রবিবার ২৬ জুন ২০২২
Online Edition

যমুনা চরে কৃষকদের তিল চাষে বিপ্লব

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনাচরের বড়চামতারা মাঠে দিগন্ত জোড়া তিল ক্ষেত

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের যমুনা দুর্গম চরাঞ্চলে কম শ্রম এবং কম খরচে উৎপাদন ভাল হওয়ায় তিল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে যাবে যমুনা চরের তিল চাষিদের ভাগ্য। গত কয়েক বছর ধরে চরাঞ্চলের তিল চাষিরা তিলচাষ করে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন। সরেজমিনে ঘুরে যমুনা চরের বেশ কয়েকটি গ্রামে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে তিল চাষ লক্ষ্য করা যায়। মাঠের পর মাঠ শোভা পাচ্ছে সবুজ চাদরে বিছানো তিল ক্ষেত। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তিল চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা চরে তিল চাষের বিপ্লব হিসেবেই গণ্য করা যাচ্ছে। তিল চাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয়না, গরু ছাগলে খায় না তাই রক্ষণাবেক্ষণে কোন খরচ হয় না। লাভজনক চাষ হওয়ায় যমুনার বালু চরে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তিল চাষে। এ তিল চাষ আরও বৃদ্ধি পেলে জেলার ভোজ্য তেলে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫/৬ মণ হারে তিল উৎপাদন হয়ে থাকে । প্রতি মণ তিলের বর্তমান বাজার মূল্য  থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ তিলে গড়ে ১৪ কেজি করে তেল পাওয়া যায়।

এছাড়াও তিলের তেল চুলপড়া কমিয়ে দিয়ে কেশ বৃদ্ধি করে, টাকপড়া থেকে রক্ষা করে, ত্বকের পক্ষেও উপকারী। হজমে ও সাহায্য করে তিলের তেল। উপকারিতার জন্য চীনের মতো প্রাচীনভারতে ও তিলের তেলের কদর ছিল। আয়ুর্বেদ মতে, তিলের তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথা ঠান্ডা থাকে। তিলের রয়েছে বহু ব্যবহার। তিলের খাজা খুব সুস্বাদু। তিলের খৈল জমির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি করে। তাছাড়া তিলের তেল দিয়ে সব ধরনের তরকারি রান্না করা যায়। 

যমুনাচরের বড়চামতারা গ্রামের তিল চাষি রেজাউল করিম বলেন, তিনি চরের বালু মাটিতে তিন বছর ধরে তিল চাষ করছেন। এবার করেছেন চার বিঘা জমিতে। তিল চাষে জমির উর্বর শক্তি বাড়ে। রাসায়নিক সার ও জমি নিড়ানির দরকার হয় না। সামান্য শ্রম ও অল্প খরচে প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মণ ফলন মেলে। জমি সমান করে তিলের বীজ ছিটালেই চলে। প্রতি বিঘায় প্রয়োজন ২ কেজি বীজ। সেচ, সার, নিড়ানি ছাড়াই তিন মাসের মধ্যে তিল ওঠে। তিলে কোন রোগবালাই না হওয়ায় কীটনাশকের দরকার হয় না। এক বিঘা জমিতে তিল চাষ করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করা যায়।

রতনদিয়া চরের তিল চাষি মকরম আলী জানান, প্রতি বছর দুই বিঘা জমিতে তিল চাষ করি। তিল বীজ বপনের পর একটা নিড়ানি ছাড়া কোনো খরচ নেই। তাই অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তিল চাষ করছি। আমাদের দেখাদেখি চরের অধিকাংশ কৃষক এ বছর তিল চাষ করেছে। আশা করি ফলনও ভাল হবে। 

 

শাহজাদপুর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, ‘আমরা উন্নত মানের তিল বীজ কৃষকদের মধ্যে সরবারহ করে তিল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। যমুনা চরের বালুমাটি তিল চাষের উপযোগী । যমুনা চরের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করায় এবার অর্থকরী ফসল হিসেবে গত বারের চেয়ে তিল চাষ বেশি হয়েছে। মানুষ তিলের তেলব্যবহারে ও ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ