শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

যে কারণে শিশুটির নাম রাখা হলো ‘মিরাকল আয়েশা’

১৫ জানুয়ারি, বিবিসি : কাতারের দোহা থেকে উগান্ডার এন্টেবে যাচ্ছিল এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। এই ফ্লাইটে জন্ম হয় মিরাকল আয়েশা নামের এক নবজাতকের। নবজাতকটি যখন জন্ম নিল, তখন উড়োজাহাজটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ হাজার ফুট ওপরে।

মায়ের গর্ভে ৩৫ সপ্তাহ থেকে পৃথিবীর আলো দেখে নবজাতক। এই নবজাতকের মা উগান্ডার। তিনি সৌদি আরবে কাজ করেন, ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। আর এই ফেরার পথে সন্তান জন্ম দেন। এ জন্য তিনি সাহায্য পেয়েছেন দুই চিকিৎসকের।

প্রধানত যে চিকিৎসকের সাহায্য ওই মা পেয়েছেন, তিনি কানাডার নাগরিক। এই নারী চিকিৎসকও ওই ফ্লাইটে ছিলেন। তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর অধ্যাপক।

শিশুটির জন্ম হয়েছে গত ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু ওই নারী চিকিৎসক কানাডায় কোভিড-১৯ রোগীদের যেমন চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত ছিলেন, তেমনি উগান্ডায় গিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং দিতেও ব্যস্ত ছিলেন। ফলে চলতি সপ্তাহে ওই নবজাতকের ছবিগুলো প্রকাশ করেন তিনি। 

৫ ডিসেম্বর কানাডার ওই চিকিৎসক যখন উগান্ডা যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বেশ ক্লান্ত। ফলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু যখন তিনি শুনতে পান, ইন্টারকমে বলা হচ্ছে, ফ্লাইটে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না। তিনি বলেন, এমন ডাক শুনে আর সিটে বসে থাকতে পারেননি তিনি। সিট থেকে উঠে যান। ওই অন্তঃসত্ত্বার কাছে গিয়ে দেখেন সবাই তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বার পরিস্থিতি তখন জটিল হচ্ছিল। তিনি বলেন, তিনি আরও কাছে গিয়ে দেখেন ওই নারী সিটে শুয়ে আছেন। আর নবজাতকটি তাঁর গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসছে।

এই সময় কানাডার ওই চিকিৎসককে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন আরও দুজন। তাঁদের একজন অনকোলজির নার্স ও আরেকজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আবার বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ডক্টর উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ)। 

কানাডার ওই চিকিৎসক বলেন, নবজাতকটি বেশ কাঁদছিল। তিনি নিজে পরীক্ষা করার পর ওই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নবজাতককে আরেকবার পরীক্ষা করেন। এই নবজাতকটি মেয়ে। নাম রাখা হয়েছে মিরাকল আয়েশা। এই নাম মূলত কানাডার ওই চিকিৎসক আয়েশা খতিবের নামানুসারে রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ