রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সরকারের লুটেরা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের হতাশা চরম পর্যায়ে

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের লুটেরা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের হতাশা চরম পর্যায়ে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার একজন রাইড শেয়ারের চালকের বাইক পুড়িয়ে ফেলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক দলীয় সভায় বিএনপি মহাসচিব এরকম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এরা (সরকার) অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, এরা আজকে পুরোপুরিভাবে একটা লুটেরা অর্থনীতি তৈরি করেছে, এরা পুরোপুরিভাবে একটা লুটেরা সমাজ তৈরি করছে। কী অবস্থা দেখেন এই করোনার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এতো খারাপ হয়েছে.. যে, গত সোমবার একজন যুবক তার মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। কেনো পুড়িয়েছে? সে বলছে যে, আমি একটা সিরামিক্সের দোকান করতাম। সেটা করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি আমার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটা মোটর সাইকেল কিনে রাইক রাইড শেয়ারিং কাজ করার চেষ্টা করছি। সেখানে আমাকে প্রতি পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে যে আমাকে আপনার অমুক সার্টিফিকেট লাগবে, অমুক সার্টিফিকেট লাগবে। তার চাইতে পুড়িয়ে ফেলি। এটা কখন হয়? যখন হতাশার চরম পর্যায় গিয়ে পৌঁছে মানুষের। আজকে সেই অবস্থায় গিয়ে আমরা পৌঁছেছি কিন্তু।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের লক্ষ্য ছিলো এখানে একটা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা এবং একই সঙ্গে এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা যেটা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মূল কথা ছিলো সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এগুলোর জন্য আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হবে, লড়াই করতে হবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই লড়াইয়ে সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্য এই হওয়া উচিত যাতে করে আমরা সেদিকে যেতে পারি।
আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। ফখরুল বলেন, আমাদের যে স্বপ্ন ছিলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেটাকে তারা ধবংস করে দিয়েছে। এখন বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই, একটা মুখোশ আছে, একটা আবরণ আছে গণতন্ত্রের। সেই আবরণের মধ্যে পুরোপুরি একদলীয় ব্যবস্থা চলছে। এখানে একটা ভয়ভীতির সংস্কৃতি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, এখন কথা বলতে যে কেউ ভয় পায়, লিখতে ভয় পায়, সাংবাদিকরা লিখতে ভয় পায়।
সরকারের দমননীতিতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখের উপরে মামলা, গ্রেপ্তার, পুলিশি নির্যাতনে তারা এলাকায় থাকতে পারছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই দেশকে কি একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যাবে? যাবে না। একটা অস্বস্তিকর অবস্থা এরা তৈরি করেছে। আজকে এদের হাতে যে দেশ নিরাপদ নয়, রাষ্ট্র নিরাপদ নয় এটা সকলকে জানাতে হবে।
গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বিষয় ভিত্তিক কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঞ্চালনায় সভায় নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচি পুনরায় শুরুর বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ফরহাদ হালিম ডোনার, বিজন কান্তি সরকার, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, আবদুল হাই শিকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল জয়নাল আবেদীন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, আমিনুল হক, জহিরউদ্দিন স্বপন, মনীষ দেওয়ান, মার্শেল এম চিরমা, অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এবিএম আবদুর সাত্তার, রিয়াজউদ্দিন নসু ও প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
নিন্দা ও প্রতিবাদ : আন্দোলন ও পতনের ভয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে পযর্দুস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলায় যুবদলের মিছিলে পুলিশের হামলা এবং নোয়াখালী জেলাধীন সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সানির বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা বলেন।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলন ও পতনের ভয়ে ভীত বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে পর্যুদস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর এবং তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালাচ্ছে। এই হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কোন স্বৈরাচার সরকারই টিকে  থাকতে পারেনি। বর্তমান ফ্যাসিবাদী এই সরকারও টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের আনন্দ মিছিলে পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় আহত হন বিএনপি নেতা মোঃ আইয়ুব খান, কসবা উপজেলা আহবায়ক মোঃ মাসুদুল হক দীপু, বিএনপি নেতা মোঃ নাজমুল হাসান, যুবদল নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ এনামুল হক খান, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ ইউসুফ আহমেদ, আকাশ আলী, মোঃ তাজুল ইসলাম, মোঃ মামুন চৌধুরী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, আকরাম ও আল-মোবিন খন্দকার, ছাত্রদল নেতা ফরিদ উদ্দিন ভুইয়া, সোহেল মোল্লা, মোঃ রিপন পাঠান, মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। এছাড়াও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্যায়ভাবে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নোয়াখালী জেলাধীন সোনাইমুড়ি উপজেলার ২ নং নদোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সানির বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর, গুলী করে ও ককটেল ফাটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশী হামলা ও তান্ডব আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চরিত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হামলা-মামলা-গ্রেফতার করে আন্দোলন থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরত রাখা যাবে না। আমি এই বর্বরোচিত পুলিশী হামলা ও গ্রেফতার এবং কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ