মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনীতি। করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয়েছে কর্মসূচি । যদিও সরকার অতীতের ন্যায় আবারো বিভিন্নভাবে কর্মসূচি বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ করছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করাকে সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবেই বিরোধীরা মনে করছেন। তারপরও থেমে নেই সভা-সমাবেশ। এছাড়া কুমিল্লায় পূজামন্ডপের ঘটনাকেও সরকারের পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছে বিরোধীরা। তবে এসব ঘটনা আমলে না নিয়ে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কার অধীনে হবে সেটি নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে এই বাকযুদ্ধ। দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজনের দাবি করে আসছে। একইসাথে নিরপেক্ষ সরকার না হলে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পাশাপাশি দেশে কোনো নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আপাতত নির্বাচন কমিশনকেন্দ্রিক আলোচনা নিয়ে রাজনীতি সরব হয়ে উঠেছে। এ সরবতার মধ্যে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সক্রিয়তা লক্ষণীয়।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের মতে, দেশে সংসদ নির্বাচনের আগে এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েই সক্রিয় দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। বিরোধীদের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে তা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বিস্তর ফারাক। আবার আমাদের মতো বর্ণহীন শিক্ষক ও দেশপ্রেমিক সুশীল ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে অব্যাহতভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সরকার সে বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও তার বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সরকারপ্রধান এবং সরকারের মন্ত্রীরা বক্তব্য রেখেছেন। তাদের সবার বক্তব্যে একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তারা বলতে চান, সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। তার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে অন্য মন্ত্রীরাও এ ব্যাপারে সরব হন। আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সুর ধরে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইসি গঠনের প্রক্রিয়া সমর্থন করে বলেন, যখন সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তখন রাষ্ট্রপতি সবার অভিমত নিয়েছিলেন। সে জন্য তিনি সার্চ কমিটিকে আইন না বললেও ‘আইনের কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করেন। সেতুমন্ত্রীর সুরও একই রকম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ সব কিছু ইসির অধীনে চলে যায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ কিন্তু নাগরিক ও সুশীল সমাজ মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। কারণ, তারা একাধিকবার দেখেছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হয় না। সেখানে যোগ্য লোকের সমাবেশ ঘটে না। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ দেওয়ায় সার্চ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মনপছন্দ লোকজনই নিযুক্ত হন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকার ইসিতে নতজানু লোক বসিয়ে তাদের কাছ থেকে আনুকূল্য গ্রহণ করতে চায়। এ জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক আইন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র মতে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের এখনও দুই বছর বাকি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছেন নির্বাচনটি তাদের অধীনেই করতে। অন্যদিকে  এ নির্বাচন যাতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তা নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল জোরেসোরেই বলছে, বিএনপি বা বিরোধীদলগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম করলে তা মোকাবেলা করা হবে। সরকারের এমন হুঁশিয়ারির পরও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিটি আবারও সামনে আনছে বিরোধীরা। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এ দাবির পক্ষে বেশ জোরালো অবস্থান নিয়েছে বলে তাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে প্রতীয়মান হচ্ছে। ২০২৩ সালের নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার দাবি আদায়ে দলটি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন ও হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দ সিরিজ বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ আগামী দিনে দলের কর্মসূচি কেমন হবে, কি করতে হবে, কিভাবে আন্দোলন করা উচিত ইত্যাদি বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। এসব মতামত থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, দলটির নেতারা মনে করেন, আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। পাশাপাশি এ কথাও বলা হয়েছে, দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দলের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন তাদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ হয়ে রয়েছে। তা নাহলে, দলটির অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না। দাবি আদায়ে সব দলের সাথেও বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। 

সূত্র মতে, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর নেতারা এ প্রসঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। তাদের কথাগুলোর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের আগে ওই সময়ের বিরোধীদল আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অস্বীকার করে উপস্থাপিত বিএনপি সরকারের যুক্তিগুলোর প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ওই সময় আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাপাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন করে বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতির যে অবস্থা ছিল এখন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনীতির অবস্থা অনেকটা তেমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে না পারলেও সাংবিধানিক সংশোধনী এনে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। সরকারদলীয় নেতারা এ প্রসঙ্গে দাবি করছেন, তারাই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে একমাত্র সরকারি দল ব্যতীত আর কোনো দলের পক্ষে নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব হবে না।

এদিকে সরকারি দলের নেতারা দলীয় সরকারের অধীনে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে অংশগ্রহণ করাতে অব্যাহতভাবে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো হবে না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে রায় ঘোষণা করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আর কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে না। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। যারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করে তাদের মনগড়া সরকার দেখতে চায়, তাদের কথা শোনা হবে না। একই সুরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মিথ্যা স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ হবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠেও একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তিনি বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যতই এ নিয়ে হইচই করুন না কেন, আগামীতে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ইলেকশন হবে এবং বর্তমান সরকারই সহায়ক সরকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগামী নির্বাচনের আগে সংবিধানে হাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্য ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হীন স্বার্থে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো যুক্তি ও অতীতের রেকর্ড় অনুযায়ী ধোপে টেকে না। কারণ, নাগরিক সমাজ বারবার দেখেছেন যে, দলীয় সরকারের অধীনে বর্তমান ব্যবস্থায় অবাধ নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক নাম না দিয়ে একটি যে কোনো নামের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা কোথায়? তা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হকের যে বিতর্কিত ও খ-িত (৪:৩) রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে আরও দুবার সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকবারের অধীনে দুটি নির্বাচন করার সুযোগ ছিল। সে বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার স্বার্থে সপ্তম সংসদে সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ না ভেঙে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিরা নিজ নিজ পদে রেখে নতজানু ইসি এবং দলীয়করণকৃত প্রশাসকদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কখনোই ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনে পরাজিত করা যাবে না। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পাস করা হয়েছিল সর্বসম্মতভাবে। কিন্তু এটি বাতিল করা হয়েছে এককভাবে। কাজেই নির্বাচন কমিশন যোগ্য লোকদের দিয়ে গঠন করলেই স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান সুনিশ্চিত হবে না। এ জন্য সরকারের চরিত্র বদলানো জরুরি। 

 দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হলে বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃবহাল না করে ভিন্ন কোনো নামে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে সে সরকারের অধীনে অবাধ সংসদ নির্বাচন করা সম্ভব। এমন সরকারের নাম ‘অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার’, ‘তদারকি সরকার’, ‘নির্দলীয় সরকার’, ‘নির্বাচন দেখভালকারী সরকার’ বা অন্য কোনো কিছু হতে পারে। কাজেই স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মাতামাতি করছেন, তাদের ভুলে গেলে হবে না, ইসি যতই ভালো বা শক্তিশালী হোক না কেন, সরকার ও সংসদ না ভেঙে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আগামী নির্বাচনের আগে সংবিধানে হাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই’ বলে যে বক্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তার মধ্যে সারবত্তা আছে বলে মনে করা যায় না। কারণ, সংবিধান তো নাগরিকদের কল্যাণের জন্য। গণতন্ত্র চর্চা ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে আরেকবার সংবিধান সংশোধন করতে বাধা কোথায়? সংশ্লিষ্টজনদের ভুলে গেলে চলবে না, মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে কেবল নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই হবে না, তার আগে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সব দাবি এক সুতোয় বেঁধে কৌশলে এগোচ্ছে তারা। তবে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনই তাদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। দলটির মতে, এই দাবি আদায় হলেই বাদবাকি দাবি অটো পূরণ হয়ে যাবে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে আগে নিজেরা সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল হচ্ছে। নির্দলীয় সরকারের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে ‘এক সুরে’ আনার জোর চেষ্টা করছে। এ জন্য বিএনপি গ্রাউন্ডওয়ার্ক শুরু করেছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবার মুখে একটাই দাবি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার  ‘এক দফা এক দাবি, নির্দলীয় সরকার গড়ি’- এমন শ্লোগানে অনড় থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। 

সূত্র জানায়, নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছে বিএনপি। এক এজেন্ডাতেই ঐক্যবদ্ধ কিংবা যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা করছে দলটি। কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি ২ অক্টোবর কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। ওইদিন শুধু নির্দলীয় সরকারের দাবি নিয়েই সোচ্চার থেকেছে  বিএনপি। এখন থেকে এই দাবির বাইরে বিএনপি কোনো কর্মসূচি করবে না। এখন থেকে এসব কর্মসূচিতে সুশীল সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখা হবে। তাদের কাছ থেকে নির্দলীয় সরকারের পক্ষে জোরালো মত চাইবে। 

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান মনে করেন, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলেই বর্তমান সরকারের পতন হবে। আমাদের কথা পরিষ্কার এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন তো দূরের কথা আর কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও যাব না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিবেদককে বলেন, এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। এরা জবরদস্তিমূলক দখলদার সরকার। বিএনপি আপাতত এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নিবে না এমনকি নির্বাচন হতেও দেবে না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ