বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

নিজের বন্দুকের গুলীতে আত্মহত্যা বিজিবি  সদস্যের

স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহে বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে কর্তব্যরত অবস্থায় সোহরাব হোসাইন চৌধুরী  নামে এক বিজিবি সদস্য নিজের গুলীতে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খাগডহর এলাকার ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহরাব ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাশ পাদুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে।

বিজিবি-৩৯ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) পোস্ট দিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজিবি সদস্য সোহরাব নিজের বন্দুকের গুলীতে আত্মহত্যা করেন।” ঘটনাটি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান এ বিজিবি কর্মকর্তা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। “সোহরাব নামের ওই বিজিবি সদস্য নিজের বন্দুকের গুলীতে নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।”

এর আগে, নিজের বেতনের টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সোহরাব হোসাইন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতনটা ওই নামের ওপরই। ৭ বছর চাকরি, এখনও বাড়িতে গেলে ঠিকমতো একটু কোথাও যাওয়া হয় না, ছুটির সময়টাও চোরের মতো থাকতে হয়। তিনি আরও লেখেন, ‘কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল, মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মায়ের জন্য ওষুধ কিনব, সে টাকা আর হাতে নেই। পরে মামার কাছ থেকে ধার নিয়ে মাকে কিছু ওষুধ আর গাড়ি ভাড়া দিলাম। এমনটা প্রতিমাসেই হতে থাকে। না পারি নিজের খুশিমতো একটা জিনিস কিনতে কিংবা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে, না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি এতে বাজার করা কিংবা সংসার চালানো কতটা কঠিন বুঝানোর মতো না।’ স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে এখন ক্লান্ত উল্লেখ করে সোহরাব হোসাইন আরও লিখেছেন, ‘ছোট ভাইটা শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম তার জন্য কিছু করব, তার সুযোগ হয়নি এই জীবনে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন? কিন্তু মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতরটা দেখাতে পারি না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তাই বিয়ের চিন্তা করিও না। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি। তাও আর হয়ে উঠল না। ৭ বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার। আমার পরিবার, সহকর্মী, সিনিয়র-জুনিয়র, আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য। পারলে ক্ষমা করবেন। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ