শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

স্বাধীনতা-সংগ্রাম কিংবা সময়ের যে  কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষ ছিল অগ্রগামী ----অধ্যাপক হারুনার রশিদ খান

খুলনা ব্যুরো : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক হারুনার রশিদ খান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ ছিল এদেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। এই সকল মানুষের একটাই চাওয়া ছিল একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার। তাদের আশা ছিল বাংলাদেশ হবে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্র সমাজের প্রতিটি মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দিতে থাকবে সদা তৎপর। থাকবে না জাতিগত কোনো বিভেদ, হানাহানি কিংবা দুর্নীতি লুটতরাজ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্র হবে অগ্রগামী। আজ যখন আমরা প্রায় পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি, তখন আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মিলিয়ে নিতে হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রের জন্য পঞ্চাশ বছর সময় যেমন বেশীও নয়, আবার খুব কমও নয়। এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি মানুষের মৌলিক অধিকার তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা পূরণে মোটামুটি সক্ষমতা অর্জন করলেও আজও এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই সকল মানুষের প্রায় সবাই শ্রমজীবী। অথচ স্বাধীনতা-সংগ্রাম কিংবা সময়ের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষ ছিল অগ্রগামী। দুনিয়াবী ব্যর্থ মতবাদ দিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে ভুল বুঝিয়ে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে কেটে পড়ছে। যার বাস্তব প্রমাণ এই করোনাকালীন জাতির সামনে সুস্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং এই সকল শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না যতক্ষণ না, এদেশে ইসলামী শ্রমনীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। আজ এই কথা দিবালোকের মতো সত্যরূপে ফুটে উঠেছে। মহান বিজয় দিবসের ৫০ বর্ষ পুর্তি উদযাপন  উপলক্ষে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় স্থানীয় একটি মিলনায়তনে শ্রমিক পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

খুলনা মহানগরী সভাপতি মু. আজিজুল ইসলাম ফারাজী-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মু. আব্দুস সালাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-খুলনা মহানগরীর শ্রমিক নেতা আল ফিদা হোসেন,  মু. মাহফুজুর রহমান, মু. মশিউর রহমান রমজান, মু. শাখাওয়াত হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আলী হায়দার, গাজী গোলাম মোস্তফা, মাসুম বিল্লাহ মজুমদার, আসলাম শিকদারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথি এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের বিজয় উদযাপন তখনই সার্থক হবে যখন জনগণ তার ন্যায্য সব মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে। মানুষ তার মতপ্রকাশের অধিকার, ভোটের অধিকার, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকারসহ মানবীয় সব অধিকার যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিরে পাবে কেবল তখই দেশের বিজয় ফলপ্রসূ ও সার্থকতা পাবে।

বিশেষ অতিথি মু. আব্দুস সালাম বলেন, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা সর্বাত্মক মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে মহান বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতা ও মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও আমাদের প্রাপ্তির ফিরিস্তি খুব একটা সমৃদ্ধ হয়নি। সাম্যের পরিবর্তে বৈষম্য, ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অবিচার, আইনের শাসনের পরিবর্তে জুলুমবাজি আর গণন্ত্রের পরিবর্তে স্বেচ্ছাতন্ত্র জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে।

সভাপতি মু. আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, মহান বিজয় আমার জাতীয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিশে^র বুকে বাংলাদেশের নাম লিখেছিল এ দেশের কৃষক শ্রমিকসহ মুক্তিকামী জনতা। আজকের এ দিন বাংলাদেশের সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ