রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পুলিশ বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ॥ আহত ৫০ জন

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডে দর্পণ সংঘ সংগঠনের উদ্যোগে নানুয়াদীঘির পাড়ে সড়ক চলাচল বন্ধ করে দুর্গা পুজার পূজামন্ডপ স্থাপন করে। যথারীতি নিয়ম মেনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নগরীর নানুয়াদীঘি এলাকায় দুর্গা পূজার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল ৭ টায় দুই মহিলা পূজা শেষে যাওয়ার সময় পবিত্র কুরআন শরীফ হনুমানের পায়ে রাখার বিষয়টি স্থানীয়দেরকে জানায়। পরবর্তীতে জাতীয় হেল্প লাইন পুলিশ সেবা ৯৯৯ এ কল করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য উক্ত অভিযোগকারীকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনওয়ারুল আজিম’কে কলটি ট্রান্সফার করে দেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর তথ্য মোতাবেক কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনওয়ারুল আজিম নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা দেখে পবিত্র কোরআন শরীফটি বুকে জড়িয়ে ধরে থানায় চলে যান। ঘটনাটি সাধারণ মুসলিম জনতার মাঝে জানাজানি হওয়ার পর কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থান হতে সাধারণ জনতা নানুয়া দীঘির পূজা মন্ডপের কাছে একত্রিত হয়। একত্রিত জনতার মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ মুসলিম জনতার মাঝে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলী ছোঁড়ে। এতে সাধারণ জনতার মাঝে আরো বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহত হন ৫০ জনেরও বেশি। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব ও জেলা গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন-জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ,কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদসহ এনএসআই ও ডিজিএফআই’য়ের সদস্যরা। এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল আজিমের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান-আমি নিজেই পূজা মন্ডপে গিয়ে আমাদের পবিত্র আল কোরআন শরীফটি উদ্বার করে রক্ষা করি। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয় পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল দাবি করেন, পূজা বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে মূর্তির পায়ের নীচে কুরআন শরীফ রাখা হয়েছে।জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছেন। আমরা টহল দিচ্ছি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিগত ৩০ বছর ধরে দর্পণ সংঘ এখানে পূজামন্ডপ তৈরি করে আসছে।
বিগত এক বছর ধরে এই সংগঠনে অন্তকোন্দল শুরু হয়। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু, দর্পণ সংঘের সভাপতি সুভদ্র রায় কর্মকার এবং জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি বাবু নির্মল পাল।
দর্পণ সংঘের সভাপতি সুভদ্র রায় কর্মকার ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি বাবু নির্মল পালের মধ্যে মতবিরোধ ছিল বলে একাধিক সূত্র জানায়।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু কোন্দলের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ ঘটনাটি নিন্দনীয়। বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের পূবালি চত্বর, রাজগন্জ এলাকায় পূজামন্ডপে কুরআন শরীফ অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় লোকজন। পূজামন্ডব থেকে কোরআন উদ্ধার করার পর পরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সন্ধা ৬টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো নগরী থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ