রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

কোভিড সংক্রমণ রোধ করতে পারে ফাইজার টেস্ট পিল

স্টাফ রিপোর্টার: ফাইজার একটি মৌখিক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নিয়ে সম্প্রতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে, যা কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর সংক্রমণ রোধ করতে পারে। যদি পরীক্ষা সফল হয় তাহলে আগামী দিনে হাসপাতালগুলির ওপর চাপ অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ফাইজার জানিয়েছে যে, তারা একই বাড়িতে বসবাসকারী ২,৬৬০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে PF-07321332 ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে। এদের মধ্যে একজনও কোভিড সংক্রমিত হলে ফাইজারের ওষুধটি বাকিদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে কিনা তা নিয়েই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
রিটোনাভির নামক আরেকটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সঙ্গে একত্রে এই ট্রায়াল চালানো হচ্ছে। এই রিটোনাভির এইচআইভি-র চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষায় এক তৃতীয়াংশ রোগী একটি প্লেসবো পাবেন, বাকিরা পাঁচ বা দশ দিনের জন্য দিনে দুবার ওষুধের ডোজ পাবেন। ফাইজারের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল থেকে জানা যাচ্ছে যে পিলটি ‘নিরাপদ এবং রোগীদের শরীর এতে সাড়া দিচ্ছে’।
কোভিড -১৯ প্রতিরোধে অসংখ্য কার্যকর ও নিরাপদ টিকা থাকলেও, যারা ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়েছে বা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে তাদের চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ওষুধ রয়েছে। যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধটি ভাইরাস নয়, বরং সংক্রমণের পর শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে কাজ করে। মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি যেমন রেগেনেরন আবার বেশ ব্যয়বহুল, খুব সহজে পাওয়াও যায় না। হাসপাতালগুলো নিজেদের প্রয়োজনমতো এটি ব্যবহার করে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ফাইজারের মত ওরাল পিল চিকিৎসার অনেক বাধা দূর করতে এবং মানুষকে হাসপাতালের থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ফাইজারের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিকায়েল ডলস্টেন বলেন ভবিষ্যতে, ভাইরাস মোকাবেলায় ভ্যাকসিনের পরিপূরক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হবে। ডলস্টেন বলেছেন যে, এই ধরনের মৌখিক থেরাপি "ভাইরাসের গতি তাড়াতাড়ি থামিয়ে দিতে পারে, সম্ভাব্য লক্ষণজনিত রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং সংক্রমণকে ছড়াতে বাধা দিতে পারে।" ফাইজার কোভিড -১৯ এর চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সংমিশ্রণ তৈরি করে পরীক্ষা করে দেখছে। সুইস ওষুধ কোম্পানি ফার্ম মার্ক এবং মিয়ামি ভিত্তিক রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিক্স যৌথভাবে অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেট মলনুপিরাভির- এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছে। বছরের শেষের দিকে এই ক্লিনিকাল ট্রায়াল-এর রিপোর্ট হাতে পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওরাল এবং নাসাল কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনগুলিও কাজ করে চলেছে। যাঁরা ইঞ্জেকশন থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই ধরণের টিকাদান পদ্ধতি উদ্বেগ দূর করতে পারে। এগুলি বহন করে নিয়ে যাওয়া এবং মজুত করে রাখাও বেশ সহজ, ফাইজার বা মডার্নার মত আদর্শ তাপমাত্রারও প্রয়োজন হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ