শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে এলেন বিমানের পাইলটরা

স্টাফ রিপোর্টার : বেতন কাটা নিয়ে ক্ষুব্ধ পাইলটরা বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার থেকে চুক্তির বাইরে কোনো কাজ করছিলেন না রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বৈমানিকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি মাহবুবুর রহমান কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাইলটদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তারা। পাইলটদের বেতন সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
আগামী শনিবার বিমান পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাইলটদের দাবি তোলা হবে বলে আশ্বাস মিলেছে। “পাইলটরা আশা করছেন, সেখানেই দাবিগুলো মূল্যায়ন করে বেতন সমন্বয়ের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের কারণে পাইলটরা আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে,” বলেন মাহবুবুর।
এদিকে পাইলটদের কর্মসূচির সময় অন্তত বিমানের দুটি ফ্লাইট সময়মতো ছাড়েনি।
এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর বলেন, “সোমবার হয়ত দু-একটা ফ্লাইট ডিলে হতে পারে। গতকাল এরকম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখন সবাই ঠিকঠাক মতোই কাজ করছেন।”
করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর গত বছর বিশ্বের আকাশপথে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বেতন কমিয়ে আনে। তাতে ২০২০ সালের মে মাস থেকে পাইলটদের বেতন ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কাটা হচ্ছে।
এক বছরের বেশি সময় পর বিমান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও গত জুলাইয়ে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাটার আগের সিদ্ধান্তে নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে।
তবে পাইলটদের অভিযোগ, এই সমন্বয়ে তাদের আগের বেতন ফেরত আসেনি।
বিমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বাপার নির্বাহী পরিষদ সভায় বসেছিল গত জুলাই মাসে। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাইলটদের বেতন অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীর মতো সমন্বয় করা না হলে তারা আন্দোলনে নামবে। পরবর্তীতে বিমান কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করলে পাইলটরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা চুক্তির বাইরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বর্তমানে ১৫৭ জন পাইলট কাজ করছেন।
পাইলটরা জানান, বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাইলটদের মাসে ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাই করার কথা এবং মাসে ৮ দিন ছুটি পাওয়ার কথা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ