সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘খুবই গুরুতর’

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘ভেরি ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল। চিকিৎসকরা মনিটরিং করছেন। তারা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। সরকার গত তিন বছরে তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রকে হরণ করার জন্য এ ক্যারিশম্যাটিক নেত্রীকে বন্দী করে রেখেছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। গুজবে কান না দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির, শ্যামা ওবায়েদ, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, অঙ্গসংগঠনের রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, সাদেক আহমেদ খান, হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ, মুজিবুর রহমান, লিয়াকত আলী, জাকির হোসেন রোকন, ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 যৌথ সভা শেষে খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ৮ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত সপ্তাহ থেকে গণঅনশন, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি শেষ করেছে তারা। ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসচির পর মির্জা ফখরুর ইসলাম আলমগীর এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আট দিনের কর্মসূচির মধ্যে বিএনপি দুই দিন এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ৪দিনের কর্মসূচি রয়েছে। বিএনপি ২৬ নবেম্বর খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা সারাদেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা এবং ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করবে। এছাড়া ২৫ নবেম্বর যুব দল, ২৮ নবেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দল, ৪ ডিসেম্বর ছাত্রদল এবং ৩ ডিসেম্বর কৃষক দল ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দল মানববন্ধন এবং ১ ডিসেম্বর মহিলা মৌন মিছিল করবে।
কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ম্যাডামের মুক্তি ও তার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আমরা আপাতত এই কর্মসূচি শুরু করছি বৃহস্পতিবার থেকে। এই কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেমন থাকছে তার শারীরিক অবস্থার ওপরে। প্রয়োজনে এই কর্মসূচি পরিবর্তন হতে পারে। সেটা আমরা যখন প্রয়োজন হবে সেসময়ে আমরা জানাবো।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে গত খুলনা, নরসিংদী, নাটোর, সাতক্ষীরা, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে গত ২২ নবেম্বর সমাবেশের কর্মসূচিতে পুলিশি বাঁধা ও হামলার ঘটনার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।
অসুস্থ খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ গুজবগুলো.. কালকে (মঙ্গলবার) আপনাদেরকে বলছি, এর কোনো ভিত্তি নেই। আজকে এখনো কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। আমার মনে হয় যে এটা অত্যন্ত কৌশলে কোনো মহল এই গুজবগুলো ছড়াচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে। তবে কারা এই গুজব ছড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি ফখরুল। তিনি বলেন, ম্যাডামের বিষয়ে আপনারা সরাসরি আমাকে ফোন করবেন, আমি আপনাদেরকে জানাব।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা কেমন- প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এখনো তিনি ওই অবস্থাতেই আছেন। স্টিল ইজ ভেরি ক্রিটিক্যাল। ডাক্তার সাহেবরা মনিটর করছেন, তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের পক্ষে যেটা সম্ভব, সেটা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা তারা করছে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, এখন যে অবস্থা, এই মুহূর্তেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকার তাকে পাঠাতে পারে। এজন্য সমস্ত দায় সরকারের। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, সরকারের ইচ্ছা নেই তিনি বেঁচে থাকুক। এজন্য বাইরে নেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সীমিত পরিসরের মধ্যে আমরা আন্দোলন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, একইসঙ্গে গণতন্ত্রকেও মুক্ত করবো।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ