বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধতা দিতে মালদ্বীপের আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার: মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশী অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিতে দেশটিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। এ অনুরোধ রাখার আশ্বাস দিয়েছে মালদ্বীপ। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি শান্তির মডেল বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে এমন পররাষ্ট্রনীতি করেছেন যে, সবসময় শান্তির অগ্রদূত হিসেবে তিনি বিবেচিত। পৃথিবীতে সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ কমাতে শেখ হাসিনা প্রস্তাব দিয়েছেন এবং পৃথিবীর সব দেশ এটা গ্রহণ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী, চিকিৎসক নিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে চট্টগ্রাম ও মালে নগরীর মধ্যে সরাসরি শিপিং লাইন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম।
গতকাল বুধবার গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ইনোভেশন হাবের (ইএটিএল) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব মো. আবদুল করিম। এতে বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বিকারণ কুমার ঘোষ, ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান, ইএটিএলের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার শরিফ শিবলী সাদিক, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফিনান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট এ কে এম আব্দুল্লাহ। পরে পরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির কর্মকর্তা, দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বদেশেও চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমার সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সবগুলো সমস্যার সমাধান করেছেন। একটি গুলীও করা হয়নি আমাদের বর্ডারে। প্রধানমন্ত্রীর নীতি হচ্ছে, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যতদূর পারি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা আমরা করে যাচ্ছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের ছেলে-মেয়েদের কীভাবে উদ্যোক্তা বানানো যায়, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কালিয়াকৈরে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড সুন্দর প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। সেখানে কীভাবে মানুষকে সুযোগ-সুবিধা দেবে এবং উদ্যোক্তা তৈরি করবে সেটা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে ডাক্তার ও নার্স চেয়েছে তারা। ডাক্তার ও নার্স সেখানে যাবে। তারা বিশেষ করে স্পেশালিস্ট চাচ্ছে। কোভিডের সময় আমরা নার্স পাঠিয়েছিলাম। মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসেছেন। আমরা তাদের বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছি, এতে তারা রাজি হয়েছেন। তাদের দেশে আমাদের কিছু ডাক্তার-নার্স চাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই আমরা ৮০ জন নার্স দিয়েছি, তারা আরও চাচ্ছেন। মালদ্বীপ আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা আমাদের সাপোর্ট দেয় এবং আমরাও তাদের সাপোর্ট দেই। বিভিন্ন নির্বাচনে মালদ্বীপ আমাদের সবসময় সাপোর্ট দেয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সবসময় আমাদের সঙ্গে এক ও অভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপে যাবেন, সে বিষয়ে শলাপরামর্শ হচ্ছে।
ঢাকায় সফররত মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিমের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালদ্বীপে আমাদের অনেক অবৈধ কর্মী আছে। দেশটিকে বলেছি, আমাদের লোকগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। মালদ্বীপ আশ্বাস দিয়েছে, রাজি হয়েছে। তারা বলেছে, প্রবাসী অবৈধ লোকদের সেখানে বৈধকরণ প্রক্রিয়া চালু আছে। বেসরকারি হিসাবে মালদ্বীপে বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই দেশটির নির্মাণশিল্পে কর্মরত। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটিতে ৮০ হাজার বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে।
এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক বলছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মালদ্বীপ থেকে ১৫ হাজার ৯৭৭ জন কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন। তাদের মধ্যে ২০৫ জন নারী কর্মী ছিলেন। চট্টগ্রাম ও মালের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম ও মালের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মালদ্বীপ রাজি হয়েছে। এটি হলে ব্যবসা বাড়বে। আমাদের এখান থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র সেখানে যাবে। যাতায়াত সুবিধাও বাড়বে। আমরা সম্প্রতি সেখানে ফ্লাইট চালু করেছি। আমরা কানেকটিভিটি বাড়াতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ