বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

৩৭ বছরের জরাজীর্ণ ভবনে মোংলার সাব রেজিষ্ট্রি অফিস

মোঃ মনিরুজ্জামান, মোংলা: মোংলায় ৩৭ বছরের পুরানো জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সাব রেজিষ্ট্রি (ভূমি নিবন্ধন) অফিসের কাজকর্ম। এ ভবনটির অর্ধেক অংশ মাটির নিচে চলে গেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে চালানো হচ্ছে অফিসের কার্যক্রম। এমতাবস্থায় যে কোন মুহুর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়ে  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে।উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দেয়া তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে যে ভবনটিতে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলছে সেই ভবনটি ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে ভবনটিতে উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট বা আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯১ সালে উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট আদালত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে ভবনটি অব্যবহৃত ও পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ওই ভবনেই উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়।এই অফিসে বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ৩১ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক ও প্রায় ২শ জনের মত দলিল লেখকের সহকারী রয়েছে। প্রতিদিন শতশত লোক জমি রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত কাজে এই অফিসে যাতায়াত করেন।

সরেজমিনে রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির চারিদিকের দেয়াল খসে খসে পড়ছে। সামনের মাঠটিতে ৪ বার বালু দিয়ে ভরাট করায় ভবনটি প্রায় ৬ ফুট বালুর নিচে চলে গেছে। ভবনের চারিদিকের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল। লবণ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে দেয়ালে নোনাও ধরেছে। আর এরমধ্যেই চলছে ভূমি নিবন্ধনের সকল কার্যক্রম।মোংলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর এই ভবনটি থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা হলেও জরাজীর্ণ ভবনটির সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথা নেই। ভবনটির অর্ধেকেরও বেশি অংশ মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় বর্ষাকালে ভবনটিতে পানি প্রবেশ করে রেকর্ডরুমে রক্ষিত গুরুত্তপূর্ণ ও মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হয়ে আসছে। খুব দ্রুত এই ভবন সংস্কার করা না হলে এটিতে আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ