সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যাচ্ছে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: দেশের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকায় বেড়েই যাচ্ছে সরকারের ঋণের পরিমাণ। অথচ ঋণ নিয়েই অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। আর এতে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যাচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ। তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের মোট ঋণ বনাম জিডিপির অনুপাত গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশে পৌঁছায়। আর এটা আন্তর্জাতিক মানের অনেক নীচে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের টানা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ঋণের সুদ পরিশোধে অর্থ বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ঋণে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবিক অর্থে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। 

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন, এই দুই খাত মিলিয়ে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে বিভিন্ন খাতের কর আদায় ছাড়াও বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা। প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্য রয়েছে মোট বাজেটের ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ও বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্য রয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ১১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার ঋণ পরিশোধের জন্য ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যা ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৪৬ কোটি। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যাচ্ছে সুদ পরিশোধের এ পরিমাণ। করোনা পরিস্থিতিতে আয়ের উৎস সীমিত হয়ে পড়ায় বাজেটে ঘাটতি বাড়ছে। যদিও সরকারের মেগা প্রকল্পসহ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারকে স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তির দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। দলটি ক্ষমতা গ্রহণের শুরুর দিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৪৬ কোটি। এর পাঁচ বছর পরে এসে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৬ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাখা হয় ৩৫ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৫১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঋণের সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সুদের টাকা কিছুটা বাড়িয়ে করা হয় ৫৭ হাজার ৬৬৩ কোটি। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সরকার যত ঋণ নিয়েছে তার সুদ পরিশোধ করতেই বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের ৯০ শতাংশই অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকের মেয়াদি ঋণ, সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফ, চলতি ঋণ এবং জীবনবীমা ও অন্যান্য সুদের বিষয় রয়েছে। বাকিটা বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাবদ। বাজেটে অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে সঞ্চয়পত্র এবং মেয়াদী ঋণের সুদ পরিশোধে। আর সর্বশেষ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটে বরাদ্দ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে এত বেশি টাকা বরাদ্দ রাখার কারণে সরকারের অনেক অগ্রাধিকার খাত ভালো বরাদ্দ পাচ্ছে না। তাদের মতে, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও সেই অনুযায়ী আয় বাড়ছে না। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়নে ঋণনির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই বাড়ছে ঋণের সুদ ব্যয়।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ জানান, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত এই দুটো উৎসকেই ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দেখছি যে অনেক উন্নয়ন সহযোগী কিন্তু এই বাজেটের সাপোর্ট দিচ্ছে সেখানে সুদের হার খুব কম থাকে এবং সরকারের ব্যয়ের হার কিন্তু কমে। আমি আশা করি সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বহিরাগত খাতকে বেশি প্রাধান্য দিবে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখার কারণে সরকারের অনেক অগ্রাধিকার খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। 

বর্তমান সরকারের অধীনে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। যেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল দেশের যোগাযোগ, পরিবহন ও জ্বালানি খাতকে পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত করা। প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দেশের জিডিপি ৪ শতাংশ বাড়তো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে সে কাজ হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ফলে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা এসব প্রকল্প ও অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রকল্পে ব্যয় হলেও দেশের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকায় বেড়েই যাচ্ছে ঋণের পরিমাণ।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত অর্থবছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের মোট ঋণ বনাম জিডিপির অনুপাত গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশে পৌঁছায়। যেটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ করা ৭০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। এছাড়া গত ৩০ জুন পর্যন্ত মোট অপরিশোধিত দেনার পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। যার ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ বিদেশি উৎস থেকে পাওয়া। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, আমরা অতিরিক্ত ঋণ নেব না। সরকার ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে থাকা অবস্থায় সরকার বড় আকারের ঋণ নেবে না। আমরা সব সময় জিডিপির অনুপাতে ঋণ নেব। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। আমরা সময়মত ঋণ পরিশোধ করি। এজন্য উন্নয়ন অংশীদাররা আমাদের ওপর ভরসা রাখে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮৭৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।

ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক ঋণ এখনো জিডিপির তুলনায় কম। বিদেশি ঋণ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে উপকারের পুরোপুরি সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ১০০ টাকার প্রকল্পে যদি ৫০০ টাকা খরচ করি তা হলে ফলাফল ভালো আসবে না। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি কম। কাক্সিক্ষত হারে আসেনি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ। তাই আগামীতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও জানান তিনি। জাহিদ হোসেন জানান, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ এখনো আছে, কারণ ছাড়ের মাধ্যমে ঋণের জন্য অর্থায়ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অর্থাৎ, আমরা ঋণ অবকাঠামোর সংস্কার করে করে খরচ কমিয়ে আনতে পারি। এ ধরনের সংস্কার কার্যক্রমের প্রয়োজন আছে, কারণ সুদের পেছনে জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় হয়, যেটি জিডিপি প্রেক্ষাপটে শিক্ষাখাতের ব্যয়ের চেয়ে বেশি এবং কর থেকে পাওয়া মোট রাজস্বের এক পঞ্চমাংশ। অভ্যন্তরীণ দেনার ৪৮ শতাংশ এসেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে, যার সুদের হার থাকে ১০ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে। এর বিপরীতে, ব্যাংকিং সংক্রান্ত উৎসগুলোর সুদের হার ২ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে থাকে। ৪৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এসেছে। বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার এখনো ২ শতাংশের কম এবং পরিশোধের সময়সীমা ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাই সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে ঋণের মাধ্যমে পাওয়া তহবিলের আরও উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ আছে।

বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী জানান, আমাদের যে রাজস্ব আহরণ হচ্ছে তাতে আমরা কখনই যেন সুদের জন্য এই আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি ব্যয় না করি।

দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে। আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায় প্রায় ৮৫ হাজার টাকা ঋণের দায় চাপবে। কারণ বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু এই অঙ্কের ঋণ রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ ১১ লাখ ৬০ হাজার ৩৮৩ কোটি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলিয়ে এই ২ লাখ ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এছাড়া এই পরিমাণ ঋণ জিডিপির ৩৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ। এ হিসাবে প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ৮৪ হাজার ৭৭০ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৫ হাজার ১০৭ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ৯ হাজার ৬৬৩ টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরে আরও ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ঋণ নিতে চাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। ফলে ঋণের স্থিতি আরও ১৩ হাজার ৬০ টাকা বাড়বে। এই ঋণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে যে ঋণ নেওয়া হয়, তার বিপরীতে সরকারকে বছরে ১০ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। এ কারণে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ৬৮ হাজার কোটি টাকাও ওপরে বরাদ্দ রেখেছে সরকার। যা দুটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের চেয়েও বেশি। 

এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজ জানান, আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ অনেক ব্যয়বহুল। সেই ঋণের একটা মোটা অংশ যদি হয় সঞ্চয়পত্র, তাহলে তা আরও ব্যয়বহুল। সরকার ব্যয়বহুল ঋণ বেশি নিচ্ছে, এর অর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোয় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ রাখতে পারছে না। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট মেটাতে অর্থায়নের ৫২ দশমিক ৮ শতাংশই দেশীয় ঋণ। তবে বিদেশি সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ঋণনির্ভরতা কমানোর জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন সংস্কার জরুরি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর জানান, সরকার ঠিকমতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে। তুলনামূলকভাবে বিদেশি ঋণ অনেক সাশ্রয়ী। কিন্তু সরকার সহজ পথ হিসাবে বেছে নেয় বেশি সুদের অভ্যন্তরীণ উৎসকে। এতে আর্থিক খাতে চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ