ঢাকা, সোমবার 29 November 2021, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

ছাত্রজীবন: প্রকৃতি ও গুরুত্ব

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: 

ছাত্রজীবন

সাধারণত যে শিক্ষা গ্রহণ করে তাকেই শিক্ষার্থী বা ছাত্র/ছাত্রী বলা যায়। এ হিসেবে ছেলে থেকে বুড়ো প্রত্যেক জ্ঞান-অন্বেষী বিদ্যা শিক্ষার্থীই ছাত্র বা ছাত্রী। তবে বিশেষভাবে ছাত্রজীবন বলতে আমরা মানুষের জীবনের উন্মেষ কাল থেকে শুরু করে পরিণত মানুষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেই নিরবিচ্ছিন্ন সময়কালটিকে বলতে পারি যে সময়টাতে মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করার জন্য পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করে থাকে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, "ছাত্রজীবন" বলতে সেই শিক্ষাজীবনকে বুঝায়, যখন একজন শিক্ষার্থী কান একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদি) পদ্ধতিগতভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে। ছাত্রজীবন হল নিরবিচ্ছিন্ন জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষা গ্রহণের কাল। শিশুকাল থেকেই এ জীবন শুরু হয় এবং কর্মজীবনের আগ পর্যন্ত এ জ্ঞান সাধনার কাজে একজন মানুষকে নিমগ্ন থাকতে হয়। যথাযথভাবে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রজীবনের সমাপ্তির পরই শুরু হয় কর্মজীবন। ছাত্রজীবনে যে যত বেশি সফলভাবে জ্ঞানার্জন ও আত্মগঠনে সক্ষম হবে, যত বেশি কৃতিত্ব অর্জন করবে কর্মজীবনে সেই তত বেশি সফলতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে। এ কারণেই ছাত্রজীবনকে বলা হয় আত্মগঠন বা ক্যারিয়ার গঠনের সময়।

ছাত্রজীবনের প্রকৃতি ও গুরুত্ব

প্রকৃতিগতভাবে ছাত্রজীবন হলো মানবজীবনের সবচেয়ে সোনালী সময়। কারণ, এ সময়টাতে মানুষের শারীরিক শক্তি-সামর্থ থাকে অত্যন্ত উৎকর্ষপূর্ণ। এ সময়টা হল চির সবুজ ও চির তারুণ্যে ভরা এবং প্রাণ-প্রাচুর্যে পূর্ণ। এ সময়ে মানুষের শরীরে টগবগে তারুণ্য নিহিত থাকে, ফলে সে এ সময়ে জীবনকে গঠন করার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম ও সংগ্রাম-সাধনা ও অধ্যবসায় করতে পারে। এ কারণে এ সময়ের সদ্ব্যবহারই মানুষকে দামী করে তোলে।

সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। ছাত্রজীবনও তেমনি। আর ছাত্রজীবনের যে সময়কালটা, এটাকে শুধু সময় বললে কম বলা হবে, বলা উচিত মহামূল্যবান সময়। এটি এমন এক সময়, যে সময়কে অবহেলা ও অপচয় করলে সারা জীবন কেবল যে আফসোস করতে হয় তাই নয়, বয়ে বেড়াতে হয় গ্লানিময় এক অভিশপ্ত জীবন।

এ সময় মানুষ সাংসারিক দায়-দায়িত্ব বা সংসারের বোঝা বহনের যন্ত্রণা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকে। আর মন থাকে অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনা। তবে এই সময়টা দায়িত্বহীন নয়। কারণ এই সময়টাতেই মানুষের মৌলিক চারিত্রিক গুণাবলী গঠিত হয়ে থাকে। ভাল চারিত্রিক গুণাবলী, অভ্যাস ও শৃংখলা শেখার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। তাই স্টুডেন্ট লাইফ বা শিক্ষা জীবনে একজন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক এবং মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা, যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করা। তাকে অবশ্যই সময়মতো সব কাজ করতে হবে, সময়নিষ্ঠ এবং নিয়মনিষ্ঠ (ঢ়ঁহপঃঁধষরঃু ধহফ ফরংপরঢ়ষরহব) হতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে যে, সে যদি তার শিক্ষা-ক্যারিয়ারকে সফল করে তুলতে পারে এবং তার চরিত্রকে সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে কর্মজীবনের সকল ক্ষেত্রেই সে সফল হতে পারবে, জীবনকে উজ্জ্বল করতে পারবে এবং সমাজ ও দেশের সেবা করতে পারবে।

অর্থাৎ তুমি নিজেকে কতটা দামী করে তুলতে চাও তা নির্ভর করবে এই সুন্দর সময়টাকে তুমি কতটা কাজে লাগাতে পারলে তার উপর। আর এই সবকিছু নির্ভর করে তোমার নিজের ইচ্ছা, উদ্যোগ আর সময় ব্যবস্থাপনার উপর। ছাত্রজীবনের এই মূল্যবান সময়কে কোনভাবেই হেলা-ফেলায় নষ্ট করা উচিত নয়। তুমি যদি সারাক্ষণ হৈ-হুল্লোর আর কম্পিউটার বা মোবাইলে গেম বা ফেইসবুক নিয়ে পড়ে থেকে নিজেকে গঠন করার এই মূল্যবান সময়টাকে নষ্ট করো, তাহলে মনে রাখবে- ঃরসব ধহফ ঃরফব ধিরঃ ভড়ৎ হড়হব. ‘সময় ও ¯্রােত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।’

ছাত্রজীবন হচ্ছে জ্ঞানার্জন ও আত্মগঠনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও উপযুক্ত সময়। এ সময়ে জানার যে আগ্রহ থাকে, যে কৌতুহল থাকে, নতুন নতুন বিষয় জানার মধ্যে যে আনন্দ পাওয়া যায় অন্য সময়ে সে আগ্রহ ও আনন্দ আর থাকে না। অজানাকে জানা ও অসম্ভবকে সম্ভব করতে তরুণ প্রাণ সব সময় উদগ্রীব থাকে। আর এই কৌতুহল বা জানার এই ইচ্ছাই হলো জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে বেশি সহায়ক।

একে তো এ সময়টাতে মানুষের জানার আগ্রহ ও কৌতুহল, জ্ঞানস্পৃহা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে, তার উপর এ সময়টা তুলনামূলকভাবে অনেকটা ঝামেলামুক্ত। কারণ ছাত্ররা জীবিকার ধান্দা ও সাংসারিক ঝুট-ঝামেলা ও পিছুটান থেকে মুক্ত থাকায় এ সময় যতটা মনোযোগের সাথে পড়াশোনা করতে পারে পরবর্তী সময়ে আর ততটা পারে না। এ কারণে ছাত্রজীবনই অধ্যবসায়ের সর্বোত্তম সময়।

তাছাড়া মানুষের মন-মানসিকতাও সবচেয়ে নির্মল ও নিষ্কলুষ থাকে এ সময়েই। এ সময়টা মানুষ একটি সুন্দর পরিবেশ ও নিয়ম-শৃংখলার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এরপর সময় যতই এগিয়ে যায় মানুষের জীবনের জটিলতাও ততই বাড়তে থাকে। এ কারণে পড়াশোনা যা হওয়ার তা ছাত্রজীবনেই হয়ে থাকে। সাংসারিক ও কর্মজীবনে ঢুকে গেলে এরপর পড়া-শোনার সময়-সুযোগ যেমন থাকে না, মন-মানসিকতাও থাকে না। তাছাড়া আগ্রহ-স্পৃহাও কমে যেতে থাকে।

আসলে যে সময়ে যেটা করা প্রয়োজন সৃষ্টিকর্তা সে আয়োজনই মানুষের দেহ কাঠামোর মধ্যে করে রেখেছেন। ছাত্রজীবনই যেহেতু জ্ঞানার্জন ও অধ্যবসায়ের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, সেহেতু এ সময়ে জ্ঞান-সাধনা ও কঠোর অধ্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় মন-মানসিকতা ও শক্তি-সামর্থ মানব প্রকৃতিতে দিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে সময়ের কাজ সময়ে করাই সবার দায়িত্ব। এখন যদি তুমি পড়াশোনায় হেলাফেলা কর তাহলে এই যে ঘাটতি হচ্ছে এ ঘাটতি কিন্তু আর সহজেই পূরণ করতে পারবে না।

ব্যাপারটিকে একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝা যেতে পারে। আমরা জানি যে, দুনিয়ায় যে সৎ ভাবে চলবে পরকালে সে বেহেশতে থাকতে পারবে। এর একটা উদাহরণ আমরা দুনিয়াতেই পেতে পারি। অর্থাৎ আমরা দেখি যে, যে ব্যক্তি তার প্রথম জীবনে অর্থাৎ ছাত্রজীবনে নিজের শিক্ষা-ক্যারিয়ার গড়ার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে বাকি জীবনে বা কর্ম-জীবনে সেই সফল হয় এবং অত্যন্ত সুখ-সমৃদ্ধির মধ্যে জীবন কাটাতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে ছাত্র জীবনে যে পড়া-শোনায় অমনোযোগী থাকে এবং গাফলতি ও সময়ের অপচয় করার কারণে ক্যারিয়ার গঠনে ব্যর্থ হয়, আমরা দেখি সে কর্মজীবনে পদে পদে ব্যর্থ হয় এবং অশেষ দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানির জীবন বয়ে বেড়ায়। ছাত্রজীবনের ব্যর্থতার পরিণতি শুধু যে কর্ম-জীবনে ভয়াবহ আর্থিক ও ভাগ্য-বিপর্যয়ই নিয়ে আসে তাই নয়; বরং এর চেয়েও মারাত্মক পরিণতি হল, সে নিজেকে, মানুষকে, সমাজকে এবং জগতকে জানতেও ব্যর্থ হল এবং মানুষ হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালনেও সে ব্যর্থতার পরিচয় দিল।

শুধু জ্ঞানার্জনই নয়, ছাত্রজীবন হচ্ছে চরিত্র গঠনেরও সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। মানুষের মধ্যে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা, সংযম, বিনয়, সেবাপরায়ণতা, দেশপ্রেম, স্বাবলম্বন, অধ্যবসায়, নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃংখলা, উদারতা, ধৈর্যশীলতা, সাহসিকতা প্রভৃতি মৌলিক মানবীয় গুণাবলীর যথার্থ বিকাশ এ সময়েই হয়ে থাকে। এ কারণে এ সময়েই তাদের চরিত্র গঠনের জন্য অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয়। কারণ আমরা আগেই বলেছি, এ সময় মানুষের মন থাকে অত্যন্ত নিষ্কলুস ও কোমল। বলা হয়ে থাকে এ সময়ে মানুষের মন থাকে কাদা-মাটির মত নরম। নরম মাটি দিয়ে সব কিছু তৈরি করা যায় কিন্তু মাটি শক্ত হয়ে গেলে তা দিয়ে কিছু তৈরি করা সম্ভব হয় না। তেমনি ছাত্রজীবনে মানুষের মন অত্যন্ত কোমল ও সরল থাকার কারণে এ সময়ই স্বভাব-চরিত্র সুন্দর করা ও আচার ব্যবহার শেখার সবচেয়ে সুন্দর সময়।

মানুষের যা কিছু চরিত্র গঠন, সুন্দর আচার-আচরণ-অভ্যাস ও সৎ গুণাবলীর বিকাশ তা শৈশব-কৈশোর কাল থেকেই শুরু হয়। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত মাজা, ঘুম থেকে ওঠে খালি পেটে লেবুর রস সহ পানি পান করা, টয়লেট/বাথরুমের কাজ সারা, সুন্দর করে অজু করে নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, শরীরচর্চা করা, পড়তে বসা, নাস্তা করা, দাঁত মাজা, গোসল করে স্কুলে যাওয়া ইত্যাদি সব কাজ সময় মত করা- এসব স্কুল জীবন থেকেই চর্চা করতে হয়, শিখতে হয়। এছাড়া সুন্দর করে কথা বলা, পিতা-মাতা, বড় ভাই-বোন, স্কুলের স্যার/ম্যাডাম সহ বড়দের সম্মান-শ্রদ্ধা করা, ছোটদের ¯েœহ করা, প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভাল আচরণ করা, সম্মান করা এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখা, ঝগড়া-বিবাদ না করা-এসব বিষয়গুলোও ছোট সময় থেকেই শিখতে হয়, চর্চা করতে হয়। এরপর যত বড় হয়, স্কুল থেকে কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে তার সম্পৃক্ততা যত বাড়ে ততই মানুষের সাথে মেলা-মেশাও বাড়ে। বন্ধুদের সংখ্যাও কিন্তু বাড়তে থাকে। এই সময় তাকে আরো বেশি সচেতন হওয়ার এবং শেখার বিষয় রয়েছে। সব সময়ে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা, মার্জিত ও বিনয়ী হওয়া, কথা-বার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ সবকিছুতে শালীনতা, ভদ্রতা বজায় রাখা, স্মার্ট হওয়া, বন্ধু নির্বাচনে সজাগ-সচেতন হওয়া, উগ্র মতবাদ ও রাজনীতি পরিহার করা-এসব বিষয়গুলো কিন্তু তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মোটকথা, ছাত্রজীবনেই যা কিছু শেখার, চর্চা করার এবং আয়ত্ত করার সময়। এই সোনালী সময়েও যারা তাদের স্বভাব-চরিত্র ও আচার ব্যবহার সুন্দর করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় সারা জীবনেও তারা আর তাদের স্বভাব সুন্দর করতে পারে না। বিশেষ করে ছাত্রজীবনে যারা শৃংখলা, ধৈর্য, বিনয়, সময়ানুবর্তিতা, একনিষ্ঠতা, কর্তব্যপরায়ণতা, ধৈর্যশীলতা ও পরিশ্রমপ্রিয়তা ও সুন্দর ব্যবহারের মত মৌলিক মানবীয় গুণাবলীগুলোকে আয়ত্ব করতে না পারবে জীবনে তাদের সফলতার যে কোন সম্ভাবনা নেই তা বলাই বাহুল্য।

শিক্ষাই মানুষকে যথার্থ মানুষ করে তোলে। এ শিক্ষা বলতে আমরা শুধু চাকরি পাওয়া বা টাকা রোজগারের শিক্ষাকে বুঝাতে চাচ্ছি না। শিক্ষা বলতে আমরা আসলে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা লাভ বা আত্মআবিষ্কারকেই বুঝাতে চাচ্ছি। সক্রেটিসও বলেছিলেন জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেকে জানা। কারণ নিজেকে জানা বা আত্মআবিষ্কারের শিক্ষাই মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে এবং তাকে ইতরতার উর্ধ্বে স্থান দেয়। ছাগলছানাকে ছাগলত্ব অর্জনের জন্য কোন বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় না, প্রকৃতিগতভাবেই তারা সেই শিক্ষা পেয়ে থাকে। কিন্তু মানব সন্তানকে যথার্থ মানুষ হওয়ার জন্য একটা দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কারণ, মানুষ পশু নয়। মানুষ পশুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্ব মনুষ্যত্ব অর্জনের উপর নির্ভর করে। মানুষের পশু সত্তার উপর মানব সত্তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই শিক্ষার উদ্দেশ্য।

শুধু পড়াশোনা ও স্বভাব-চরিত্র গঠনই নয় শরীর গঠন, ভাষা শিক্ষা, সুন্দর বাচনভঙ্গি আয়ত্ত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার জানা এবং সৃজনশীলতার বিকাশও মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ছাত্রজীবনই হচ্ছে এসব বিষয়গুলো অর্জন করার যথার্থ সময়। একজন ভাল ছাত্র কখনোই অযথা সময় নষ্ট করে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে বইপোকা হবে এবং সারাক্ষণই বই নিয়ে পড়ে থাকবে। বরং নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও তাকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং ভাল স্বাস্থ্য ও ফিটনেস অর্জন করার জন্য খেলাধূলা, শরীরচর্চা, ক্রীড়ানৈপুন্য অর্জন এসব করার সময় তো ছাত্রজীবনেই, বুড়োকালে তো আর তোমার সেই সুযোগ থাকছে না।

বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। জীবনে সুন্দর করে বেঁচে থাকার জন্য এবং মানুষ হিসেবে সমাজে, রাষ্ট্রে ও বিশ্বে যথার্থ ভূমিকা পালনের জন্য আমাদেরকে জীবনে বহু পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবন চলার পথ ফুল বিছানো নয়। এখানে প্রতি পদে পদেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংগ্রাম আর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ। এ কারণে জীবনে সফলতা পেতে হলে, মানুষের মত সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রাম সাধনার কোন বিকল্প নেই। এ জন্য শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকা প্রয়োজন। আর তার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও যতœ। আর এসবের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় শুরু হয় কৈশোর কাল থেকেই।

পাশাপাশি বাঁচার লড়াইয়ে জিততে হলে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্য সহ সকল ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে হলে এবং জীবনে সকল কাজে সফল হতে হলে শিক্ষাজীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি বিদেশী ভাষা শেখা, সুন্দর বাচনভঙ্গি আয়ত্ত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার জানা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেয়া জরুরী। নিজের মেধা ও প্রতিভার বিকাশের জন্য শিল্পকলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা এবং খেলাধুলা, সাইকেল চালানো ও ড্রাইভিং শেখা ইত্যাদিও অপরিহার্য। শুধুমাত্র ক্লাশের পড়া বা পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে বন্দী হয়ে থাকলেও চলবে না। এ জন্য পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি স্বতস্ফূর্তভাবে তোমার ঝোক-প্রবণতা-পছন্দের কিছু অতিরিক্ত বই-পুস্তক পড়া ও চর্চা প্রয়োজন। বলাবাহুল্য, বুড়ো বয়সে নয় ছাত্রজীবন বা তরুণ বয়সেই এ বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে হয়।

সূত্র- ছাত্রজীবন: সাফল্যের শর্তাবলী

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ