শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে বাদ দিয়েই পর্দা উঠলো আসিয়ান সম্মেলনের

২৬ অক্টোবর, আল জাজিরা : মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-কে বাদ দিয়েই গতকাল মঙ্গলবার পর্দা উঠলো আসিয়ান সম্মেলনের। ভার্চুয়াল এই সম্মেলন থেকে তার বাদ পড়াকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের এই শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাননি বার্মিজ জান্তাপ্রধান। জোটের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে জান্তাপ্রধানের বদলে একজন অরাজনৈতিক প্রতিনিধির নাম দিতে বলা হয়েছিল। তবে ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন মিয়ানমার। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-ও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচ্যসূচির শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক মাত্রায় দমনপীড়নের বিষয়টি। গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা চলছে। ওই সময়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। দেশটির ভেতর ও বাইরে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। চলমান জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আটক হয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ। জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না : মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও দেশটিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিদায়ী দূত। সোমবার তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন এই ধরণের পদক্ষেপ মিয়ানমারকে অস্থিরতা এবং ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার দিকে ঠেলে দেবে। তিন বছর মিয়ানমারে দায়িত্ব পালন এই সপ্তাহে শেষ করেছেন ক্রিস্টিন শার্নার বার্গেনার। তিনি বলেন, ‘আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হাল ছাড়বে না। আমাদের মানুষের সঙ্গে থাকা উচিত।’ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সোমবার মিয়ানমারে নতুন দূত হিসেবে সিঙ্গাপুরের নোয়েলেন হেইজারকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের সাবেক সিনিয়র কূটনীতিক।
গত সপ্তাহে শার্নার বার্গেনার বলেন, মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে, গণতন্ত্র ফেরার সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে আর সেনাবাহিনীর আলোচনা কিংবা সমঝোতার কোনও আগ্রহই নেই। তবে সোমবার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জান্তা সরকার। তাদের দাবি বার্গেনারের বক্তব্য সত্য থেকে অনেক দূরে আর এ থেকে প্রমাণিত হয় জাতিসংঘ পক্ষপাত দুষ্ট। সোমবার মিয়ানমারের জান্তা সরকার পরিচালিত প্রশাসনের নাম স্ট্রেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (এসএসি) এর দিকে ইঙ্গিত করে শার্নার বার্গেনার বলেন, কেউ যদি এসএসি-কে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলে সহিংসতা থামবে না। সুইজারল্যান্ডের কূটনীতিক শার্নার বার্গেনার বলেন, মিয়ানমারে সব পক্ষের মধ্যে ‘সত্যিকার এবং সৎ সংলাপ’ প্রয়োজন। তবে তিনি মনে করেন, এই পদেক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে গেলে আগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে সরিয়ে এমন কাউকে আনতে হবে যিনি আরও বেশি গঠনমূলক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ