মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

জলমগ্ন জমিতে আউশ ধান চাষ করে সাফল্য 

আবু সাইদ বিশ্বাস,সাতক্ষীরা : জলমগ্ন জমিতে ধান চাষ করে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছে সাতক্ষীরার আউশ চাষিরা। আকাশ ভাল থাকায় চাষিদের ঘরে যেন আউশের সূর্য উঠতে শুরু করেছে। কাটতে শুরু করেছে আশ্বিনের আকাল। গত কয়েক বছরে জেলায় আউশ চাষে মাইল ফলক রেখে চলেছে এখানকার চাষিরা। খাদ্য সংকট কাটাতে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম আর সরকারের দেয়া কৃষি প্রণোদনা আউশ চাষে নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন হয়েছে। যদিও বেড়ি বাঁধ ভাঙন, জলাবদ্ধতা,কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ নানা সমসায় জর্জরিত এখানকার কৃষকরা। জেলার বেশির ভাগ এলাকায় আউশ ধান ঘরে তুলে ব্যাস্থ সময় পার করছে চাষিরা। অন্য যে কোন বছরের তুলনায় এ বছর আউশের আবাদ বেশি হয়েছে দাবি জেলা কৃষি খামার বাড়ির। 

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে ৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর, কলারোয়ায় ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর, তালায় ১ হাজার ২৭০ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩৮০ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৪০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলাতে ২৫০ হেক্টর। 

চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২ হাজার ৬৪২ মে.টন আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদরে ৯৭৮১ মে.টন, কলারোয়ায় ৬৩৭৮ মে.টন, তালায় ৩৪৪২ মে.টন, দেবহাটায় ১০০৬ মে.টন, কালিগঞ্জে ১০০০ মে.টন, আশাশুনিতে ৩৭৪ মে.টন ও শ্যামনগরে ৬৬১ মে.টন ধান উৎপাদন হয়। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন কয়েক বছরে আউশের আবাদ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কারণ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার আপলিফট করা লাগছে না। সুতরাং বোরোর তুলনায় আউশের উৎপাদন খরচ অনেক কম। তবে কৃষকরা বলছেন মজুদদারি সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নিজস্ব প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে না পারলে এই সাফল্য কৃষকের উপকারে আসবে না। আউশের সংযুক্তিতে ধানের দুই ফসলি জমিগুলো তিন ফসলিতে উন্নীত হওয়ায় বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের ফসল-বিন্যাস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ