রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ই-কমার্সে গ্রাহকদের অর্থ লোপাটের সাথে ক্ষমতাসীনরাই জড়িত

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আফসার আহমদ সিদ্দিকীর স্মরণে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ই-কর্মাসে গ্রাহকদের অর্থ লোপাটের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ই-কর্মাসে যারা লুন্ঠন করছে তারা কারা? কাদের প্রশ্রয়ে এই লুন্ঠন করছে, কারা তাদেরকে এই প্রটেকশনটা দিচ্ছে? সমস্ত এই আওয়ামী লীগের ক্ষসতাসীন পার্টি তারাই এর সঙ্গে জড়িত। ই-কমার্সের একজনের ছবি দেখলাম সরকার প্রধানের সাথে। আমি ছবি দ্েেখ্িছ। আমার নাম মনে নেই্। এই সমস্ত মানুষেরা যারা ক্ষমতার পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে তাদেরকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে তারা তো সরকারের প্রশ্রয়ে, রুলিং ক্লাসের প্রশ্রয়ে আছে।
সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, যশোর পৌর সভার চেয়ারম্যান ও যশোর-৫ আসন থেকে দুই বার সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালের ১২ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই রাজনীতিবিদ।
ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মরহুম নেতার সহধর্মিনী জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সদস্য জামিল আহমদ সিদ্দীকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
এই সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফোকলা করে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার কি অবস্থা? একেবারে ফোকলা করে দিয়েছে। কিচ্ছু নেই। একেবারে এম্পটি, একেবারে পুরোপুরিভাবে লুট করে নিয়ে গেছে। প্রত্যেকটি ব্যাংক আজ বিপদগ্রস্ত হয়ে আছে। আপনি যদি ব্যাংককারদের সাথে বলেন দেখবেন তারা কি কথা বলে। বলবে ভাই সব শেষ। আমার একজন বন্ধু আছেন অত্যন্ত বড় অর্থনীতিবিদ। তিনি  এই সিষ্টেমটা ভালো করে জানেন, উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলছেন যে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যদি কেউ হয়ে থাকে এদেশে যারা ব্যাংকে টাকা রাখে বা ব্যাংকিংয়ের সাথে জড়িত তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ প্রত্যেকটা ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছে এবং সেটা জনগণের টাকা থেকে তারা এটা করছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় কে ঋণ পায়? আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া কেউ ঋণ পায় না বা তাদের সঙ্গে যারা থাকে। ব্যাংকের পরিচালক কারা? ওই আওয়ামী লীগের লোকেরাই হচ্ছেন পরিচালক। ১০ কোটি টাকার ঋণ নিলো ৫ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর ৫ কোটি টাকা আর ফেরত দিতে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের হুকুমে হয়েছে ওর ঋণ ফেরত না দিলেও চলবে। হলমার্ক-টলমার্ক যত কিছু দেখছেন প্রত্যেকটাতে লুন্ঠন চরমভাবে চলছে। কেনো? প্রশ্রয়টা কোথায় পায়?। বর্তমান সরকার বর্গীদের মতো’ অবস্থা তৈরি করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কষ্ট হয় যখন আমরা দেখি যে, রাস্তার পা্শে ফুটপাটের মধ্যে মানুষ শুয়ে থাকে। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নাই। আর যারা এখানে বিত্তশালী, যারা এখানে একটার পর একটা ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছে এবং বিত্ত তৈরি করছে তারা বিদেশে কানাডার বেগম পাড়ায় গিয়ে বাড়ি বানায়, মালয়েশিয়াতে গিয়ে সেকেন্ড হাউজ তৈরি করে। এটা হচ্ছে এদেশে চরমভাবে হচ্ছে এখন। আমার অভিজ্ঞতা যে মানুষগুলোকে কিছুদিন আগে, ১০ বছর আগেও আমরা দেখেছি যে, অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপন করতো, সেই মানুষগুলো সরকারি দলের লোক হওয়ার কারণে ৪/৫ তলা বাড়ি, নতুন নতুন গাড়ি। প্রত্যেকটা জায়গায় এবং কি উপজেলায় লেভেলেও এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য খন্ডন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি কালকে আমার নাম ধরে বলেছেন যে, আমরা নাকী রঙ্গিন খোয়াব দেখছি। আর আপনারা কি দেখেছেন? আপনারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন। এই বিএনপি আসলো, এই বিএনপি আসলো, এই আমাদের ক্ষমতা গেলো-এই দুঃস্বপ্ন আপনারা দেখছেন।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরুতে হবে। আমরা এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে পারবো না। হবে না তাহলে। এই মিটিং-টিটিং করে হবে না। এখন সংগঠিত হন, ঐক্যবদ্ধ হন, একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করবেন না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা ধাক্কা দিতে হবে আমাদেরকে। আপনাদের মনে আছে অনেকে হীরক রাজার দেশে-সত্যজিত রায়ে। দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। ওই দড়ি ধরে টান মারতে হবে, রাজাকে খান খান করে ফেলে দিতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নাই। এরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে এরা আমাদের দেশের মানুষের ক্ষতি করতে থাকবে।
শামসুজ্জমান দুদু বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আফসার আহমেদ সিদ্দিকী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সাংবাদিকরা তার কাছ থেকেই স্বৈরাচারের বিষয়ে সংবাদ জানতে পারতেন। তিনি আন্দোলনরতদের নিযে জোট গঠনের বিষয়ে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ