সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বিলুপ্তির পথে জাতীয় ফুল শাপলা

নাজিরপুর (পিরোজপুর) : ক’জন দূরন্ত কিশোর বিল থেকে শাপলা তুলছে

আল-আমিন হোসাইন; নাজিরপুর (পিরোজপুর) : এক সময়ে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে ডোবা-নালায় এবং খালে বিলে, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার সমারোহ ছিল দেখার মতো। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে এমনিতেই জন্মাত প্রচুর পরিমাণে শাপলা-শালুক ও ড্যাপ নামের ফুল। দেশের উত্তরঞ্চলের  বিভিন্ন খাল বিল জলাশয় থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে আমাদের জাতীয় শাপলা ফুল। বর্ষা মওসুমের শুরুতে এ ফুল ফোটে। খাল-বিল-জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা। আবহমান কাল থেকে শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনেকেই এই সব তাদের খাদ্যের তালিকায় রাখত। শিশুরা তো বটেই সব বয়সের মানুষ রঙ-বেরঙের শাপলার বাহারি রুপ দেখে মুগ্ধ হতেন। এ সময় শাপলা ভরা বিলের মনমাতানো সৌন্দর্যে চোখের পলক যেনো এদিক সেদিক হতো না। বর্তমানে গ্রাম-বাংলায় বিভিন্ন খালে বিলে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ, অতি মাত্রায় নিচু জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল। কথা বলছিলাম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের চাতর গ্রামের ৭০ বছর বয়সের এক চাচা আমির হোসেন মোল্লার সাথে তিনি বলেন, একসময় আমরা যখন অভাব অনটনে পরতাম তখন ড্যাপের (শাপলার ফল) ভিতরের যে বিচিগুলো থাকতো সে গুলো ভাতের মতো রান্না করে খেতাম খুবি ভালো লাগতো, শুধু তাই নয় শাপলার ফল (ড্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ তৈরি করেও খেতাম। এবং বাজারে নিয়ে বিক্রিও করতাম। শাপলা ফুলের মাটির নিচের মূল অংশকে শালুক বল হয়। বর্তমান দেশে বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ কমে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ