সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ইউপি ভোট সফল ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে -সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার : সহিংসতা থাকলেও দেশব্যাপী চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। নির্বাচন ঘিরে গোলোযোগ ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আগামী ধাপের নির্বাচনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিইসি বলেন, সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন সফল হয়েছে। অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবুও নির্বাচনের মানদণ্ড যদি ভোটদান হয়, তাহলে আমি বলব নির্বাচন সফল। কারণ এ পর্যন্ত দুই ধাপের ইউপি নির্বাচনে গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সূচনা বক্তব্য দেন সিইসি। সভার শুরুতে তিনি নির্বাচনকে সফল দাবি করলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা রোধে আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইসি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত রয়েছেন।
সভার শুরুতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, এবারের ইউপি নির্বাচনে দুই ধাপে ২০টিরও বেশি দল অংশ নিয়েছে। আমরা দাবি করি, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচনগেুলোকে সামনে রেখে আজকের সভায় পর্যালোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সঠিক ও শক্তভাবে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।
এ বছরের মার্চে তফসিল ঘোষণা করলেও করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে ভোট নিতে দেরি করতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এ বছরের ২১ জুন শুরু হয় দশম ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের একাংশের ভোট। এ প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, করোনার কারণে নির্বাচন নিয়ে কষ্টের মধ্যে আছি। তারিখগুলো শিফট করতে হয়। সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করছে ইসি সচিবালয়।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে সিইসি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যারা নির্বাচনী দায়িত্বপালন করেছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য। যেখানে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না, নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল, সেসব জায়গার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, কোথাও কোথাও মারামারি হয়েছে, খুন-জখম হয়েছে। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন চালু রেখেছে এবং সেই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা আশ্বাস দেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা রোধে আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছি। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে। এলাকার মাস্তান যারা বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের আগাম গ্রেফতারের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।
তিনি জানান, এমপি-মন্ত্রীদের অধিকাংশই আচরণবিধি অনুসরণ করেন। দু’চার জন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে। তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্য। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অতীতে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতেও প্রয়োজনে মামলা করা হবে।
প্রথম দুই ধাপের ভোটে সহিংসতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব নির্বাচনি সহিংসতা রোধ করার জন্যে। একটিও সহিংস ঘটনা হবে না, মারামারি হবে না, এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। আমরা চেষ্টা করব এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা অসম্ভব এ কথার পুনরাবৃত্তিও ফের এই বিষয়টি আবারও স্মরণ করে সিইসি নির্বাচনি পরিবেশ ভালো রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ