ঢাকা, সোমবার 29 November 2021, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

`চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে ফাটল নয়, শাটার আপডাউনের দাগ'

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে ফাটল নয়, শাটার আপডাউনের দাগ বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. মাহফুজুর রহমান, যা উদ্বোধনের সময়ও ছিল।

আজ বুধবার ঢাকা থেকে যাওয়া একটি বিশেষজ্ঞ দল ফ্লাইওভার পরিদর্শনের পর দুপুরে তিনি এ কথা জানান।

প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, 'বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শনে পিলারে কোনো ফাটল পায়নি। তাই ২ দিনের মধ্যে ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হবে।'

বুধবার সকালে র‌্যাম্পটি পরিদর্শন করেন এর নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালটেন্ট লিমিটেড এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা।

পরে দুপুরে নগরীর আলমাস মোড় সংলগ্ন এলাকায় ম্যাক্স গ্রুপের কার্যালয়ে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ম্যাক্সের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, “ডিজাইনার প্রতিষ্ঠানের দল পরিদর্শন করেছে। উনাদের অবজারভেশন হল, কলামগুলোতে যে ফাটল দেখতে পাচ্ছি, সেটা ফাটল না। এটা কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট।

“কলামের সাথে টেক্সচারের কাস্টিংয়ের যে জয়েন্ট, সেই সাটারিংটা প্রপার পজিশনে ছিল না। কাস্টিং করার সময় ডিসপ্লেস হয়ে গেছিল। যার কারণে একটা স্পেস সৃষ্টি হয়। সাটার টু সাটার জয়েন্টে ফোম ব্যবহার করা হয়। যাতে কোনো ওয়াটার লিকেজ না হয়। সেই ফোমটা আছে। এতদিন হয়ত চোখে পড়েনি। অরিজিনালি এটা কোনো ফাটল না।”

নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিএমের পরিচালক শাহ জাহান আলম বলেন, “উপরে উঠে দেখলাম, ওটা ক্র্যাক না, কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। কনক্রিট করার সময় সেটা এক্সপোজ হয়ে যায়। ঢালাইয়ের সময় সাটারটা বের হয়ে আসে। মূল স্ট্রাকচারে কোনো সমস্যা নেই। নির্মাণ ত্রুটির কিছু না। তবে হয়ত আরও পলিশড হতে পারত কাজটা।”

বাইরে থেকে দেখা চিড়ের বিষয়ে তিনিও বলেন, “বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে সেটা ফোম। সাড়ে তিন বছর আগেও সেটা ছিল। হয়ত কেউ খেয়াল করেনি। তবে ভিতরে কোনো ক্র্যাক আছে কি না, তা আরও তদন্ত করে দেখব।”

র‌্যাম্পের অবকাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়নি দাবি করে মনির বলেন, “ফিজিক্যালি চেক করে কিছু পায়নি। আরও নিশ্চিত হবার জন্য যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে, ভেতরে কোনো ফাটল আছে কী নেই?

“উনাদের (ডিপিএম) পর্যবেক্ষণ এখনও শেষ হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লিখিতভাবে সিডিএকে জানাবে।”

হালকা গাড়ির জন্য ফ্লাইওভারের ওই র‌্যাম্পটি খুলে দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন মনির।

“তবে ভারী যানবাহন চলবে না। কারণ এটি ভারী যানবাহনের জন্য নকশা করা হয়নি। ভারী গাড়ি যাতে না উঠতে পারে সেজন্য র‌্যাম্পের মাথায় ব্যারিয়ার দিয়ে হালকা গাড়ি চলতে পারবে।”

ডিপিএমের পরিচালক শাহ জাহান বলেন, হালকা যানের জন্যই এই র‌্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এটার উপর দিয়ে বড় অনেক গাড়ি গেছে।

ডিপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ সোবহান বলেন, “আগেও ভারী যান চলাচল রিকমেন্ড করিনি, এখনও করছি না।”

ম্যাক্সের প্রকৌশলী মনির হোসেন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “র‌্যাম্পটা মূল ফ্লাইওভারের পর তৈরি করা হয়। প্রচণ্ড যানজট হয় বলে তখনকার সিডিএ চেয়ারম্যান অনুরোধ করেন যে এখানে একটা র‌্যাম্প দরকার।”

সেই কারণে মূল ফ্লাইওভারের সঙ্গে র‌্যাম্পের ধারণ ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

“যদি ফ্লাইওভারের সাথে তৈরি হত লোডিং ক্যাপাসিটি একই থাকত। এটা একটা ক্যান্টিলিভার পার্ট দিয়ে বক্স গার্ডার দিয়ে বিদ্যমান অংশের সাথে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ইউটিলিটি সংযোগসহ নানা কারণে ১৩ মিটার দূরে পাইল করা হয়েছে। এত জটিল এই ডিজাইন। তখনই বলা হয়, শুধু হালকা যানের জন্য এটা ডিজাইন করা। সিডিএ চেয়ারম্যান তাতে সম্মতি দেন।”

সোমবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই পুলিশ ওই র‌্যাম্পে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

মঙ্গলবার পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ফাটল দেখে র‌্যাম্পের নির্মাণ ক্রুটি অথবা নকশাগত ত্রুটি থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

আর ফ্লাইওভারটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, হালকা যানের জন্য তৈরি র‌্যাম্পে ভারী যান চলায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরনগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে বহদ্দারহাট মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার এ ফ্লাইওভারটি ২০১৩ সালে উদ্বোধন হয়। সিডিএ ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এ ফ্লাইওভার নির্মাণ করে।

ফ্লাইওভার নির্মাণের পর স্থানীয়দের দাবির মুখে র‌্যাম্পটি প্রায় চার বছর পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্লাইওভারটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করে সিডিএ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ