রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সংকট সমাধানের বার্তা নেই

আধুনিক সভ্যতায় আমরা নানারকম শাসন দেখেছি। সেনাশাসন বা জান্তাশাসন তার একটি। জান্তাশাসনের জেনারেলরা সুযোগ বুঝে বড় বড় কথা বলে ক্ষমতা দখল করে নেন। অস্ত্রবলে বলীয়ান এই শাসকরা দম্ভের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের প্রকৃত সংকট উপলব্ধি করতে তারা ব্যর্থ হন। তারা মনে করেন, রক্তচক্ষু দেখিয়ে আর উন্নয়নের কিছু ঢাকঢোল পিটিয়ে তারা বছরের পর বছর দেশ শাসন করে যাবেন। আসলে জনগণের শক্তি সম্পর্কে বেখবর কোনো শাসক দেশের ক্ষমতায় দীর্ঘদিন অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না। জনসমর্থনহীন সরকার দেশ শাসনে যেমন ব্যর্থ হন, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও হয়ে পড়েন প্রশ্নবিদ্ধ। দেশে সংকটের মাত্রা বৃদ্ধি করে অবশেষে জান্তা সরকারকে বিদায় নিতে হয় অপমানজনকভাবে। ইতিহাসের এই শিক্ষা থেকে বার্তা নিতে চান না দাম্ভিক জেনারেলরা।
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের অপশাসনে ক্ষুব্ধ দেশের জনগণ। আসিয়ান কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের কোনো বার্তাই গ্রহণ করছে না মিয়ানমারের জান্তা সরকার। মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য। কিন্তু সেই আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে এবার মিয়ানমারের জন্তা প্রধন মিন অং হ্লাইং দাওয়াত পাচ্ছেন না। গত এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সম্মেলনে মিয়ানমারের সংকট নিরসনে জান্তা প্রধান আসিয়ানের সঙ্গে যে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, তার কোনোটিরই বস্তবায়ন হয়নি। ফলে আসিয়ান জোটের সদস্যরা হ্লাইং-এর উপর বেশ বিরক্ত। এ কারণে এবার দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি। গত শুক্রবার আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে চলতি মাসের শেষদিকে হতে যাওয়া শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে অরাজনৈতিক প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটের বর্তমান সভাপতি ব্রুনেই। অরাজনৈতিক প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো এ প্রস্তাবে জান্তা সরকার যদি সম্মতি না দেয়, তাহলে সম্মেলনে মিয়ানমারের আসন খালি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এপ্রিলে মিয়ানমার সংকটে আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে যে ৫টি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল সেগুলে হচ্ছে- সহিংসতার অবসান, সব পক্ষের মধ্যে একটি গঠণমূলক সংলাপ, সংলাপ সহজতর করতে আসিয়ানের বিশেষ দূত নিয়োগ, সহায়তা গ্রহণ ও এই দূতের মিয়ানমার সফর। আসিয়ান এরইমধ্যে এরিওয়ান ইউসুফকে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ইউসুফ চাইছেন মিয়ানমার গিয়ে অংসান সুচিসহ বিবদমান সর্বপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে ও কথা বলতে। কিন্তু জান্তা সরকারের মুখপাত্র জামিন তুন বলেছেন, ইউসুফকে মিয়ানমারে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু তাকে সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়া হবে না। এমন বক্তেব্যে তো সংকট সমাধানের কোনো বার্তা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ