী পারি দিয়ে পৌছাতে হবে রাঙ্গাবালী উপজেলায়। এরপরে উপজেলার গহীনখালী খেয়াঘাট থেকে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ি দিয়ে ট্রলারে যেতে হবে সোনারচর। এছাড়াও কুয়াকাটা থেকে সরাসরি ট্রলার অথবা স্পিড বোট নিয়ে যাওয়া যায়।

থাকার জায়গা : সোনারচরে রাত্রিযাপনের নিরাপদ আরামদায়ক ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট্ট তিন কক্ষের একটি বাংলো। রয়েছে বন বিভাগের ক্যাম্প। এসব স্থানে রাতে থাকার সুযোগ রয়েছে। চাইলে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ট্রলারে মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে গিয়ে থাকার সুযোগ রয়েছে। সেখানে রয়েছে বন বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা স্যাপ-বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির বাংলো।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমার মহিব বলেন, রাঙ্গাবালীর সোনারচর, চরহেয়ার, জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বিকাশের সুযোগের অপেক্ষায়। আমি এ ব্যাপারে সংসদে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সোনারচরের ব্যাপারে অবগত আছেন। সোনারচর নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সোনারচর হবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ