সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

জনগণের নিরাপত্তায় ব্যর্থ আ’লীগের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লার ঘটনা প্রসঙ্গে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব) অলি আহমদ বলেছেন, আমরা চাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক। এটা কারও বাপের দেশ নয়। কাউকে সুযোগ দেয়ার জন্য দেশ স্বাধীন করিনি। বাংলাদেশের দিকে চোখ দিলে বাঙালি সেই চোখ তুলে নেবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এলডিপির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের সভাপতিত্বে সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, ড. নিয়ামুল বশির, অ্যাডভোকেট মনজুর মোর্শেদ, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কুমিল্লার ঘটনা প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সরকার সরিয়েছে, তাদের সরানোর পরিবর্তে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত ছিল। তারা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। যার কারণে তাদের শেল্টার দেয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সরকার যদি মনে করত প্রকৃতপক্ষে ঘটনার জন্য তারা দায়ী, তাহলে তাদের অব্যাহতি দেয়া উচিত ছিল। এর থেকে কম শাস্তি হতে পারে না।
সরকারকে ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, জনগণ এই ক্ষমতা আপনাদের দেয়নি। জনগণ দিলে আমরা বাধা দিতাম না। তবে জাতির এই দুর্দিনে এলডিপির পক্ষ থেকে যে ধরনের সাহায্য প্রয়োজন তা করতে প্রস্তুত।
খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় শাস্তি দিয়ে সরকার তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে দাবি করে অলি আহমদ বলেন, আমরা আশা করব সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ন্যায় বিচার পাবেন। তিনিও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের কাছে বন্দী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কয়জন নেত্রী বন্দী ছিলেন? জিয়াউর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আমি তার পাশে বসেছিলাম।
বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত একটি জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে কর্নেল (অব.) অলি বলেন, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কুরআন শরীফ রাখার ঘটনা পাগল ইকবালের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়, এটি সরকারের কাজ। সরকার হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকার অধিকার রাখে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা অবৈধ সরকার। রাতের আঁধারে ভোট চুরি করে তারা সরকার গঠন করেছে। বাংলাদেশ এখন সবদিক থেকে বিবেচনায় সীমা অতিক্রম করেছে।
দুর্নীতির মাত্রা ছাড়িয়ে চরম আকার ধারণ করেছে। জনগণের ওপর অত্যাচারের মাত্রাও সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। লুটপাট-দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। অলি আহমেদ বলেন, সরকার মানুষের পকেট কেটে দুর্নীতি করছে। তারা মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে। বিদেশে টাকা পাচার করছে। বাকশাল কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব একটি জাতীয় সরকার গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নিজেদের অনুষ্ঠানে জোট শরিকদের কোনো নেতা উপস্থিত না থাকা প্রসঙ্গে মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ বলেন, আমরা নিজেদের অনুষ্ঠানে অন্য দলের কাউকে এনে প্রমোট করতে চাই না। তাই অনুষ্ঠানে শুধু দলের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা কি মনে করেন এটা পাগল ইকবালের কাজ? কখনোই না। পাগল ইকবাল কীভাবে বুঝল এখানে কুরআন শরিফ রাখতে হবে? সে কীভাবে বুঝল পূজামণ্ডপে কুরআন রাখা হলে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হবে। এটা তো পাগলের বোঝার কথা নয়। তাহলে পাগলের পেছনে বড় পাগল সরকার। এ ঘটনার পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে।
২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ জোটের প্রধান দল বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা একলা চলো নীতি অবলম্বন করছেন। আপনারা মনে রাখবেন ২০ দলীয় জোটকে বসিয়ে রাখলে বিকল্প পন্থায় আমরাও কার্যক্রমে লিপ্ত হবো। আমরাও কিন্তু বসে থাকবো না। আমরাও রাজনীতি করি। আমরাও দিন-দুনিয়ার খবর রাখি। দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে আমাদের ধারণা আছে। রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আপনারা অলি আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। তিনি দেশের বয়স্ক রাজনীতিক। তার কাছে তথ্য আছে।
২০ দলীয় জোটের প্রসঙ্গে রেদোয়ান বলেন, এই জোটের যে আন্দোলন করার কথা ছিল, বিএনপির যে উদ্যোগ নেয়ার কথা, তারা কিন্তু তা নেয়নি। এখনও সরকারের পতনের জন্য তারা ব্যাপক আন্দোলনে যাচ্ছে না। বক্তব্যে রেদোয়ান আহমেদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও এরপরের কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ