শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খুব পরিচিত নামও আসছে ॥ শিগগিরই প্রকাশ করা হবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, দেশের কয়েকটি স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে কিছু নাম বলেছেন। আরও নিশ্চিত হয়ে শিগগিরই তা জানানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন।
নোয়াখালীর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এমন নামও শুনবেন, যাঁরা আপনাদের খুবই পরিচিত ব্যক্তি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, অপরাধী অপরাধীই। তাঁদের কোনো ছাড় নেই।
আধিপত্য বিস্তার, মাদকসহ কিছু বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন আসাদুজ্জামান খান।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।
গতকাল একাধিক গণমাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূজামণ্ডপ-মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় চার জেলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে ৩৬ জনকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। জবানবন্দীতে রংপুর ও নোয়াখালীর ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে গ্রেফতারকৃতরা। সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কিনা সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। নিশ্চিত হয়েই জানাতে চাই।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, এ দেশ সবার। এ দেশে ধর্ম নিয়ে বৈষম্য হবে না। এ দেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা সেই আদর্শই ধারণ করে চলেছি। আমি দেখেছি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যার যার ধর্ম পালন করে আসছেন এখানে। কিন্তু ইদানিং দেখি, পূজামণ্ডপে সহিংসতা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে কে বা কারা কুরআন শরিফ রেখে দিয়ে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একটা উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘কুরআন শরিফ রাখার পর আমরা এ ঘটনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম, আমাদের পুলিশের সব পর্যায়ের টিম সেখানে পাঠিয়েছিলাম, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়। আমরা দেখলাম, মসজিদের পাশে একটা পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হতো। পুকুরের মাছ চাষি মসজিদের বারান্দায় একটা ক্যামেরা বসিয়েছেন। যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, কেউ মসজিদ থেকে কুরআন নিয়ে হনুমানের গদার স্থানে রেখে গদা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যখন এ ঘটনা সামনে চলে এলো, তখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি, তার নাম প্রকাশ করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, জুমআ’র নামাযের পর অসুবিধা হতে পারে। আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বলেছিলাম, তার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেবেন এবং তারা তা করেছেন। আমাদের নামাযও ঠিকভাবে শেষ হলো। কিন্তু, দুইভাগে বিতর্ক শুরু হলো। একপক্ষ পুলিশের সামনে হল্লা শুরু করলো। আরেকপক্ষ পুলিশকে ব্যস্ত রেখে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করলো। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলো। সেখানে বেশ কিছু ভাঙচুর হয়েছে। ওই সময় পুকুরে ঝাঁপ দেয়ায় একজন মারা গেছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ সহিংসতা সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই। এর মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে একটি মহল। ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। অনেকের নাম জানা গেছে। খুব শিগগিরই কারা এসব ঘটিয়েছে তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ